কাজের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিয়ে স্ত্রী শীতল ঠাকুর ও ছেলে বরদানের সঙ্গে ইউরোপে পারিবারিক ছুটি কাটাচ্ছেন বলিউড অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেনমার্ক ভ্রমণের বিভিন্ন মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করছেন তিনি।
ডেনমার্কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে এবার পরিবার নিয়ে রাজধানী কোপেনহেগেনে পৌঁছেছেন বিক্রান্ত। সুন্দর রাস্তা, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খালের পাশের মনোরম পরিবেশ ও শান্ত-স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন সব মিলিয়ে পারিবারিক ছুটির জন্য শহরটি হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও কোপেনহেগেন হতে পারে ইউরোপ ভ্রমণের আকর্ষণীয় একটি শহর। তবে বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে শেনজেন ভিসা, ফ্লাইট, থাকার খরচ এবং আবহাওয়ার বিষয়গুলো আগে থেকে পরিকল্পনা করা জরুরি। বিশেষ করে ডেনমার্ক তুলনামূলক ব্যয়বহুল দেশ হওয়ায় বাজেটও হিসাব করে নেওয়া ভালো।
বিক্রান্ত ম্যাসির ভ্রমণ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে যারা কোপেনহেগেন ঘুরে দেখতে চান, তাদের ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন এসব জায়গা।
১. নিয়াভন (Nyhavn)
কোপেনহেগেনের সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর কথা বললে সবার আগে আসে নিয়াভনের নাম। খালের দুই পাশে সারি সারি রঙিন পুরোনো বাড়ি, নৌকা আর ক্যাফে-রেস্তোরাঁ—সব মিলিয়ে জায়গাটি শহরের অন্যতম আকর্ষণ।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপভোগ্য হতে পারে ছবি তোলা ও শহরের পরিবেশ উপভোগের জন্য। দিনের বেলায় রঙিন ভবনগুলোর সৌন্দর্য যেমন নজর কাড়ে, সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে উঠলে নিয়াভন পায় ভিন্ন এক আবহ।
এখানে হাঁটাহাঁটি করার পাশাপাশি খালের পাশে বসে সময় কাটানো কিংবা নৌভ্রমণের সুযোগও নেওয়া যেতে পারে।
২. টিভোলি গার্ডেনস (Tivoli Gardens)
পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করলে টিভোলি গার্ডেনস তালিকায় রাখা যেতে পারে। কোপেনহেগেনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই বিখ্যাত বিনোদন পার্কে রয়েছে বিভিন্ন রাইড, বাগান, খাবারের ব্যবস্থা ও নানা ধরনের আয়োজন।
শিশুদের জন্য যেমন বিনোদনের সুযোগ রয়েছে, তেমনি বড়রাও রাইড, খাবার ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। যারা তুলনামূলক ধীর গতিতে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তারা পার্কের বাগানে হাঁটাহাঁটি করেও সময় কাটাতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকে শিশুদের নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণে গেলে টিভোলি পরিবারের সবার জন্যই আনন্দের একটি গন্তব্য হতে পারে।
৩. দ্য লিটল মারমেইড
কোপেনহেগেনের অন্যতম প্রতীক ‘দ্য লিটল মারমেইড’ ভাস্কর্য। সমুদ্রের ধারে পাথরের ওপর বসানো ছোট্ট ব্রোঞ্জের এই ভাস্কর্যটি ডেনিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসেনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য লিটল মারমেইড’ থেকে অনুপ্রাণিত।
ভাস্কর্যটি আকারে খুব বড় নয়, তাই এখানে যাওয়ার আগে প্রত্যাশাটা সে অনুযায়ী রাখা ভালো। তবে ডেনমার্কের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক থাকায় জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
সমুদ্রের পাশের পরিবেশ উপভোগ এবং ছবি তোলার জন্যও এটি ভালো একটি জায়গা।
৪. রোজেনবর্গ ক্যাসেল ও কিংস গার্ডেন
ডেনমার্কের রাজকীয় ইতিহাস জানতে চাইলে রোজেনবর্গ ক্যাসেল ঘুরে দেখা যেতে পারে। ১৭ শতকের শুরুতে নির্মিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ একসময় ডেনিশ রাজপরিবারের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
প্রাসাদের ভেতরে পুরোনো আসবাব, শিল্পকর্ম এবং রাজপরিবারের বিভিন্ন স্মারক রয়েছে। ডেনমার্কের রাজমুকুটের রত্নভাণ্ডারও এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।
প্রাসাদ দেখা শেষে পাশে অবস্থিত কিংস গার্ডেনে সময় কাটানো যেতে পারে। সবুজে ঘেরা এই বাগান শহরের ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা শান্ত পরিবেশ উপভোগের সুযোগ দেয়।
৫. ক্রিশ্চিয়ানসবর্গ প্যালেস
ডেনমার্কের রাজনীতি ও ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে ক্রিশ্চিয়ানসবর্গ প্যালেস ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন। স্লটশোলমেন দ্বীপে অবস্থিত এই প্রাসাদে ডেনমার্কের পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।
প্রাসাদের কিছু অংশ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে ঘুরে ডেনমার্কের রাজকীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়। প্রাসাদের টাওয়ারেও ওঠার সুযোগ রয়েছে; সেখান থেকে শহরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।
বাংলাদেশ থেকে কোপেনহেগেন গেলে যা মাথায় রাখবেন
কোপেনহেগেন ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় পরিকল্পনা করে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশি নাগরিকদের ডেনমার্ক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় শেনজেন ভিসার নিয়ম ও কাগজপত্র আগে থেকে যাচাই করা উচিত। ভ্রমণের মৌসুম অনুযায়ী পোশাকও নির্বাচন করতে হবে, কারণ ডেনমার্কের আবহাওয়া বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ঠান্ডা।
এ ছাড়া কোপেনহেগেনের খাবার, হোটেল ও দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে থাকার জায়গা, স্থানীয় পরিবহন ও দর্শনীয় স্থানগুলোর টিকিটের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করে বাজেট তৈরি করা ভালো।
শহরটি ঘুরে দেখার ক্ষেত্রে হাঁটাহাঁটি বেশ উপভোগ্য। পাশাপাশি সাইকেল ও গণপরিবহনও কোপেনহেগেনের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে পরিকল্পনা করে চললে অল্প সময়েও শহরের অনেকটা ঘুরে দেখা সম্ভব।
রঙিন রাস্তা, ঐতিহাসিক স্থাপনা, রাজকীয় প্রাসাদ, খালের পাশের পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্ন-শান্ত শহর সব মিলিয়ে কোপেনহেগেন ইউরোপ ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। পরিবার নিয়ে ছুটি কাটানো হোক কিংবা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের স্বাদ নেওয়া বিভিন্ন ধরনের পর্যটকের জন্যই এখানে রয়েছে নানা অভিজ্ঞতার সুযোগ।
বিক্রান্ত ম্যাসির মতো ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে তাই ভ্রমণ তালিকায় কোপেনহেগেন রাখতে পারেন। শুধু জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান নয়, শহরের রাস্তায় হাঁটা, খালের পাশে বসে সময় কাটানো এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখাও হয়ে উঠতে পারে এই ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।









