একের পর এক হামলা, দখল, চাঁদাবাজি: গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

জামাল উদ্দিন ও সুজন কৈরী
০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৭ আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৭

রাতের অন্ধকারে ভারী যন্ত্র এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোরে দেশীয় অস্ত্র হাতে দলবদ্ধ হয়ে হামলা হচ্ছে বসতবাড়ির ফটকে। দিনের আলোয় অফিসে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও জায়গা ঘিরে দখলের চেষ্টা চলছে। কোথাও উচ্ছেদ অভিযান মুহূর্তেই রূপ নিচ্ছে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে। প্রতিটি ঘটনার পর মামলা হচ্ছে, চলছে অভিযান, গ্রেফতারও হচ্ছেন অভিযুক্তরা। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ করেছেন। যদিও পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও কিছু বলা হয়নি। তারপরও সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, হঠাৎ করে অনেক লোকের জমায়েত, অস্ত্র ও সরঞ্জামের প্রস্তুতি কিংবা সম্ভাব্য সংঘাতের খবর কেন আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসছে না?

বিগত ১০ দিনের ব্যবধানে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আদাবরের শ্যামলী হাউজিং, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও মিরপুরের ইসিবি চত্বরসংলগ্ন একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওতেও ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ এবং মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। ঘটনাগুলোর কারণ ভিন্ন। কোথাও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, কোথাও চাঁদা দাবির অভিযোগ, কোথাও আবার সরকারি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘাত। তবে আগাম ঝুঁকি শনাক্তকরণ কতটা কার্যকর, খবর পাওয়ার পর পুলিশের সাড়া কতটা দ্রুত এবং দখলমুক্ত বা বিরোধপূর্ণ স্থানে পরবর্তী নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে স্থাপনার একটি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার আগে লোকজন জড়ো করা, অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং এক্সক্যাভেটর নিয়ে ভাংচুর চালানো হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে শাহ আলী থানার ওসিকে পরদিনই সরকার প্রত্যাহার করে নেয়। হামলার প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষেই অস্থায়ীভাবে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে এখনও। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতির কথা জানিয়েছিলেন গণমাধ্যমকে। একইসঙ্গে নির্ভয়ে সেবা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

রাড্ডার ঘটনার দুদিন পর, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আদাবর থানার শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বহুতল বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পুলিশ ও বাড়ির মালিকপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দুবৃত্তের দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে যায়। ফটক খুলতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সেখানে ভাঙচুর চালায়। মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের জানান, বাড়িটি আগে দখলে ছিল। গত মার্চে পুলিশের সহায়তায় দখল ফিরে পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার হামলার মুখে পড়ে পরিবারটি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে এবং চাঁদা দাবি করে।

মালিকের ভাতিজা মনির হোসেন তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ২৬ সেপ্টেম্বরই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে একটি প্লটের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। দখলবাজরা জায়গাটি টিন দিয়ে ঘিরেও ফেলে। সেখানেও জমির মালিকানা বিরোধের কথা বলা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চাঁদ উদ্যানের ঘটনায় আটজন এবং শ্যামলী হাউজিংয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

একই দিন রাতে ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, জমির দখল-বেদখল নিয়ে বিরোধের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সঙ্গে চাঁদা দাবির সম্পর্ক এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

রাজধানীর বাইরেও প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সহিংসতার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালে আশুলিয়ার শ্রীপুরে তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদ। তার অভিযোগ, ট্রাস্টের জায়গায় থাকা মার্কেটের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় ইমাম হাসান ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দখলের অভিযোগ করেন।

উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ, হামলা, ভাংচুর

৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বক্স ও গণমাধ্যমের গাড়িতে ভাঙচুর এবং সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার তথ্য উঠে আসে। হকারদের দাবি, উচ্ছেদের সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১ অক্টোবর পর্যন্ত চারটি মামলা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অভিযানের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ভেতর থেকেই। ৩০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে তার মনে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়’

