বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেফতারের বিষয়ে যা জানালো ডিএমপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান থানাধীন গুলশান-২-এর আরাবিকা কফি হাউস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদিশা সিদ্দিক গুলশান থানার একটি প্রতারণা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। ওই মামলায় আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।’

গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

এর আগে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। সেই মামলায় দুই বছরের সাজাও হয়েছে। সাজার পরোয়ানা থাকায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। মামলায় দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এ মামলার রায়ের পর গত ২০ মে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিদিশাকে কল করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এই মামলার বিষয়ে আমার কোনও আইডিয়া নেই।’

/আইএ/ইউএস/
সম্পর্কিত
সায়দাবাদে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা
প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিক গ্রেফতার
ট্রাফিক আইন ভাঙায় রাজধানীতে একদিনে ২৩৮৩ মামলা
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের সুযোগ নেই: ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি
জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের সুযোগ নেই: ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি
সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধের পর গ্যাস পেলো সরকারি সার কারখানা, উৎপাদন শুরু হবে কবে?
সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধের পর গ্যাস পেলো সরকারি সার কারখানা, উৎপাদন শুরু হবে কবে?
গুম হওয়া ২৫০ জন ফিরে আসেননি, তদন্তে মিলেছে সত্যতা: চিফ প্রসিকিউটর
গুম হওয়া ২৫০ জন ফিরে আসেননি, তদন্তে মিলেছে সত্যতা: চিফ প্রসিকিউটর
সর্বাধিক পঠিত
শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে থাকবেন ৩ মন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে থাকবেন ৩ মন্ত্রী
বিদ্রোহী শিবির ঘুরে আবারও মমতার কাছে ফিরলেন কাসেম সিদ্দিকী
বিদ্রোহী শিবির ঘুরে আবারও মমতার কাছে ফিরলেন কাসেম সিদ্দিকী
৫০ পেরিয়ে যে সত্যটা অনেকেই প্রথমবার বুঝতে পারেন
৫০ পেরিয়ে যে সত্যটা অনেকেই প্রথমবার বুঝতে পারেন
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?