দেশের পাঁচ জেলা শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখল ও অবৈধভাবে ভরাট বন্ধে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসব শহরে কতটি রেকর্ডভুক্ত পুকুর রয়েছে, তার তালিকা হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করতে পাঁচ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরগুলো হলো—বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম।
এ বিষয়ে দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, পাঁচ শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এসব পুকুর কার্যকরভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পুকুরের শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন এবং দখল-ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্ট পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধিদের রাখতে বলা হয়েছে।
রেকর্ডভুক্ত পুকুর যাতে নতুন করে কেউ দখল বা ভরাট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এই কমিটি। এ ছাড়া আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অন্য এক আদেশে বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা হলফনামা আকারে তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে পাঁচ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এইচআরপিবির পক্ষে রিটের পিটিশনার হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রিপন বারই ও অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) এস এম ইমামুল মুশফিকুর।
এর আগে ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর বিভিন্ন বিধান অনুযায়ী জলাশয় হিসেবে স্বীকৃত পুকুর দখল ও ভরাট বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর পুকুর সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল-ভরাট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশ ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিটটি দায়ের করে।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন শহরে পুকুর ও জলাধার ভরাট আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এ ধরনের কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু আইন থাকা সত্ত্বেও বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে শত শত পুকুর দখল ও ভরাট করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, এসব পুকুর সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল-ভরাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে।
রিটে পরিবেশ, অর্থ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।