জাপানের ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের নোতো উপদ্বীপ একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত, তেমনই তার রয়েছে সমৃদ্ধ কারুশিল্প, খাবার ও সাকে তৈরির ঐতিহ্য। ২০২৪ সালের নববর্ষে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অঞ্চলটির বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে নোতো। পর্যটকদের ফিরে আসা স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কানাজাওয়ায় ঐতিহ্যের হাতছানি
ইশিকাওয়ার দক্ষিণে অবস্থিত কানাজাওয়া শহর। টোকিও থেকে বুলেট ট্রেনে সহজেই পৌঁছানো যায় এখানে। শহরের অন্যতম আকর্ষণ কেনরোকুয়েন, জাপানের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী উদ্যানগুলোর একটি।
তবে কানাজাওয়ার আকর্ষণ শুধু বাগানেই সীমাবদ্ধ নয়। ঐতিহ্যবাহী জাপানি কারুশিল্পের নানা কাজ কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে। পর্যটকেরা সোনার পাত তৈরির কর্মশালায় গিয়ে কারিগরদের কাজ দেখতে পারেন। চাইলে নিজের হাতেও ঐতিহ্যবাহী কাগা ইউজেন পদ্ধতিতে রেশমে রং করার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
নোতোয় অন্য রকম ভ্রমণ
যারা শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে চান না, স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য নোতো হতে পারে আকর্ষণীয় স্থান।
এখানকার কিছু কৃষক পরিবারের পরিচালিত অতিথিশালায় থাকার সুযোগ রয়েছে। মৌসুমি কৃষিকাজেও পর্যটকেরা অংশ নিতে পারেন। ধান রোপণের মতো স্থানীয় কাজে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও আলাদা করে তুলতে পারে।
এসব ব্যবস্থায় পর্যটকদের খরচ সরাসরি স্থানীয় পরিবার ও সম্প্রদায়ের কাজে আসে। পাশাপাশি নোতোর ঐতিহ্যবাহী ধাপচাষের ধানখেত শিরোইয়োনে সেনমাইদা সংরক্ষণেও পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খাবার ও সাকের টানে
খাবারের দিক থেকেও নোতো জাপানের পরিচিত একটি অঞ্চল। তাজা সামুদ্রিক খাবারের পাশাপাশি এখানকার শতাব্দীপ্রাচীন ওয়াজিমা-নুরি ল্যাকারওয়্যারও বিশেষভাবে পরিচিত।
সাকে তৈরির ঐতিহ্যের জন্যও নোতোর আলাদা খ্যাতি রয়েছে। স্থানীয় দক্ষ সাকে প্রস্তুতকারীদের ‘নোতো তোজি’ ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অনেক সাকে কারখানা ফের উৎপাদনে ফিরেছে। স্থানীয় সাকে শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে ‘ডোন্ট স্টপ দ্য নোতো সাকে’-এর মতো উদ্যোগ।
ভ্রমণেই স্থানীয়দের পাশে
নোতোয় ভ্রমণ করলে স্থানীয় পরিবারের অতিথিশালায় থাকা, আবার চালু হওয়া রেস্তোরাঁয় খাওয়া কিংবা স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পণ্য কেনার মতো ছোট ছোট কাজও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।
তাই ইশিকাওয়া ভ্রমণ শুধু জাপানের একটি সুন্দর অঞ্চল ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা নয়। ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে নতুন করে উঠে দাঁড়াতে থাকা একটি অঞ্চলের মানুষ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পাশে থাকার সুযোগও হতে পারে।
প্রকৃতি, স্থানীয় খাবার, কারুশিল্প এবং গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ইশিকাওয়ার নোতো উপদ্বীপ এখন এমন এক গন্তব্য, যেখানে ভ্রমণের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে স্থানীয় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও।









