X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

যে গ্রামে বাঁশের সাঁকো আর নৌকাই ভরসা!

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২১, ১৭:২৭

গ্রামের নাম টোংরাইল। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নে গ্রামটির অবস্থান। উপজেলার প্রায় দক্ষিণ প্রান্তের সীমান্তবর্তী এলাকার এ গ্রামের পাশেই বিষ্ণুপুর গ্রাম। একটি বাড়ি নিয়ে বিষ্ণুপুর গ্রাম গঠিত। 

টোংরাইল গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুদীর্ঘ একটি খাল। টোংরাইল সুতালিয়া নামের খালটি এখনও পাউবোর আওতাধীন। দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া এই খাল গ্রামটিকে করেছে অন্য গ্রাম থেকে আলাদা। খালের উপর দিয়ে যাতায়াতের জন্য রয়েছে অসংখ্য বাঁশের সাঁকো। আগে নৌকাই ছিল এই গ্রামের লোকজনের চলাচলের একমাত্র বাহন। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ি গ্রামে কুমার নদ থেকে সুতালিয়া খালের উৎপত্তি। এরপর মুড়া গ্রামের ভেতর দিয়ে এসে টোংরাইল গ্রাম হয়ে কালিনগর গ্রামে পৌঁছে ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মধুমতি নদীর সঙ্গে মিশেছে এ খাল। সারাবছরই কমবেশি পানি থাকে আর ভরা বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর হয়ে ওঠে খালটি। 

গ্রামটিতে প্রথমবার গেলে মনে হবে, এটি যেন সাঁকোর গ্রাম। খালের ওপারে থাকা পরিবারগুলো প্রয়োজনে নিজের খরচেই তৈরি করেছেন এসব সাঁকো। সবমিলিয়ে খালের উপরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টির মতো সাঁকো রয়েছে। 

 খাল পাড় ঘেঁষে একসময়ের পায়ে পায়ে গড়ে ওঠা মেঠো পথের এখন অর্ধেক অংশ পিচ ঢালা পাকা সড়ক। বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২/১৪ কিলোমিটার দূরত্বের প্রত্যন্ত এই টোংরাইল গ্রামের জনসংখ্যা সবমিলিয়ে চার হাজারের মতো। ভোটার সংখ্যা ছয় শতাধিক। মাত্র তিনশ’ পরিবারের বসতি এখানে। গ্রামটির বেশিরভাগ অধিবাসীই কৃষক। এক-দুটি পরিবার ছাড়া বাকি সব পরিবারের সদস্যরা সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী। 

তবে এই খালের উপর কোনও সেতু না থাকায় গ্রামবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রামবাসীর ভোগান্তি লাঘব হয়নি।

গ্রামের মহানন্দ বিশ্বাস, নিখিল বিশ্বাস, উত্তম রায়, কপিল বিশ্বাসসহ অনেকেই জানান, খালের ওপারে চলাচলের রাস্তা রয়েছে। তবে সেতু না থাকায় যানবাহন পারাপারের কোনও সুযোগ নেই। ক্ষেতের ফসল নিয়ে এই সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। সাঁকো থেকে পড়ে আহত হওয়ারও অনেক ঘটনা রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সুনীল বিশ্বাস (৫৬) বলেন, জন্মের পর থেকেই খালটি দেখে আসছি। তখনও বাঁশের সাঁকো ছিল। এখনও বাঁশের সাঁকো। টোংরাইল ব্রিজের পর কালিনগর পর্যন্ত সড়কের কিছুদূর পর রাস্তা খুবই খারাপ।

টোংরাইল গ্রামের আরেক বাসিন্দা রমেন বিশ্বাস (২৩) বলেন, টোংরাইল খালের উপরে প্রায় ৩০-৪০টির মতো বাঁশের সাঁকো রয়েছে। বলা যায় প্রতিটি বাড়িতে যেতে একটি করে সাঁকো ব্যবহার হয়। এ গ্রামে ছয় মাস পানি আর ছয় মাস শুকনো মৌসুম। বর্ষাকালে বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের সাঁকো বা নৌকাই ভরসা।

তিনি আরও জানান, গ্রামে কৃষিজীবী মানুষ বেশি হলেও প্রত্যেক ঘরেই স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তবে গ্রামে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোনও বিদ্যালয় নেই। প্রাইমারি পাস করে অনেকে পাশের গ্রাম বনমালিপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রবিন বিশ্বাস বলেন, একটি সেতুর অভাবে কয়েকগ্রামের মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। গ্রামের অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে অনেক কষ্ট হয়। এলাকায় কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক নেই। পাশের সুতালিয়া গ্রামে একটি স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। তবে সেখানে কোনও ডাক্তার থাকেন না বলে এখন আর কেউ সেখানে যান না। 

 তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে গ্রামটিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান। এছাড়া তিনি প্রাইমারি স্কুলের ভবন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্য, গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। গ্রামের মাঝখানে একটি ব্রিজের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগের এমপি ব্রিজটির যাবতীয় প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। এখন শুধু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রিজটি টেন্ডার ও কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যিনি এমপি আছেন তিনি এলাকায় আসেন না। আমাদের সমস্যার কথা যে তার কাছে তুলে ধরবো সে সুযোগও নেই।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন ও ফাইলপত্র দেখে ওই গ্রামে ব্রিজ নির্মাণ বিষয়ে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব সরকার। মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

 

/টিটি/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সাপের বিষ থেকে বাঁচতে ট্যাবলেট, কলকাতায় মিলছে সাফল্য
সাপের বিষ থেকে বাঁচতে ট্যাবলেট, কলকাতায় মিলছে সাফল্য
ষষ্ঠ ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
ষষ্ঠ ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
পশ্চিমা নীতির কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: পুতিন
পশ্চিমা নীতির কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: পুতিন
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত