২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। এর প্রায় দুই মাস পর বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম তিনজন করোনাতে শনাক্ত বলে জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম করোনাতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনাতে রোগী শনাক্তের পর থেকে একই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত হন পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জন আর মারা যান সাত হাজার ৫৫৯ জন। সে বছরে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হন চার লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৯ জন। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সাত হাজার ৫৫৯ জন।
পরের বছর ২০২১ সালে করোনার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখে দেশ। বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালানো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে দেশে গত বছর ৫ এবং ১০ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২৬৪ জনের। সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় ২৮ জুলাই। সেদিন ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয় বলে জানায় অধিদফতর। আর একই বছরের জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় দেশে।
অধিদফতরের তথ্য মতে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শনাক্ত হয় ২১ হাজার ৬২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ হাজার ২৭ জন, মার্চে ৬৫ হাজার ৭৯ জন, এপ্রিলে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ জন, মে মাসে ৪১ হাজার ৪০৮ জন, জুনে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন আর জুলাইতে শনাক্ত হয় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন। আগস্ট মাসে কিছুটা কমে হয় দুই লাখ ৫১ হাজার ১৩৪ জন, সেপ্টেম্বরে ৫৫ হাজার ২৯৩ জন, অক্টোবরে ১৩ হাজার ৬২৮ জন, নভেম্বরে ছয় হাজার ৭৪৫ জন আর ডিসেম্বরে রোগী সংখ্যা কিছুটা বেড়ে হয় ৯ হাজার ২৫৫ জন।
২০২১ সালে করোনায় মারা গেছেন ২০ হাজার ৫১৩ জন। তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৫৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮১ জন, মার্চে ৬৩৮ জন, এপ্রিলে সেটা বেড়ে হয় দুই হাজার ৪০৪ জন, মে মাসে এক হাজার ১৬৯ জন, জুনে এক হাজার ৮৮৪ জন, জুলাইতে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে হয় ছয় হাজার ১৮২ জন, আগস্টে পাঁচ হাজার ৫১০ জন, সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৩১৫ জন, অক্টোবরে ৩৫৮ জন, নভেম্বরে ১১৩ জন আর ডিসেম্বরে ৯১ জনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, রবিবার (২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৫৫৭ জন আর পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার দুই দশমিক ৯১ শতাংশ। নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫৭ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে সরকারি হিসেবে মোট শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৯ জন। আর দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ হাজার ৭২ জন মারা গেছেন।