একদিকে হামলার পর অভিযান ও গ্রেফতার, অন্যদিকে আগাম প্রস্তুতি ও ঘটনাস্থলে সাড়া দেওয়া নিয়ে অভিযোগ। এই বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজধানীতে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা লক্ষ করা গেছে যা, অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এত বড় জমায়েত, প্রস্তুতি ও সংঘবদ্ধতার বিষয়গুলো আগাম আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আসেনি কেন এ প্রশ্নের স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দখল, উচ্ছেদ ও হামলার আতঙ্ক নাগরিকের স্বাভাবিক জীবন ও নিরাপত্তাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে উচ্ছেদ, দখল বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারে না। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে সংগঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে ঘাটতি ছিল কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। “রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।”

পুলিশ কর্মকর্তারা যা বলছেন

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকেও কেউ জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হামলার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু ঘটনা আগেই শনাক্ত করে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সামনে আসে না। এর মধ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে দুএকটি ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক সংস্থারই জনবল সীমিত। একজন সদস্য সারাক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। কখনও ভোরে, কখনও সকালে এমন সময় বেছে নেওয়া হয়, যখন নজরদারির সুযোগ তুলনামূলক কম থাকে। পৃথিবীর কোথাও শতভাগ নিখুঁত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। থাকলে কোনও ঘটনাই ঘটতো না।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের তৎপরতা ও চক্রান্ত রয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের ইন্ধনও কাজ করছে। তবে বাস্তবে যতটা ঘটনা ঘটছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চেয়ে অনেক বেশি বড় করে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ, ককটেল বিস্ফোরণ, হঠাৎ মিছিল এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা আছে কিনা এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে। বিপুল জনসংখ্যার দেশ, বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে প্রতিটি ছোট তৎপরতা আগে থেকে শনাক্ত করা সবসময় সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ২০, ৩০ কিংবা ১০০ থেকে ২০০ লোক জড়ো হয়ে ব্যানার খুলে একটি মিছিল করলো এটাকে আমি খুব বড় কোনও সাফল্য মনে করি না। মূলত তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তৈরির চেষ্টা করছে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওসমান গনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলা হয়েছে, আসামি গ্রেফতার এবং একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সমাজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এ কথা বলা যাবে না। তবে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। একটি ঘটনার পর সারা রাত অভিযান পরিচালনা করেছি, পরে মোহাম্মদপুর থেকেও আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোনও দুর্বলতা রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি নেই। কোথাও দুটি ভবন বা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তৈরি হলো, কেউ সেটি দখলের চেষ্টা করলো, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা দ্রুত সাড়া দিই। তথ্য পাওয়ার পর আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়, বাধা দেয়, আইনগত ব্যবস্থা নেয় এবং আসামিদের গ্রেফতার করে।’

‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নয়’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মানতে নারাজ। গত কয়েক দিনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।

তার মতে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘একটা-দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে নিয়ে এসে’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সরকার জননিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

‘অভিযানের আগে বাস্তবতা বুঝে প্রস্তুতি প্রয়োজন’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সহিংসতা, দখলের অভিযোগ এবং হাসপাতাল ভাঙচুরের মতো ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠছে। পরস্পর দোষারোপের পাশাপাশি সংঘাত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণহীন পর্যায়ে যেতে থাকলে সেটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনি সংকেত।

তার মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগে বাধার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা কিংবা প্রভাবশালী কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ফুটপাতকেন্দ্রিক প্রান্তিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবসার স্থান, দোকানের সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যকর আলোচনার ওপরও গুরুত্ব দেন।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘এর পেছনে যদি রাজনৈতিক কোনও বিষয় থেকে থাকে, তাহলে সেই রাজনীতির উদ্দেশ্য কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা শনাক্ত করতে হবে। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

/জেইউ/এম/
সম্পর্কিত
গ্রেফতারের আগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বার্তা, ‘জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করবো’
বগুড়া থেকে নিখোঁজ দুই শিশু ঢাকায় উদ্ধার
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
যারা বিরিয়ানি খেতে জন্মেছেন তারা পশু: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
যারা বিরিয়ানি খেতে জন্মেছেন তারা পশু: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ডের হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি ১০৮ নাগরিকের
পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ডের হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি ১০৮ নাগরিকের
মৃত্যুদণ্ডের দুটি ইনজেকশনের পরও বেঁচে যাওয়া নারীর পরিণতি কী হবে?
মৃত্যুদণ্ডের দুটি ইনজেকশনের পরও বেঁচে যাওয়া নারীর পরিণতি কী হবে?
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম
পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম