X
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২
২০ আশ্বিন ১৪২৯
স্বাধীনতার ৫০

পূরণ হয়নি রহিমা বেওয়ার একটি বাড়ির স্বপ্ন

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
২২ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৭আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৭

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পাক বাহিনী ক্যাপ্টেন আরিফের নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জ শহর ও পার্শ্ববতী এলাকায় প্রথম প্রবেশ করে দখল করে নেয়। দখলদার বাহিনী এদেশীয় রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গণধর্ষণ, গণহত্যা, নির্যাতন চালিয়ে একের পর এক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। এ খবরে আতংকিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে ছুটতে থাকে দিক-বিদিক। এই সময় পথিমধ্যে পাক বাহিনীর বিভৎস পাশবিক নির্যাতনের কবলে পড়েছেন অনেক নারী। সমাজ-সংসার আর গ্রহণ না করায় ভেঙেছে তাদের সুখের সংসারও।

দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য যেসব নারীর ত্যাগ অন্যতম তাদের মধ্যে রহিমা বেওয়াও অন্যতম একজন। ৭১’সালের পাকিস্তানি সেনার হাতে নির্যাতনের ভয়াল দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান বার বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা রহিমা সেই ভয়াল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলেন।

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চককোবদাসপাড়া এলাকার মৃত রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেওয়া। সবেমাত্র চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে নতুন বিয়ে করা নারী, বয়স তার ১৭ কি ১৮ হবে। তখন রহিমার গর্ভে বাড়ছিল ৫ মাসের সন্তান। হানাদার বাহিনীর সিরাজগঞ্জ দখলের খবর শুনে আর সবার মতো নিরাপদ স্থানে ছুটতে থাকেন রহিমাও। ৭১ সালের ২৮ এপ্রিল একই গ্রামের কয়েকজন রাজাকার হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে নিয়ে রহিমাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পে। এক সপ্তাহ আটক করে পালাক্রমে চলে গণধর্ষণ। ফিরে আসার পরে স্বামী রিয়াজ উদ্দিনও গ্রহন করেনি তাকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরঙ্গনা রহিমা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পাশবিক নির্যাতনকালে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার পরও তাকে রেহাই দেয়নি নরপিশাচরা। এক সপ্তাহ এই ক্যাম্পে রহিমার পর চলে বর্বোরোচিত পৈশাচিক নির্যাতন। দৈনিক নির্যাতনের শিকার রহিমার গর্ভের ৫ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। ফিরে আসার পর সমাজ, পরিবার কেউই গ্রহণ করতে চায়নি দেশের জন্য নির্যাতিত এই বীরাঙ্গনাকে।

তিনি রহিমা বলেন, এখনও সেই নির্যাতনের ভয়াল স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে আজও  আঁতকে ওঠেন তিনি, বারবার কেঁদে ওঠে মন ও নয়ন।

আরও বলেন, আমার ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বাধীনতা ৫০বছর পার হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জ কলেজ মাঠে এসে আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেছিলেন “মা তোমার চাওয়া অনুযায়ী আমি তোমায় একটি বাড়ি করে দিবো।’ এর পরেই দেশের শত্রুরা আমার প্রিয় ছেলে মুজিবকে মেরে ফেলায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও এখনও পাইনি সেই বাড়িটি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে পেয়েছি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ। এখন বয়স বেড়েছে তাই শরীরে বেড়েছে নানান রোগ। ভাতার টাকার সিংহভাগ তাই এখন নিজের চিকিৎসা করতেই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে মেয়ের বাড়িতে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি কিন্তু সনদে মেয়েকে চাকরি নিয়ে দিলেও ভাতার টাকা মেয়েকে না দেওয়ায় মেয়েটা দেখতে পারে না। ভাতার টাকা নিজের চিকিৎসা করিয়ে যে অল্প টাকা বেঁচে যায় সেটা ছেলের হাতে তুলে দেই সংসারে একটু সহযোগিতা করতে। ছেলেই এখন আমাকে দেখাশোনা করে, ছেলের বউও আমাকে ভালবাসে নিজের মায়ের মতোই।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে আরো বলেন, আমার এখন মৃত্যুর আগে আপনাদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জে এসে আ্মাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই অনুযায়ী আমাকে একটি বাড়ি করে দেন। অন্তত যেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও নিজের একটি বাড়িতে একদিন থেকেও মরতে পারি।

/এফএএন/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রোহিঙ্গাদের নিয়ে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি: আরও ২ লাশ উদ্ধার
রোহিঙ্গাদের নিয়ে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি: আরও ২ লাশ উদ্ধার
কবীর সুমনের ঢাকা লাইভ চূড়ান্ত
কবীর সুমনের ঢাকা লাইভ চূড়ান্ত
রুশ সেনাবাহিনীর কর্নেল জেনারেল হলেন রমজান কাদিরভ
রুশ সেনাবাহিনীর কর্নেল জেনারেল হলেন রমজান কাদিরভ
জয় যেভাবেই আসুক, খুশি বাংলাদেশ কোচ
জয় যেভাবেই আসুক, খুশি বাংলাদেশ কোচ
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার: পিএসসির অবহেলিত এক সন্তানের গল্প
৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার: পিএসসির অবহেলিত এক সন্তানের গল্প
থাইল্যান্ডে এক মাস, গুঞ্জনের জবাব কক্সবাজার থেকে 
থাইল্যান্ডে এক মাস, গুঞ্জনের জবাব কক্সবাজার থেকে 
সরবরাহ ব্যাপক, তবু কেন নাগালের বাইরে ইলিশের দাম?
সরবরাহ ব্যাপক, তবু কেন নাগালের বাইরে ইলিশের দাম?
প্রেমের শহরে রূপের ঝলক
প্রেমের শহরে রূপের ঝলক
সাকিব যোগ দেননি তাই ফটোসেশনে সোহান
সাকিব যোগ দেননি তাই ফটোসেশনে সোহান