২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
এদিন মামলার ২৭তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। জেরা শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে, গত ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দিতে তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ণনা তুলে ধরেন।
মামলাটিতে প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ হয় এবং তখন যুক্তিতর্কের জন্য দিনও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তারও পুনরায় জবানবন্দি নেওয়া হয়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তারা সবাই পলাতক।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনামূলক বক্তব্য এবং উসকানি দিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান, একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় শাস্তিযোগ্য।








