‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ ভয়ংকর কাহিনী দেখতে ভালো লাগে কেন?

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক  
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২

খুন, অপহরণ, নিখোঁজ কিংবা ভয়ংকর অপরাধের সত্য ঘটনা নিয়ে তৈরি সিনেমা, সিরিজ, পডকাস্ট বা তথ্যচিত্র—ট্রু ক্রাইমের জনপ্রিয়তা এখন বেশ চোখে পড়ার মতো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত ভয়ংকর ঘটনা দেখতে মানুষের ভালো লাগে কেন? আরও অদ্ভুত বিষয়, যারা বেশি উদ্বিগ্ন বা অনিরাপদ বোধ করেন, তাদের কেউ কেউ কেন এসব কনটেন্টের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন?

নতুন এক গবেষণা বলছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ট্রু ক্রাইম দেখা নিছক বিনোদন নয়; বরং অজানা বিপদের জন্য এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতিও হতে পারে। বাস্তবে বিপদের মুখোমুখি না হয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা ও সেগুলো কল্পনা করা তাদের মনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

২০২৫ সালের ওই গবেষণায় জার্মানির ১৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। টানা দুই সপ্তাহ তারা প্রতিদিন কতক্ষণ ট্রু ক্রাইম ও কাল্পনিক অপরাধভিত্তিক কনটেন্ট দেখেছেন বা শুনেছেন, তা নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি প্রতিদিনের মুড, উদ্বেগ, ভয় ও রাগের মাত্রাও জানাতে হয় তাদের।

গবেষণায় দেখা যায়, যে দিন কারও উদ্বেগ বেশি ছিল, তার পরের দিন তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি সহিংস ট্রু ক্রাইম দেখেছেন। অর্থাৎ, উদ্বেগ বাড়ার পর ট্রু ক্রাইমের প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, অজানা বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষ হয়তো ভয়ংকর পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নিতে চান, যাতে বাস্তবে এমন কিছু ঘটলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে মানসিকভাবে কিছুটা প্রস্তুত থাকা যায়।

বিষয়টাকে সহজভাবে বলা যায়, মনের জন্য এক ধরনের ‘বিপদের মহড়া’। ঘরে বসে ভয়ংকর কোনও ঘটনা দেখা এবং ভাবা—‘এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আমি কী করতাম?’—কিছু মানুষের মধ্যে নিজের সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি বাড়াতে পারে। ফলে আগে যে ভয়টা ছিল অস্পষ্ট, সেটি কিছুটা পরিচিত হয়ে ওঠে।

গবেষণার আরও চমকপ্রদ ফল হলো, যত বেশি সহিংস ট্রু ক্রাইম কেউ দেখেছেন, পরের দিন ভালো মুডে থাকার সম্ভাবনাও তত বেশি ছিল। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও গবেষকরা এটিকে সহিংসতা উপভোগ করার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না। বরং ভয়ংকর পরিস্থিতিকে মানসিকভাবে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও সক্ষমতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমনকি ঘুমানোর আগে ট্রু ক্রাইম দেখা মানুষের পরের দিনের উদ্বেগও তুলনামূলক কম ছিল। গবেষকরা এটিকে ‘অ্যান্টিসিপেটরি ইমোশনাল রেগুলেশন’ বা আগে থেকেই ভয়ংকর কিছুর সঙ্গে মানসিকভাবে পরিচিত হয়ে আবেগ সামলে নেওয়ার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে এর মানে এই নয় যে ট্রু ক্রাইম সবার উদ্বেগ কমায় বা এটি কোনও ধরনের চিকিৎসা। গবেষণাটি মাত্র ১৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা হয়েছে, যাদের গড় বয়স ছিল ২৩ বছরের কিছু বেশি। ফলে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে কিনা, তা এই গবেষণা থেকে বলা যায় না। গবেষকও স্পষ্ট করেছেন, ট্রু ক্রাইম কোনও থেরাপি নয়।

তবু গবেষণাটি ট্রু ক্রাইম দেখার অভ্যাসকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দেয়। ভয়ংকর অপরাধের গল্পের প্রতি আকর্ষণের পেছনে শুধু কৌতূহল বা উত্তেজনাই কাজ করে না। কারও কারও ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে ভয়কে চেনা, সম্ভাব্য বিপদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া এবং নিজের নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা।

/এম/
সম্পর্কিত
‘রোদ হচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে’ লোককথাটি কীভাবে এলো
যে কাজে বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ক থাকবে সক্রিয়
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাটলফিশের মিলনমেলা এবার যেন নিস্তব্ধ সমুদ্র
সর্বশেষ খবর
সবুজ মশলায় জমজমাট হারিয়ালি ডিমের কারি
সবুজ মশলায় জমজমাট হারিয়ালি ডিমের কারি
কারাগারে বাড়ছে বন্দি-মৃত্যু, নেপথ্যে কী
কারাগারে বাড়ছে বন্দি-মৃত্যু, নেপথ্যে কী
মহাত্মা গান্ধীর ২১ দিনের গল্পে সিনেমা, গান্ধীর লুকে প্রশংসায় মনোজ বাজপেয়ি
মহাত্মা গান্ধীর ২১ দিনের গল্পে সিনেমা, গান্ধীর লুকে প্রশংসায় মনোজ বাজপেয়ি
এশিয়া কাপের সেমিতে আজ বাংলাদেশ-ভারত মহারণ
এশিয়া কাপের সেমিতে আজ বাংলাদেশ-ভারত মহারণ
সর্বাধিক পঠিত
‘মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের কোচ হতে পারবো না’
‘মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের কোচ হতে পারবো না’
রাহুলের সঙ্গে শ্রদ্ধার প্রেম, প্রকাশ্যে এলো রোমান্টিক মুহূর্ত
রাহুলের সঙ্গে শ্রদ্ধার প্রেম, প্রকাশ্যে এলো রোমান্টিক মুহূর্ত
সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার ১০ বছরের সাজা, ৯৩ কোটি টাকা জরিমানা
সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার ১০ বছরের সাজা, ৯৩ কোটি টাকা জরিমানা
কত বেতন পান এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটরা, রইল ২০২৬ সালের হিসাব
কত বেতন পান এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটরা, রইল ২০২৬ সালের হিসাব
নতুন কৌশলে প্রতারণা, ইলিশ বিক্রেতাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
নতুন কৌশলে প্রতারণা, ইলিশ বিক্রেতাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা