ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে স্বামীর অস্ত্র মামলার নথি চুরির অভিযোগে করা মামলায় জামিলা আক্তার ওরফে অর্পা নামের এক নারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আহসান হাবীব নামে এক কম্পিউটার অপারেটরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালে সোমবার (২৪ আগস্ট) অর্পা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার। একই সঙ্গে আহসান হাবীবকে আদালতে হাজির তরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন আলবিরুনী মীরের আদালত অর্পার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন।
আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আহসান হাবীবের রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট ফয়েজ উল্লাহ রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ, নিরাপরাধ। এজাহারে তার নাম নেই। অহেতুক হয়রানি করার জন্য তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ পরিস্থিতির শিকার। মামলার কথিত ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানে না। রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন প্রার্থনা করছি।”
পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আইনজীবীর মুহুরী পরিচয় দেন। খিলগাঁও থানার একটি অস্ত্র আইনের মামলার নথি দেখতে চান। ওই আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান তাকে নথি দেখতে দেন। ২টা ৪০ মিনিটের দিকে নাজমুলকে পার্শ্ববর্তী খাস কামরায় ডেকে পাঠান বিচারক। তিনি ভেতরে যান। পাঁচ মিনিট পর এসে ওউ লোককে দেখতে পাননি নাজমুল। দেখেন, নথিও নেই।
এ ঘটনায় ওইদিনই সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী খায়রুল আলম কোতয়ালী থানায় নথি চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামপুর থানার একতা হাউজিং থেকে আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল ওরফে মুরগি রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে মুগদা থানার মুড়ি ওয়ালী গলিতে অর্পার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করে এবং চুরি যাওয়া নথি উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে, অর্পা তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বীর স্ত্রী। রাব্বী খিলগাঁও থানার ওই অস্ত্র মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। স্বামীর মামলার বিচার বন্ধ করতে ‘মুরগি রাসেলের’ সহায়তায় ও যোগসাজসে নথি চুরি করে মর্মে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পারে।
এদিকে ২১ আগস্ট দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড চলাকালে অর্পা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল। আর ‘মুরগি রাসেল’ রিমান্ডে রয়েছে।
এদিকে রিমান্ডে ‘মুরগি’ রাসেল আহসান হাবীবের দোকানের কথা উল্লেখ করে। পরে রবিবার নিম্ন আদালতপাড়ায় অভিযান চালিয়ে হাবিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ।









