X
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

শিশুদের টনসিলের সমস্যা ও প্রতিরোধের উপায়

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১৫:১৪
imagedocument

টনসিল হচ্ছে মূলত মুখ গহ্বরের অভ্যন্তরে গলার একদম উপরিভাগের কিছু মাংসপিণ্ড, যা লিম্ফ টিস্যু দিয়ে গঠিত। এটি চারটি গ্রুপে থাকে। জিহ্বার পেছনের দিকে থাকে লিংগুয়াল টনসিল, গলার দুই পাশে প্যালাটাইন টনসিল এবং  নাসারন্ধ্রের পেছনে ন্যাসোফ্যারিংক্সের মধ্যে অ্যাডেনয়েড টনসিল। যার অপর নাম ন্যাসোফ্যারেঞ্জিয়াল টনসিল। আর তার কাছাকাছি থাকে টিউবাল টনসিল। টনসিল গ্রন্থি সমূহ  অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করে।

টনসিলাইটিস বলতে সাধারণত প্যালাটাইন টনসিল তথা যে দুটি টনসিল গলার উপরিভাগে দুই পাশে বিস্তৃত, তার মধ্যে কোনও প্রদাহ হলে তাকে টনসিল রোগ বা টনসিলাইটিস বলে। টনসিল সাধারণত সব বয়সেই হয় থাকে, তবে ৫ থেকে ১৫ বছরের শিশু কিশোরদের টনসিলাইটিস হওয়ার প্রবণতা বেশি।

টনসিলাইটিস এর কারণ

সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দিয়ে টনসিলাইটিস হয়। উদাহরণস্বরূপ কেউ যদি রেস্পাইরেটরি ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয়, তাহলে তার টনসিল আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

আবার অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় পান করলেও মুখ গহ্বরের অভ্যন্তরে অবস্থিত সাধারণ উপকারী অনুজীবগুলো টনসিলের মধ্যে কোলোনাইজেশন হয়ে ইনফেকশন হতে পারে৷

যাদের ইমিউনিটি দুর্বল, তাদের যেকোনো সর্দি-জ্বর বা সর্দি-কাশির পর বা যেকোনো রেস্পাইরেটরি ভাইরাস ইনফেকশন হওয়ার পর সেকেন্ডারি ইনফেকশন হিসেবে টনসিলাইটিস হতে পারে।

শীতকালে সিজনাল ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য সিজনাল ভাইরাল ইনফেকশনের পরিমান বেড়ে যাওয়ার কারণে টনসিল ইনফেকশনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। 

টনসিলাইটিস এর উপসর্গ

 ১. মুখ গহ্বরের পেছনে গলার উপরিভাগের দুই পাশে  লাল হয়ে ফুলে যাবে।

২. টনসিলের আসেপাশে সাদা কিংবা হলুদ র‍্যাশ  দেখা দেবে।

৩. গলা ব্যথা।  

৪. ইনফেকশনের কারণে জ্বর আসতে পারে।

৫. খাবার গলাধঃকরণ করতে ব্যথা হওয়া।

৬. কাঁধের আশেপাশে লিম্প নোডগুলে ফুলে যাওয়া।

৭। মাথা ব্যথা।  

৮। স্বর পরিবর্তন হয়ে যাবে।

৯। নিঃশ্বাসের সাথে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।

যাদের পরপর টনসিল ইনফেকশন হয় তাদের ক্ষেত্রে খাবারের রুচি কমে যায়।

মুখে দুর্গন্ধ বের হয় ও  রাতে নাক ডাকার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

বাচ্চাদের টনসিলাইটিস হলে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। মুখ দিয়ে লালা বের হয়। খাবার খেতে চায় না, কান্নাকাটি করে। খাবার খাওয়াতে চাইলে কান্নার পরিমাণ বেড়ে যাবে।

বাচ্চাদের টনসিলের প্রতিকার

১. টনসিল প্রতিকারের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা মেনে চলা অপরিহার্য। 

২. ভালোভাবে হাত ধুয়ে খাবার খাওয়া।

৩. ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে না যাওয়া।

৪. এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে তা দিয়ে গার্গল করে কুলি করা ৭-১০ বার।

৫. নিয়মিত মধু ও কালোজিরার তেল খাওয়া। 

বাচ্চাদের টনসিলের চিকিৎসা কী? 
ব্যথার জন্য ব্যথানাশক ট্যাবলেট ও ইনফেকশনের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা লাগতে পারে। সাথে মুখের ভেতরে যেন ইনফেকশন না ছড়ায় সেজন্য ওরাল হাইজিন মেইনটেইন করার জন্য পভিডন মাউথ ওয়াশ গরম পানির সাথে ২-৩ চামচ করে এক গ্লাস  গরম পানিতে মিশিয়ে  ২-৩ ঘন্টা পরপর গার্গল করে কুলি করা যেতে পারে।

বাচ্চাদের কখন অপারেশন লাগতে পারে?

১. যদি বছরে ৭ বারের বেশি টনসিল ইনফেকশন হয়। অথবা যদি পরপর ৩ বছর প্রতি বছর ৩ বারের বেশি টনসিল ইনফেকশন হয়। 
২. যদি টনসিলের আশেপাশে অ্যাবসেস বা পুঁজ হয়ে যায়।
৩. যদি মুখের ঔষধে সুস্থ না হয়।
৪. লাগাতার গলা ব্যথা থাকলে।
৫. শ্বাস নিতে কষ্ট হলে।
৬. সবসময় মুখে দুর্গন্ধ থাকলে।

অপারেশন করা হয় পরিপূর্ণ অজ্ঞান করে। অপারেশন করতে ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে। এক্ষেত্রে টনসিলগুলো কেটে বের করে ফেলা হয়। অপারেশনের পরেও ব্যক্তিগত সুরক্ষা মেনে চলা অপরিহার্য। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

/এনএ/
সম্পর্কিত
ফল ও সবজি দ্রুত কাটার টিপস
ফল ও সবজি দ্রুত কাটার টিপস
কিশমিশ ভেজানো পানি খাবেন কেন?
কিশমিশ ভেজানো পানি খাবেন কেন?
আমলকীর জেলি বানাবেন যেভাবে
আমলকীর জেলি বানাবেন যেভাবে
ভিটামিন ডি ঘাটতি বুঝবেন যেসব লক্ষণে
ভিটামিন ডি ঘাটতি বুঝবেন যেসব লক্ষণে
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
ফল ও সবজি দ্রুত কাটার টিপস
ফল ও সবজি দ্রুত কাটার টিপস
কিশমিশ ভেজানো পানি খাবেন কেন?
কিশমিশ ভেজানো পানি খাবেন কেন?
আমলকীর জেলি বানাবেন যেভাবে
আমলকীর জেলি বানাবেন যেভাবে
ভিটামিন ডি ঘাটতি বুঝবেন যেসব লক্ষণে
ভিটামিন ডি ঘাটতি বুঝবেন যেসব লক্ষণে
সব ধরনের ত্বকের যত্ন নেবে আলুর প্যাক
সব ধরনের ত্বকের যত্ন নেবে আলুর প্যাক
© 2022 Bangla Tribune