রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে ফুটপাতে বসা দোকানদারসহ অবৈধভাবে সড়ক দখলকারীদের সঙ্গে সংর্ঘষ ঘটেছে। আগুন দেওয়া হয়েছে দোকানেও।
এছাড়া সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুনও দেওয়া হয়েছে। ঘটেছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও। সেইসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গেলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি হামলার চেষ্টা করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ থেকে ১০ নম্বর এলাকায় হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
হকারদের দাবি, সকালে সিটি করপোরেশনের লোকজন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে আসেন। হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে সেখানে বিদ্যুতের তার থেকে আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন হকাররা। পরে সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা।
বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের একটি জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের পিক-আপ গেলে হকাররা সেটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তার কয়েক মিনিট পরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি যায় আগুন নেভাতে যেতে দেখা গেছে। প্রায় ১৫-২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
সেখানে বিভিন্ন মালামাল ছিল বলে দাবি হকারদের। এ সময় কয়েকশ হকার সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে হকাররা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে ছবি ও ভিডিও তুলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা দেন হকাররা। এ সময় আগুনে পোড়া গাড়ির ছবি তুলতে গেলে হকারদের হামলায় মাহবুব হোসেন নবীন আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের নির্বিঘ্ন ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাথের অবৈধ দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত সড়কে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে ট্রাফিক এলার্ট নামক একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে খুব বেশি দরকার না থাকলে মিরপুর ১০ নম্বর এবং আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিকেরা।
পোস্টে বলা হয়েছে, হকার উচ্ছেদের সময় পুলিশের সঙ্গে গণ্ডগোল হচ্ছে।