ভুতিয়ার বিলে পদ্মফুলের মেলা

হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
১৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৮ আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৫৬

খুলনার ভুতিয়ার বিলে পদ্মফুল দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন রঙের মেলা বসেছে। শরতের আকাশে মেঘের ভেলা, নিচে দিগন্তজোড়া পদ্মফুলের মেলা। খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিলে এমন মনোরম পরিবেশ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত অনেক ভ্রমণপ্রেমী এখানে বেড়াতে আসে। পদ্মফুলের সৌন্দর্য তাদের স্বাগত জানায়।
ভুতিয়ার বিলে প্রতিবছরের বর্ষার মতো এবারও পদ্মফুল ফুটেছে। এর মাধ্যমে মৌসুমি কর্মসংস্থান চাঙা হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে বেড়েছে তেরখাদার সুনাম। ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতিতে নৌকার কদর বেড়েছে। বিলে পদ্মফুলের পুরো অংশ নৌকায় ঘুরিয়ে দেখাতে ২০০-৫০০ টাকা গুনতে হবে। একটি ছোট নৌকায় দুই-তিনজন ওঠা যায়। 

তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভুতিয়ার বিলের আয়তন প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর। এর মধ্যে মাত্র ৪০-৫০ হেক্টর জমিতে পদ্মফুল ফোটে। বাকিটুকু শ্যাওলা ও আগাছায় ভরা।

খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে তেরখাদা বাজার। বাস বা টেম্পুতে যেতে ঘণ্টাদেড়েক লাগে। জেলখানা ঘাট পেরিয়ে সেনের বাজার থেকে তেরখাদাগামী বাসে উঠলে হাড়িখালী নামতে হবে। সেখান থেকে ইজিবাইকে চরকুশলা গ্রামের পদ্মবিলে যাওয়া যায়।

বিলে ঘুরতে আসা ইয়াসিন আরাফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিঙি নৌকায় ভেসে জলের ছন্দতালে পদ্মফুল স্পর্শ করার অনুভূতি অন্যরকম।’

পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে আনন্দিত সুমাইয়া রহমান আঁখি। তার কথায়, ‘পদ্মফুলের জন্য ভুতিয়ার বিল অসাধারণ লাগে। পদ্মপাতার ওপর জল টলমল করে। পাখি উড়ে বেড়ায়। কচুরিপানার মধ্য দিয়ে ছোট ডিঙি নৌকায় ভেসে ভেসে এসব দৃশ্য দেখে মনে অন্যরকম দোলা লাগে।’
খুলনার ভুতিয়ার বিলে পদ্মফুল স্থানীয়দের কাছে জানা যায়, একসময় বিয়েতে বা মেজবানে ডেকোরেটরের ভাড়া করা থালা-বাসন মিলতো না। তখন অতিথি আপ্যায়ন করা হতো পদ্মপাতায়। শুধু পদ্ম আর পাতাই নয়, দেশি মাছের ভান্ডার ছিল পদ্মবিল। কৈ, শিং, মাগুরের মজুদ থাকতো এখানে। শীতে পানি কমতেই মাছ ধরতে জলে নেমে পড়তো সবাই। চারদিকে থাকতো উৎসবের আমেজ।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নির্বাচনি এলাকা তেরখাদা। তার দাবি, এখানে কোনও শিল্প কল-কারখানা নেই। স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি, মৎস্য ও ব্যবসা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভুতিয়ার বিল নিয়ে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। 

/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
থাইল্যান্ডের বিমানবন্দরে দুই দিন ধরে আটকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা 
থাইল্যান্ডের বিমানবন্দরে দুই দিন ধরে আটকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা 
‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ হলেও অটল থাকবে ইরান: আরাঘচি
‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ হলেও অটল থাকবে ইরান: আরাঘচি
সাতসকালে ইজিবাইকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৩
সাতসকালে ইজিবাইকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৩
৯ বছর পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে আমির, মুক্তি পাবে কোন ছবি
৯ বছর পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে আমির, মুক্তি পাবে কোন ছবি
সর্বাধিক পঠিত
নতুন ভবনে নিজের নাম দেখেই উদ্বোধন করেননি হাসনাত, বললেন দেশের নাম দিতে
নতুন ভবনে নিজের নাম দেখেই উদ্বোধন করেননি হাসনাত, বললেন দেশের নাম দিতে
৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার
৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার
বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন হামজা, কিন্তু...
বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন হামজা, কিন্তু...
দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত
দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত
সরকারকে সতর্ক করে আসিফ নজরুল বললেন, ‘এগুলো স্পষ্ট ওয়েক-আপ কল’
সরকারকে সতর্ক করে আসিফ নজরুল বললেন, ‘এগুলো স্পষ্ট ওয়েক-আপ কল’