X
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২
১৯ আশ্বিন ১৪২৯

দেশীয় পিঠায় হয় বড়দিনের আয়োজন

নওরিন আক্তার
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৭আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:১৩

বড়দিন মানেই মহাসমারোহে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো। এছাড়া সান্তাক্লজের আগমন, উপহার বিতরণ ও কেক খাওয়া তো রয়েছেই। এ তো গেল পাঁচতারকা হোটেলগুলোর ঝলমলে আয়োজন। বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে বড়দিনে সাধারণত কী ধরনের আয়োজন করা হয়? খাবার মেন্যুতেই বা কী থাকে? খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করেই হয় এ দেশের পরিবারগুলোর বড়দিন উদযাপন। খাবার তালিকায় কেক তো থাকেই, পাশাপাশি থাকে মজার সব পিঠা। অতিথি অ্যাপায়নে পোলাও-মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয় ঘরে ঘরে।

বড়দিনের আয়োজনে থাকে মজার সব পিঠা। ছবি: লা মেরিডিয়ান ঢাকা

নাট্য নির্মাতা অসীম গোমেজ জানালেন, বড়দিনের আমেজটা যেন শুরু হয় ডিসেম্বরের একেবারে শুরু থেকেই। শীতকাল বলে মূল আকর্ষণ থাকে হরেক রকমের পিঠা। আর যেহেতু যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন, কেকের আয়োজন তো থাকেই। বেশিরভাগ পরিবারে ঘরেই তৈরি হয় মজার সব কেক। সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন কাপড় নেয় পরিবারের ছোট-বড় সবাই। এছাড়া শিশুদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যায় এই সময়, ফলে উৎসবের আবহটা এমনিতেই তাদের মধ্যে একটু বেশি থাকে। কে ভালো ব্যবহার করেছে বাবা-মায়ের সঙ্গে, কে ভালো পরীক্ষা দিয়েছে- সেই অনুযায়ী সান্তাক্লজ সারপ্রাইজ গিফট নিয়ে আসে শিশুদের জন্য। অসীম জানান, ২৩ তারিখ রাত তথা ক্রিসমাস ইভই মূল আনন্দ ছিল একসময়। রাতে গির্জায় যাওয়া, প্রার্থনা করা, গান গাওয়া, পরদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশীর্বাদ নেওয়া, মজার সব খাবার খাওয়া- এগুলো ঘিরেই বড়দিনের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

ক্রিসমাস ট্রি সাজানো চলে ঘরে ঘরে। ছবি দিয়েছেন একা রোজারিও জুলিয়েট

অ্যাকশন এইডের কাজে এখন কক্সবাজার আছেন মঞ্চ অভিনেত্রী লুসি তৃপ্তি গোমেজ। জানালেন, কাজ শেষেই তাড়াহুড়ো করে শুরু হবে বড়দিনের আয়োজন। সে আয়োজনের একটি বড় অংশ হচ্ছে ঘর সাজানো ও খাবার তৈরি। কেক থাকবে বিশেষ দিনের মেন্যুতে। বিশেষ করে ফ্রুট কেক প্রায় সব ঘরেই তৈরি হয়। লুসি জানান, কেকের পাশাপাশি শীতের আমেজ পুরোপুরি উপভোগ করতে থাকে পিঠা। তবে আগে অনেক ধরনের পিঠা থাকতো বড়দিনের আয়োজনে। এখন সময়ের অভাবে খুব বেশি পিঠা তৈরি হয় না। কেক-পিঠার পাশাপাশি কুকি, পুডিং, পাই-এগুলো বানিয়ে সবাই মিলে খাওয়া হয় বড়দিনে।

বড়দিন উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ কেক। ছবি দিয়েছেন একা রোজারিও জুলিয়েট

বড়দিনের আনন্দের অনেকটুকু জুড়ে থাকে ঘর সাজানো। ঝালর, কাগজ, বেলুন, বাতি দিয়ে ঘর সাজানো, রাত এগারোটার দিকে প্রার্থনা, ঠিক বারোটায় মেরি ক্রিসমাস উইশ করে সবাই মিলে কেক কাটা- এগুলো বাঙালি পরিবারগুলোর বড়দিনের সাধারণ আয়োজন। অনেক পরিবারে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে পরিবারের বড়রা ছোটদের জন্য উপহার সাজিয়ে রাখে নিচে। অন্য পরিবারের শিশুরা বড়দিনের আয়োজন দেখতে আসে। তাদের জন্য থাকে চকোলেট-ক্যান্ডির ব্যবস্থা।

