এখনকার প্রজন্মের মধ্যে পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা লক্ষনীয়। বিড়াল লালন পালন, তার চিকিৎসা, তার ভালো থাকা, তার খাওয়ার জন্য আলাদা করে মাছ কিনতে পাওয়া যায় সুপারশপে। কাঁচাবাজারে দোকানে দোকানে জমানো হয় হাড় হাড্ডি, তারও বাজার মূল্য আছে।
অথচ ভাবুনতো, এই কিছুদিন আগে। বিকালে তরল দুধ গরম করতে দিয়েছেন চুলায়। কিছু সময় পরে ঠান্ডা করতে দিয়েছেন। ফিরে এসে দেখবেন, দুধের ওপরের হালকা সর একটু সরে গেছে, এমা, বিড়ালে মুখ দিয়েছে। ফলে সেইদিন বাসার অন্যদের দুধ খাওয়া বন্ধ। সেই বিড়ালকে তো আর ডেকে এনে খাওয়ানো যাবে না, সেহেতু ফেলে দিতে হবে পুরোটাই।
কিংবা ছোটবেলার গল্পে বিড়াল আর দুধ খেয়ে ফেলা যেন একে অন্যের সমার্থক। রান্নাঘরের কোণে রাখা দুধের বাটি, আর সুযোগ বুঝে চুপিচুপি এসে তাতে মুখ দেওয়া বিড়াল। সেই বিড়াল এখন কোথায়? বাস্তবে কি বিড়াল সত্যিই দুধের জন্য চুরি করে?
গবেষণা বলছে, দুধের প্রতি বিড়ালের আগ্রহ থাকতেই পারে, কিন্তু দুধ তাদের আদর্শ খাবার নয়। বিড়াল মাংসাশী প্রাণী। তাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির বড় অংশ আসে প্রাণিজ প্রোটিন থেকে। অথচ দুধে থাকা ল্যাকটোজ হজম করার ক্ষমতা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালেরই কমে যায়। ছোট বিড়ালছানা মায়ের দুধ হজম করতে পারে, কারণ তখন তাদের শরীরে ল্যাকটোজ ভাঙার এনজাইম বেশি সক্রিয় থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
তাহলে দুধ দেখলেই অনেক বিড়াল ছুটে আসে কেন? এর একটি কারণ হতে পারে গন্ধ ও স্বাদ। দুধে থাকা চর্বি ও প্রোটিনের গন্ধ বিড়ালকে আকৃষ্ট করতে পারে। আবার, প্রাণিটির অযথা কৌতুহল অনেক বেশি বলেও যেখানে সেখানে মুখ দিয়ে থাকতে পারে। বিড়াল নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা বলছেন, বিড়ালের স্বভাবটা মজার। বিড়াল স্বভাবগতভাবেই কৌতূহলী। রান্নাঘরে নতুন গন্ধ পেলেই তার অনুসন্ধান শুরু। টেবিলের ওপর খাবার পড়ে আছে এটা তার কাছে অনেকটা ‘পরীক্ষা করে দেখার’ সুযোগ।
আজকের পোষা বিড়াল হয়তো রান্নাঘরের দুধের হাঁড়ির বদলে ক্যাট ফুডের বাটির সামনে বসে থাকে। কিন্তু সুযোগ পেলে পুরোনো অভ্যাসের স্মৃতি জাগতেই পারে। একবার পরীক্ষা করে দুরে দুধের বাটি রেখে দেখবেন নাকি সে খালি করে দেয় কিনা।

বিড়াল আসলে কী চায়—একা থাকা, নাকি মানুষের সঙ্গ?







