গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর বিভিন্ন ধারায় করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের (৪৪) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুরে আলম রবিউলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, রবিউল বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। ইতোমধ্যে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপরও নতুন করে রিমান্ডের কোনও যৌক্তিকতা নেই।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্য বিষয় সম্পর্কে জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রবিউল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোড়িপোছ এলাকার শহিদুল ইসলাম ও সালেহা খাতুনের ছেলে।
ডিবি পুলিশের অভিযোগ, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে এক ভারতীয় নাগরিক সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছেন। পরে তথ্য যাচাই করে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার সামনে থেকে রবিউলকে আটক করা হয়।
আটকের সময় রবিউল তার ভারতীয় পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান। এসব নথি যাচাই করে তার জন্মতারিখে অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে বারবার আসা-যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও তিনি জানাতে পারেননি বলে পুলিশের অভিযোগ।
এজাহারে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেন। তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশের অভিযোগ, ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে গোপন তথ্য পাচারের সঙ্গে রবিউল জড়িত ছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রবিউল। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি উত্তরা এলাকায় অবস্থান করেন। এ সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, নিষিদ্ধ এলাকার ছবি ও নথিপত্র বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি ভারতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি আইফোন-১৪ এবং একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-১৪ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ডিবির রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
এর আগে রবিউলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নতুন করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।