অনলাইন ব্যবসায়ী একা রোজারিও জুলিয়েটের সঙ্গে কথা হলো বড়দিনের আয়োজন নিয়ে। তিনি জানান, মূলত আগের রাত থেকেই শুরু হয় উৎসব। রাতে গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করা হয়। পরদিন সকালে নতুন কাপড় পরে আবার প্রার্থনা করতে যান গির্জায়। একে অন্যের সঙ্গে চলে শুভেচ্ছা বিনিময়। অনেক গির্জায় শিশুদের জন্য উপহার নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন সান্তাক্লজ। অনুষ্ঠান শেষে কীর্তন, যিশুকে নিয়ে বানানো গান খাওয়া হয় খোল ও খঞ্জরি নিয়ে। একা জানালেন, গ্রামে অনেক তরুণ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কীর্তন করেন। সেখান থেকে পাওয়া বকশিস নিয়ে চলে তাদের পিকনিক আয়োজন।

নানা রকম পিঠা থাকে আয়োজনে

বড়দিন উপলক্ষে ঘরে গোশালা ঘর বানিয়ে রাখা হয় যিশুর ছোট মূর্তি। চলে মজার সব পিঠাপুলির আয়োজন। ছাঁচ পিঠা, নকশি পিঠা, মালপোয়া, পুলি পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠার গন্ধে ভরে ওঠে ঘর। পাশাপাশি বড়দিনের কেক তো থাকেই। অনেকে বাড়িতে বানায়, অনেকে আবার অর্ডার দিয়ে কিনে আনে। প্রার্থনা শেষে এসব মজার মজার খাবার খেয়ে নতুন কাপড় পরে আশীর্বাদ নিতে যাওয়া হয় বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি। তখন অতিথি অ্যাপায়নে পরিবেশন করা হয় পোলাও, গরুর মাংস। দিনব্যাপী চলে বড়দিনের আনন্দ।

ক্রিসমাস ট্রি সাজানো চলে ঘরে ঘরে। ছবি দিয়েছেন একা রোজারিও জুলিয়েট

একা জানালেন, ছোটবেলায় কাগজ কেটে কেটে ঘর সাজানো হতো। এখন সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে ব্যস্ততার কারণে। আগে দেশে ক্রিসমাস ট্রি ও সাজানোর উপকরণ খুব একটা পাওয়া যেত না। অনেকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসতো। তবে এখন ৩০০/৪০০ টাকার মধ্যেই ছোটখাট ক্রিসমাস ট্রির আয়োজন করা যায়। শিশুরা মনের আনন্দে সাজায় ক্রিসমাস ট্রি। নতুন বছর পর্যন্ত চলে বড়দিনের আমেজ।

কাকরাইল চার্চের ফাদার গোমেজ জানালেন, আগের দিন রাত সাড়ে আটটা থেকেই শুরু হয় গির্জার প্রার্থনা আয়োজন। সকালেও থাকে প্রার্থনা। এছাড়া বাড়িতে বাড়িতে বিশেষ খাবার তো থাকেই। কেক, পিঠা, পোলাও, মাংসের আয়োজন করা হয়। জানালেন, আগে ঘরে তৈরি খাবারের আয়োজন আর বেশি থাকতো। বর্তমানে ব্যস্ততার কারণে বেশ ভাটা পড়েছে সেই আয়োজনে। তবে সবাই সাধ্যমতো মজার খাবার রাখেন মেন্যুতে। 

/এনএ/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
শরীয়তপুরে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলা
শরীয়তপুরে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলা
ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে সংযুক্তিকরণের অনুমোদন রুশ পার্লামেন্টের
ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে সংযুক্তিকরণের অনুমোদন রুশ পার্লামেন্টের
বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেলো ভ্যানের ২ যাত্রীর
বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেলো ভ্যানের ২ যাত্রীর
মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩
মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩
এ বিভাগের সর্বশেষ
পূজার আয়োজনে থাকুক ঘরে তৈরি রসমালাই
পূজার আয়োজনে থাকুক ঘরে তৈরি রসমালাই
যে ৬ কারণে চুলের যত্নে ব্যবহার করবেন ডিম
যে ৬ কারণে চুলের যত্নে ব্যবহার করবেন ডিম
ড্রাগন ফল খাওয়ার ১০ উপকারিতা
ড্রাগন ফল খাওয়ার ১০ উপকারিতা
পানিতে থাকা গাছে কোন সার দেবেন?
পানিতে থাকা গাছে কোন সার দেবেন?
পূজা স্পেশাল সন্দেশ বানাবেন যেভাবে
পূজা স্পেশাল সন্দেশ বানাবেন যেভাবে