বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমপি মো. শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে গ্রেফতার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব, আরাফাত মিয়া, রিফাত হাওলাদার, হৃদয় হাসান, ফাহিম, রাজিব হোসেন রানা,মো. ফিরোজ, মো. আরিফ,মো. ওমর ফারুক, আব্দুল্লাহ আল আমান, সোহানুর হোসেন শাহিন, মো. হাসিব ও হাসিব মিয়া।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বাসায় অভিযান চালিয়ে এই ১৪ আসামিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ফারজানা নামে এক আসামির এক দিন এবং অপর ১৪ আসামির তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। বুধবার ফারজানাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
শুক্রবার এই ১৪ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই ইকবাল হোসেন।
হেলাল উদ্দিন বলেন,‘‘১১ আসামির জামিন আবেদন করা হয়। তিনজনের পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না। আদালত ১১ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পরে ১৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’’
মামলার বিবরণ থেকে, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নম্বর সেক্টরস্থ বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এই সংবাদ পেয়ে সোমবার বিকাল ৫টার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুমের ভেতর থেকে আসামিদের আটক করেন। এসময় অজ্ঞাতনামা ২০/২২ জন আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান। তল্লাশি করে রুমের টেবিলের ড্রায়ারের ভেতর থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রার্থী ২০ জনের নাম ও জীবন বৃত্তান্ত লেখা ২০টি পাতা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানায়। এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা হয়।