ভ্রমণ মানেই কি একের পর এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব পরিকল্পনা শেষ করা? বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জিনাত আমানের মতে, তা নয়। জয়পুরে ছুটির একটি দিন কাটাতে গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ভ্রমণের আসল আনন্দ কখনও কখনও কোনও তাড়া ছাড়াই নিজের মতো করে সময় কাটানোর মধ্যে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের ভ্রমণের কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর সেই দিনটিতে ছিল জোহরি বাজারের ব্যস্ত অলিগলিতে কেনাকাটা, রামবাগ প্যালেসে হাই-টি উপভোগ এবং শহরের পরিবেশকে নিজের মতো করে অনুভব করার সুযোগ।
জয়পুরে কেনাকাটা ও হাই-টি উপভোগ করলেন জিনাত আমান
জয়পুরের পুরোনো শহর থেকেই দিনের শুরু করেন জিনাত। ব্যস্ত অলিগলিতে ঘুরে রুপোর গয়না ও শাড়ি কেনাকাটা করেন তিনি। জোহরি বাজারকে ‘ইন্দ্রিয়ের এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেছেন অভিনেত্রী। সরু ও ভিড়ে ঠাসা গলি, রঙিন পসরা, দোকানিদের একের পর এক পণ্য দেখানোর ব্যস্ততা মিলে বাজারটি যেন প্রাণচঞ্চল এক জগৎ।
বাজারের কোলাহলের মধ্যেও বিশেষ আকর্ষণ খুঁজে পেয়েছেন জিনাত। তাঁর মতে, পুরোনো বাজারগুলোর মধ্যে মানুষের জীবনের এক সহজাত উষ্ণতা রয়েছে। বাজারের রং, মানুষের কথাবার্তা আর দৈনন্দিন কাজকর্মের তাড়াহুড়োর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এই জায়গাগুলোর আসল সৌন্দর্য। তাঁর চোখে, এই ব্যস্ততা শুধু কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে দেখারও সুযোগ।
এরপর জয়পুরে জিনাতের দিন কাটে একেবারেই অন্য আবহে। ব্যস্ত বাজার থেকে বেরিয়ে হাই-টি উপভোগ করতে তিনি পৌঁছে যান রামবাগ প্যালেসে। সেখানে চারপাশের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ঝরনা, ছাঁটা সবুজ গাছের সারি, রঙিন ফুল, সাজানো বাগানের নিখুঁত বিন্যাস আর ময়ূরের উপস্থিতি ও প্রাসাদের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে অভিনেত্রীকে।
বাজারের কোলাহল আর প্রাসাদের শান্ত, অভিজাত পরিবেশের এই বৈপরীত্য বেশ উপভোগ করেছেন জিনাত। বিকালে এক কাপ চা ও মিষ্টিমুখের পাশাপাশি এক হস্তরেখাবিদের কাছে হাতও দেখান তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মজার ছলেই কিছু কথা বলেছিলেন ওই হস্তরেখাবিদ।
সবচেয়ে বড় কথা, সেদিন কোথাও পৌঁছানোর তাড়া ছিল না জিনাতের। নির্দিষ্ট সময়ে কোনও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা কিংবা একের পর এক পরিকল্পনা পূরণের চাপ ছাড়াই নিজের মতো করে সময় কাটিয়েছেন তিনি।
এখন আর ভ্রমণে তালিকা ধরে ঘুরতে পছন্দ করেন না জিনাত
জয়পুর ভ্রমণের নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি। জিনাত জানিয়েছেন, ভ্রমণের সময় এখন আর একের পর এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার তালিকা পূরণে তেমন আগ্রহ বোধ করেন না তিনি। বরং অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার জন্য সময় রাখতে পছন্দ করেন। দিনে কতগুলি জায়গা দেখা হলো কিংবা কতটা ঘোরাঘুরি করা গেল, সেই হিসাব নিয়ে আর ব্যস্ত থাকতে চান না অভিনেত্রী।
ভ্রমণের সময় তাঁর কাছে একটি সুন্দর দিন কাটানোর সংজ্ঞাও বেশ সহজ। কখনও কোনও বাজারের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো, প্রিয়জনের জন্য পছন্দের কিছু কেনা, রোদে বসে সময় কাটানো, পুরোনো কোনও স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করা কিংবা পছন্দের কোনও খাবার খাওয়া এসব ছোট ছোট মুহূর্তেই আনন্দ খুঁজে পান তিনি।
ভ্রমণকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে শেষ করতে হবে, এমন ধারণা থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন জিনাত। তাঁর মতে, কোনও বাজারে যাওয়ার কারণ শুধু সেটি দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রয়েছে, এমনটা হওয়া জরুরি নয়। ঘুরতে ঘুরতে সেখানে পৌঁছে গেলেও সেই জায়গা উপভোগ করা যায়। একইভাবে, কোনও প্রাসাদ দেখতে গিয়ে ব্যস্ত সূচির মধ্যে সেটিকে ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সেখানে বসে এক কাপ চা পান করতে করতেও সময়টাকে সুন্দর করে তোলা সম্ভব।
ভ্রমণের এই ধীরস্থির, চাপমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গিকেই জিনাত আমান বলেছেন ‘ছুটির দিনের বিলাসিতা’। তাঁর কথায়, ছুটির দিনকে ফলপ্রসূ করে তোলার বাধ্যবাধকতা নেই, বরং দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলাই আসল। তাঁর এই উপলব্ধি মনে করিয়ে দেয়, ভ্রমণের আনন্দ সব সময় কতগুলি জায়গা দেখা হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। কখনও কখনও কোনও তাড়া ছাড়াই নিজের মতো করে সময় কাটানোই হয়ে ওঠে ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা।