ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ‘অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি’ করা ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক দুষ্কৃতিকারীকে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকা খেকে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেফতার করে শ্যামপুর থানা পুলিশ। ইমন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার কাছ থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল ও ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ ও ১১টি কালো স্কস্টেপ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের বলছে, একই অভিযানে তিনটি কার্টনে থাকা মোট ৯ হাজার কাগজের মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক এবং ককটেল তৈরির উপাদান গুঁড়া করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় রাখা হয়েছিল।
পুলিশ আরও জানায়, ইমনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় ইমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।