রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় নিহত রেজিনা আক্তারকে (৩৮) দুর্বৃত্তরা নয়, ছুরিকাঘাত করেন তার প্রেমিক। বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের খবর জানাজানির ভয়ে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন রেজিনা। তাকে উদ্ধারকারী যুবক আনোয়ার এমন দাবি করেছেন। পরে ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেজিনার মৃত্যু হয়।
রোজিনার পূর্ব পরিচিত আনোয়ার বলেন, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকাল ৩টার দিকে মেরুল বাড্ডার বাসা বের হয় রেজিনা। সঙ্গে ছিল পাশের বাসার টিটু নামে এক ব্যাবসায়ী; যার সঙ্গে রোজিনার সম্পর্ক ছিল।
তিনি বলেন, রেজিনাকে নিয়ে মাওয়া যায় টিটু। সেখানে বেশকিছু সময় কাটায় তারা। সেখানে টিটু রেজিনাকে হত্যার চেষ্টা করে। ছুরিকাঘাতে আহত করে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে এক বোর্ড চালক রেজিনাকে উদ্ধার করে পোস্তগোলা এলাকায় নিয়ে যান। তখন রেজিনা আমাকে ফোন করে ডাকে। বলে, সে গুরতর আহত, আমি যেন দ্রুত সেখানে যাই। পরে গিয়ে আমি তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। তখনও সে কথা বলতে পারছিল। তাকে বাড্ডায় এম জেড হাসপাতালে নিয়ে যাই। সে সময়ে আমাকে পুরো ঘটনা জানায়। সংসার রক্ষার জন্য সে বিষয়টি কাউকে না জানাতে অনুরোধ করে।
আনোয়ার বলেন, পরে রেজিনা ফোনে টিটুর সঙ্গে কথা বলে। টিটু তাকে জানায়, সে ক্যানসারে আক্রান্ত। সে বাঁচবে না বলে রেজিনাকেও বাঁচতে দেবে না; এ কারণে ছুরিকাঘাত করেছে।
সে চিকিৎসার জন্য রেজিনাকে বিকাশে ২০ হাজার টাকাও পাঠায়। সেটিও রেজিনা আনোয়ারকে বলেন। ওই টাকা দিয়ে রেজিনার চিকিৎসা শুরু করা হয় বলেও জানান আনোয়ার।
আনোয়ার বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আমি রেজিনার ভাই জিহাদকে আহত হওয়ার খবর দেই এবং রোজিনাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। জিহাদ হাসপাতালে এলে রোজিনা তার ভাইয়ের কাছে সত্য লুকায়। বলে, মধ্য বাড্ডায় অজ্ঞাত লোকের ছুরিকাঘাতে সে আহত হয়েছে।
একদিকে বাড্ডা থানা-পুলিশ প্রথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা পায়নি। পরে বিয়ে বর্হিভূত সম্পর্কের তথ্য ও প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে নিহতের বিষয়টি তদন্ত করেছ।
এদিকে নিহতের ভাই জিহাদ বলেন, আমি গত রাতে যা বলেছিলাম, সেটি রেজিনার কাছ থেকে শুনেই বলেছিলাম। পরে জানতে পারি, আমাদের বাসার পাশে টিটু নামে এক ব্যক্তি আমার বোনকে বাসার সামনে থেকে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানা হত্যা মামলার জন্য আবেদন করেছি।
এদিকে বাড্ডা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
কুমিল্লা মুরাদ নগর উপজেলার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. আউয়ালের স্ত্রী রোজিনা। বর্তমানে মেরুল বাড্ডায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।









