সব সময় মন খারাপ থাকে? সাধারণ বিষণ্ণতা আর ডিপ্রেশনের পার্থক্য কী

জীবনযাপন ডেস্ক
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১

কখনও মন খারাপ, কখনও আবার কোনও কারণ ছাড়াই কিছুই ভালো লাগে না। জীবনের নানা ঘটনা, কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণে মন খারাপ হতেই পারে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলালে অনেক ক্ষেত্রেই মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু মন খারাপ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, ঘুম ও খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস বদলে দেয়, তা হলে বিষয়টিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, সাধারণ মন খারাপের সঙ্গে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

মন খারাপ আর ডিপ্রেশন কি এক?

মন খারাপ মানুষের স্বাভাবিক আবেগেরই একটি অংশ। প্রিয়জনের সঙ্গে মনোমালিন্য, পরীক্ষায় খারাপ ফল, কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থতা কিংবা কোনও অপূর্ণ ইচ্ছা থেকে সাময়িক বিষণ্ণতা তৈরি হতে পারে। অনেক সময় পছন্দের কাজ করা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা সমস্যার সমাধান হলে মন ভালো হয়ে যায়।

অন্য দিকে, ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। এতে দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপের পাশাপাশি আগ্রহ ও আনন্দ অনুভব করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। আগে যে কাজগুলি করতে ভালো লাগতো, সেগুলোতেও আর আগ্রহ থাকে না। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা, অপরাধবোধ, ক্লান্তি এবং মনোযোগের অভাবও দেখা দেয়। সব সময় যে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা থেকেই ডিপ্রেশন শুরু হবে, এমন নয়।

সাধারণ মন খারাপের সঙ্গে ডিপ্রেশনের পার্থক্য কোথায়?

মন খারাপ জীবনের স্বাভাবিক অনুভূতি, যা সময়ের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই কেটে যায়। কিন্তু সেই মন খারাপ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, কোনও কিছুতেই আনন্দ না পান এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তা হলে তা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। সাধারণ মন খারাপ আর ডিপ্রেশনের মধ্যে পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে-

১. কত দিন ধরে মন খারাপ থাকছে: সাধারণ মন খারাপ সাধারণত কোনও পরিস্থিতি বা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে এবং সময়ের সঙ্গে তার তীব্রতা কমতে পারে। কিন্তু ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা বা আগ্রহ হারানোর মতো উপসর্গ দিনের বেশির ভাগ সময়, প্রায় প্রতিদিনই থাকতে পারে। অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে এমন উপসর্গ চলতে থাকলে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে রোগ নির্ণয় করা যায় না।

২. পছন্দের কাজেও কি আর আনন্দ পান না: মন খারাপ থাকলেও অনেক সময় প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বললে, গান শুনলে, বেড়াতে গেলে কিংবা পছন্দের কাজ করলে ভালো লাগতে পারে। ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে আগে আনন্দ দিত এমন কাজেও আগ্রহ কমে যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, শখের কাজ করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছাও হারিয়ে যেতে পারে।

৩. ঘুম ও খাওয়াদাওয়ায় পরিবর্তন হচ্ছে কি: মানসিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তবে ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে ঘুম কমে যাওয়া বা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুমানো, ক্ষুধা কমে যাওয়া কিংবা বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে।

৪. সব সময় ক্লান্ত লাগে, কাজে মন বসে না: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও ক্লান্তি না কমা, সাধারণ কাজ করতে অনীহা, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা কিংবা কোনও কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা ডিপ্রেশনের উপসর্গ হতে পারে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, সংসার সামলানো কিংবা সামাজিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

৫. নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া: সাময়িক মন খারাপের সময়ে কেউ নিজের কোনও ব্যর্থতা নিয়ে হতাশ হতে পারেন। কিন্তু ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে নিজেকে অযোগ্য বা মূল্যহীন মনে হওয়া, অতিরিক্ত অপরাধবোধ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা তৈরি হতে পারে। কখনও কখনও মৃত্যুর চিন্তা বা নিজেকে আঘাত করার ভাবনাও আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পেশাদার সাহায্য নেওয়া জরুরি।

ডিপ্রেশন কি শুধু মন খারাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

ডিপ্রেশন শুধু মানসিক অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। কারও মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, শক্তির অভাব কিংবা অস্বাভাবিক অবসাদ দেখা দেয়। আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেন, কারও সঙ্গে কথা বলতে চান না বা নিজের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনেও অসুবিধা অনুভব করেন।

তবে এই উপসর্গগুলি অন্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই নিজে নিজে ডিপ্রেশন হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন?

মন খারাপ দীর্ঘদিন ধরে চললে, আগের পছন্দের কাজগুলিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে, ঘুম ও খাওয়াদাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হলে মনোবিদ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলা উচিত। দুই সপ্তাহ ধরে উপসর্গ চললে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করানো প্রয়োজন। তবে সমস্যা গুরুতর হলে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করার দরকার নেই।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় প্রয়োজন অনুযায়ী মনোচিকিৎসা, ওষুধ কিংবা দুটির সমন্বয় ব্যবহার করা হতে পারে। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা নির্ভর করে ব্যক্তির উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, শরীরচর্চা এবং কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারে। তবে এগুলি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।

মনে রাখা দরকার, নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে একা থাকবেন না। বিশ্বস্ত কাউকে জানান এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সাহায্য নিন।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
‘নীরব মহামারি’ মানসিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র কেউ জানে না
বাড়ছে শিশুদের মানসিক ট্রমা, করণীয় কী?
চারপাশে অনেক মানুষ, তবু নিজেকে কেন একা লাগে
সর্বশেষ খবর
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস, রাজধানীতে বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ 
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস, রাজধানীতে বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ 
স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর মসজিদের পুকুরে গোসল করে অটোরিকশাচালক
স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর মসজিদের পুকুরে গোসল করে অটোরিকশাচালক
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
ভারতের যুবসমাজকে কেউ থামাতে পারবে না: চিরাগ পাসওয়ান
ভারতের যুবসমাজকে কেউ থামাতে পারবে না: চিরাগ পাসওয়ান
সর্বাধিক পঠিত
এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার
এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক  
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক