বইপ্রেমীদের স্বর্গ বাংলাবাজারের ঐতিহ্য

নাকিবুল আহসান নিশাদ
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৩আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৩

বাংলাবাজার বাংলাবাজার ঢাকার অন্যতম প্রাচীন স্থান। মোগল সাম্রাজ্যের আগে থেকে এটি বিদ্যমান ছিল বলে মনে করা হয়। অনেকের মতে, বাংলাবাজারই ‘বাঙ্গালা’ শহরের কেন্দ্রস্থল। রোমান একজন নাগরিক ১৫০৬ খ্রিষ্টাব্দে মন্তব্য করেন, বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট সিল্ক ও সুতা তৈরি হতো বাঙ্গলা নগরে। এর মাধ্যমে বাঙ্গলার কেন্দ্রস্থল বাংলাবাজারের প্রাচীনতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

দেশের বৃহত্তম বইয়ের বাজার হিসেবে বাংলাবাজারকে বিবেচনা করা হয়। এখানে অনেক ছাপাখানা ও দেশের নামি সব প্রকাশনীর মূল কার্যালয় রয়েছে। বইপ্রেমীদের আনাগোনা আর বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক কাজের জন্য জায়গাটি সকাল থেকে রাত অবধি ব্যস্ত থাকে। বাংলাবাজারের ভেতর প্রবেশ করলেই শোনা যাবে ছাপাখানা থেকে ভেসে আসা বই ছাপানো যন্ত্রের আওয়াজ।

বাংলাবাজার ব্রিটিশ আমলে বাংলাবাজার অঞ্চল সমৃদ্ধশালী এলাকা হয়ে ওঠে। কারণ বহু ইংরেজ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী এর আশপাশেই বসবাস করতেন। ব্রিটিশ আমলে বাংলাবাজার এলাকায় টাকা-পয়সা ভাঙানো বা বদলানোর ব্যবসা শুরু হয়।

বাংলাবাজার বাংলাবাজারের ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি ‘বাংলাবাজার সড়ক’ নামে পরিচিত। সদরঘাট টার্মিনালে যাওয়ার ও পুরান ঢাকার অন্যতম স্থান ইসলামপুর যাওয়ার রাস্তাটি বাংলাবাজার সংলগ্ন। এটি ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অন্যতম।

বাংলাবাজারের বই বর্তমানে বাংলাবাজার দেশের বৃহত্তম বইয়ের মার্কেট। বই বিক্রি, বই ছাপানো ও সরবরাহ করার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র এটি। এখানে ১২০০ থেকে ১৩০০ বইয়ের দোকান রয়েছে। যেকোনও ধরনের বইয়ের খোঁজে এখানে এসে কাউকেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয় না। ছোটদের বই থেকে শুরু করে দেশবরেন্য বিভিন্ন লেখকের গল্পের বই, হাদীস-কোরআন সব পাওয়া যায় এখানে। বইপ্রেমীদের জন্য বাংলাবাজার অন্যতম একটি জায়গা এটি।

বাংলাবাজারের একটি অনত্যম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে খুব কম দামে পুরনো বই কেনা যায়। বাংলাবাজারের শুরুতে কিছু দোকান পাওয়া যায় যেখানে পুরাতন বইগুলো প্রায় অর্ধেক দামে কেনা যায়। এসব দোকানের মধ্যে যেমন মিলবে পাঠ্যবই, তেমন পাওয়া যায় বিভিন্ন লেখকের গল্পের বই।

বাংলাবাজারে রেস্তোরাঁ বাংলাবাজারে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি হয়। এর আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের খাবার হোটেল চোখে পড়ে। সারাদিন বই খোঁজার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে হোটেলে বসে খাওয়া সেরে নেওয়া যায়।

বাংলাবাজারের পাশেই সদরঘাটের বৃহত্তর পাইকারি কাপড়ের বাজার রয়েছে। তাই দিনের বেশিরভাগ সময় জায়গাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকে।

বাংলাবাজার যেভাবে যাবেন
ঢাকার বাইরে থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ যেকোনও বাহনে আসা যাবে। বাসে এলে মহাখালী থেকে আজমেরী পরিবহন ও স্কাইলাইন বাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসে হেঁটে যাওয়া যায়। গাবতলী থেকে ৭ নম্বর ও সাভার পরিবহন বাস আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তারপর হাঁটতে হবে। সায়েদাবাদ থেকে বেছে নিতে পারেন রিকশা বা উবার। ট্রেনে এলে কমলাপুর থেকে উবার বা রিকশা করে যাওয়া যায়। লঞ্চে এলে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে দুই মিনিটের হাঁটা দূরত্ব।

/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এক টুকরো চকোলেট আর একগুচ্ছ আনন্দের দিন আজ
এক টুকরো চকোলেট আর একগুচ্ছ আনন্দের দিন আজ
আদালতে গিয়ে আইভী বললেন ‘এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন’
আদালতে গিয়ে আইভী বললেন ‘এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন’
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা জানা গেলো 
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা জানা গেলো 
ভারত সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে চীন, স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো জে-২০ যুদ্ধবিমান
ভারত সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে চীন, স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো জে-২০ যুদ্ধবিমান
সর্বাধিক পঠিত
রাজধানীতে বাস-সিএনজির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলো কেন
রাজধানীতে বাস-সিএনজির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলো কেন
এক মিনিটেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা
এক মিনিটেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়লো
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়লো
বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি
বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি
আমিরাতের ভিসা বাতিল নিয়ে যা বলছে দূতাবাস 
আমিরাতের ভিসা বাতিল নিয়ে যা বলছে দূতাবাস