শহরের ব্যস্ততা, যানবাহনের শব্দ আর প্রতিদিনের চেনা পরিবেশ থেকে একটু বিরতি নিতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান। বিস্তীর্ণ শালবন, উঁচু গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর প্রকৃতির নির্জনতায় জায়গাটি হতে পারে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক ভ্রমণস্থান। স্থানীয়ভাবে পঞ্চবটীর বন নামেও পরিচিত এই উদ্যান উত্তরবঙ্গের বনভিত্তিক পর্যটনস্থলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
শালবনের সবুজে প্রকৃতির সান্নিধ্য
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান। ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এলাকাটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। প্রায় ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টর আয়তনের এই বনাঞ্চলে শালগাছের পাশাপাশি সেগুন, গামার, জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। বনের পরিবেশে দেখা মেলে নানা ধরনের পাখিরও।
এখানে বেড়াতে গেলে সবচেয়ে ভালো লাগবে গাছের ছায়ায় ঘেরা বনপথ ধরে হাঁটতে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে সবুজের মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো, প্রকৃতির শব্দ শোনা কিংবা বনের নীরবতা উপভোগ করা এসবই হতে পারে ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ। তবে এটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, তাই বন্যপ্রাণী ও গাছপালার ক্ষতি হয় এমন কিছু করা উচিত নয়।
স্থানীয় নাম পঞ্চবটীর বন কেন?
নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান স্থানীয়ভাবে পঞ্চবটীর বন নামেও পরিচিত। লোককথা ও স্থানীয় জনশ্রুতিতে এই বনকে ঘিরে নানা গল্প প্রচলিত আছে। একসময় আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত বনভূমির শাখা থাকার ধারণা থেকেই পঞ্চবটী নামটির প্রচলন হয়েছে বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব কাহিনি স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ, ইতিহাসের নিশ্চিত তথ্য নয়।
নবাবগঞ্জ এলাকায় গেলে আশুড়ার বিলও ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন। জলাভূমি, বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য আর বিলের ওপর নির্মিত আঁকাবাঁকা কাঠের সেতু জায়গাটিকে আলাদা আকর্ষণ দিয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জলাভূমি ও আশপাশের প্রকৃতি দেখা যায়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পানির পরিমাণ বেশি থাকলে বিলের দৃশ্য আরও মনোরম হতে পারে।
প্রকৃতি দেখা, ছবি তোলা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই এলাকা ভালো লাগতে পারে। তবে আবহাওয়া ও পানির অবস্থা বিবেচনা করে চলাফেরা করুন এবং সেতু বা জলাভূমির নিরাপত্তাবিধি মেনে চলুন।
কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে প্রথমে দিনাজপুর শহরে যেতে পারেন। সেখান থেকে বাসে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে পৌঁছে রিকশা বা অটোরিকশায় জাতীয় উদ্যানের দিকে যাওয়া যায়। বিকল্প হিসেবে বিরামপুর পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহনে যাওয়ার পথও রয়েছে। যাত্রার আগে স্থানীয় পরিবহন ও রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো।
এক দিনের ভ্রমণে প্রকৃতির ছোঁয়া
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান এমন একটি স্থান, যেখানে ভ্রমণের আনন্দের সঙ্গে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। শালবনের সবুজ, পাখির ডাক আর আশুড়ার বিলের জলাভূমি মিলিয়ে এখানে কাটানো কয়েকটি ঘণ্টা হয়ে উঠতে পারে দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে সুন্দর এক বিরতি। যারা প্রচলিত দর্শনীয় স্থানের বাইরে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাঁদের ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান।