শরৎ এলেই যুক্তরাজ্যের নানা প্রান্ত বদলে যায় সোনালি, কমলা ও লাল রঙের অপূর্ব সাজে। পাঠকদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এমন কয়েকটি জায়গার কথা, যেখানে শরতের দিনে প্রকৃতি, ইতিহাস ও নির্জনতার সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।
স্কটল্যান্ডের লক লোমন্ডে বালমাহা গ্রাম থেকে হাঁটা শুরু করে পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া যায়। ঠান্ডা বাতাস, কমলা পাহাড় আর নাটকীয় মেঘে শরতের এই পথ হয়ে ওঠে দারুণ আকর্ষণীয়।
কর্নওয়ালের গডরেভি থেকে পোর্টরিথ পর্যন্ত উপকূলীয় পথও শরতে বিশেষ সুন্দর। খাড়া পাহাড়ের কিনারা, উত্তাল সমুদ্র আর কমলা আভায় রাঙা সূর্যাস্ত মিলিয়ে এখানে পাওয়া যায় অন্যরকম ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
নর্থাম্বারল্যান্ডের ক্র্যাগসাইডে রয়েছে বিস্তীর্ণ বনভূমি, হ্রদ ও বাগান। শরতে গাছের লাল, কমলা ও সবুজ পাতায় পুরো এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে। উনিশ শতকের জলবিদ্যুৎচালিত ঐতিহাসিক বাড়িটিও এখানকার বড় আকর্ষণ।
স্কটিশ সীমান্তের গ্লেনট্রেস অরণ্যে শরতের দিনে হাঁটা কিংবা পাহাড়ি সাইকেল চালানো যায়। তামাটে, লাল ও সোনালি পাতায় ঘেরা পথ পেরিয়ে উঁচুতে উঠলে টুইড উপত্যকার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
বার্মিংহামের উইন্টারবোর্ন হাউস ও বাগান শহরের ব্যস্ততার মধ্যে এক টুকরো শান্ত সবুজ পরিবেশ। শরতের সকালে সোনালি পাতায় সাজানো বাগান, জলাধারের পাখি ও পুরোনো বাড়ির সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
ল্যাঙ্কাশায়ারের রডলসওর্থ নদীর উপত্যকায় শরতে বনভূমি রঙিন হয়ে ওঠে। হাঁটার পথে দেখা যায় পুরোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ, নদী ও পাথুরে পথ।
পিক ডিস্ট্রিক্টের লংশ শ এস্টেটেও শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। প্যাডলি গর্জের আঁকাবাঁকা ওকগাছ, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ও নানা ধরনের ছত্রাক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
নটিংহামশায়ারের ক্লাম্বার পার্কে রয়েছে ১ হাজার ২৯৬টি লিন্ডেন গাছের প্রায় তিন মাইল দীর্ঘ বৃক্ষসারি। শরতে গাছের সোনালি পাতায় তৈরি হয় অপূর্ব প্রাকৃতিক ছাউনি। হ্রদ, বনভূমি ও দেয়ালঘেরা বাগানও ঘুরে দেখা যায়।
নর্থাম্বারল্যান্ডের স্টিল রিগ থেকে হ্যাড্রিয়ানের প্রাচীর ধরে হাঁটলে শরতের তামাটে ও সোনালি পাহাড়ি দৃশ্যের পাশাপাশি প্রাচীন রোমান ইতিহাসেরও দেখা মেলে। আর উত্তর ওয়েলসের ল্যাঙ্গোলেন রেলপথে বাষ্পচালিত ট্রেনে ডি নদীর পাশ দিয়ে ভ্রমণ হতে পারে শরতের এক নস্টালজিক অভিজ্ঞতা।
প্রকৃতি, ইতিহাস আর নিরিবিলি পরিবেশে যুক্তরাজ্যের শরৎকাল ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠতে পারে এক সোনালি ঋতুর অনন্য আয়োজন।