সূর্যের প্রখরতা যেমন গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ, তেমনি সারাদিন ধুলাবালি আর ঘামে মাখামাখি হয়ে ত্বক হারায় তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা। এ সময় ত্বক ও চুলের জন্য চাই বাড়তি যত্ন। গরমে ও ঘামে ত্বকে র্যাশের সমস্যা দেখা দেয় বেশি। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক অপরিস্কার হয় দ্রুত। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা। এ সময় প্রতিদিন অন্তত দুইবার গোসল করা উচিত। বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগাতে হবে। কারণ অনেক সময় তীব্র রোদের ফলে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ত্বকে। বাইরে থাকা অবস্থায় ঘাম হয় বেশি। সম্ভব হলে সারাদিনে বারকয়েক ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় ধুয়ে নিন মুখ। এতে ঘাম কম হবে ও মুখমণ্ডল পরিষ্কার থাকবে। ব্যাগে ওয়েট টিস্যু রাখতে পারেন। ঘেমে গেলে আলতো করে মুখ ও ঘাড়ে বুলিয়ে নিন। ঝরঝরে লাগবে অনেকটা। বাইরে থেকে এসে মুখ ও হাত-পা ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে ভুলবেন না। পরিষ্কার করার জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। ঘরে তৈরি প্যাক দিয়েও পরিষ্কার করতে পারেন ত্বক। সেজন্য মসুরের ডাল বেটে নিন প্রথমে। তৈলাক্ত ত্বক হলে মসুর ডালের সঙ্গে টক দই, লেবুর রস, আমন্ড বাটা মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে মসুর ডাল বাটার সঙ্গে দুধ, দুধের সর ও মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে আস্তে আস্তে ঘষে মিশ্রনটি তুলে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি উজ্জ্বলতাও বাড়বে।
গরমের দিন চুল খুলে বাইরে না যাওয়াই ভালো। ছোট চুল হলে খুলে রাখতে পারেন। না হলে পনি টেইল কিংবা হাত খোঁপায় খুঁজে নিন স্বস্তি। ঘামে চুল ভিজে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুলে দিন। কারণ ভেজা চুল বেঁধে রাখলে চুলের গোড়ায় ছত্রাক জন্ম নেয় ও খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময় প্রতিদিনই শ্যাম্পু করা উচিত। সফট ধরনের শ্যাম্পু বেছে নিন চুলের জন্য। প্রয়োজন হলে শ্যাম্পুর সঙ্গে পানি মিশিয়ে তারপর চুলে দিন। চুলের জৌলুস বাড়াতে কলা, টক দই, মেহেদি, আমলা ও শিকাকাই পাউডার একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
/এনএ/








