ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে বাংলাদেশ পুলিশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, বিশেষ করে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, তথ্য বিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে সহযোগিতা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া, টেলিকমভিত্তিক প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ছয় দিন আগে নিখোঁজ শফিকুলের ঝলসানো মরদেহ মিলল শৌচাগারে
ছবি আছে
নাটোর প্রতিনিধি
নিখোঁজ হয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম খাঁ (৩০) নামের এক যুবক। ছয়দিন পর একটি নির্মাণাধীন বাড়ির শৌচাগারে ঝলসানো অবস্থায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনা এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর খাসপাড়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণাধীন বাড়ির শৌচাগার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিক ওই কালিকাপুর গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে রফিকুলের সঙ্গে মাদক ক্রয় বিক্রয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল একই গ্রামের পিচ্চি শাজাহানের। তারই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সকালে পিচ্চি শাজাহানের ছেলে মাদককারবারি সোহেল, সোহেলের মা সাজেদা বেগম সাজু, খালা মাজেদা বেগম মাজু, বোন সুমী খাতুন ও সোহেলের ছেলে সোহাগ। বাড়িতে শফিককে না পেয়ে শফিকের মা জাহেরা বেগমকে মারধর করেন সোহেল ও তার লোকজন। এরপর থেকে শফিককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিহত শফিকের চাচি মেহেরুন্নেছা জানান, শফিকুল নিখোঁজ হওয়ার পর মোবাইল ফোনটি মাদক কারবারি রাকিবের কাছে পাওয়া যায়। এতে তারা শফিককে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। শৌচাগারের ভেতর শফিকুলের লাশটির বুক ও মুখমণ্ডল ঝলসানো ছিল। অর্ধগলিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল মরদেহ থেকে।
পুলিশ বলছে, নিহতবরফিকুলের লাশটি শৌচাগারের ভেতর খালি গায়ে উপুড় করে সোয়ানো ছিল। পরনে ফুলপ্যান্ট ও পায়ে জুতোও খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শফিকুল কে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাওয়ানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা এমন অভিযোগ শফিকুলের পরিবারের সদস্যদের।
শফিকুলের মা জাহেরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, তার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশটি শৌচাগারের মধ্যে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তান হত্যার বিচার চান তিনি।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত শফিকুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।# মো.রাশিদুল ইসলাম