জাপানিরা কীভাবে শত বছর বাঁচে জানেন?

জীবনযাপন ডেস্ক
২৭ অক্টোবর ২০২৪, ১৯:৪২আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ২০:৩৭

জাপানের একটি দ্বীপপুঞ্জ হচ্ছে ওকিনাওয়া। বিশ্বের পাঁচটি নীল অঞ্চলের মধ্যে একটি এটি। অঞ্চলটি বিখ্যাত কেন জানেন? বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘজীবী মানুষের আবাসস্থল এখানেই। ২০২১ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, প্রতি ১ হাজার ৪৫০ জনের মধ্যে একজন জাপানি ব্যক্তির বয়স শত বছরেরও বেশি এবং শতবর্ষের নারী ৮৮.৪ শতাংশ। ওকিনাওয়া শতবর্ষী অধ্যয়ন গবেষণা দলের একজন সদস্য ডক্টর ব্র্যাডলি উইলকক্স। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দ্বীপে শতবর্ষীদের নিয়ে গবেষণা করছেন। ব্র্যাডলি উইলকক্স অঞ্চলটির দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের কিছু রহস্য ব্যাখ্যা করেন একটি প্রতিবেদনে। 

১। ওকিনাওয়ার নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক সংযোগ অনেক বেশি। সামাজিকীকরণ তাদের দীর্ঘজীবন লাভের ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর অবদান রাখে। বেশি বয়সে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার একটি কারণ।

২। স্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর ভীষণ গুরুত্ব দেয় দ্বীপটির বাসিন্দারা। বয়স্ক ওকিনাওয়ানরা বিশ্বাস করে যে দেহ একটি পবিত্র স্থান এবং আপনার এটিকে দূষিত করা উচিত নয়। তারা পরিমিতভাবে অ্যালকোহল পান করে এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। তারা শারীরিকভাবেও খুব সক্রিয় থাকে। এতে শরীরে বাড়তি চর্বি জমে না। মূলত উদ্ভিজ্জ খাবারই খায় এখানকার নাগরিকরা। তারা দিনে প্রায় এক কেজি শাকসবজি এবং ফল খায়। লেবু ও সয়াবিন থাকে প্রায় প্রতিটি খাবারের সঙ্গেই। রুটির পরিবর্তে প্রধান কার্বোহাইড্রেট হিসেবে মিষ্টি আলু পছন্দ ওকিনাওয়ার নাগরিকদের। মিষ্টি আলুর রঙিন ফ্ল্যাভোনয়েড যৌগ সুস্থ থাকতে সাহায্য করে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। 

৩। ইতিবাচক মনোভাব ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। তারা সাধারণত আশাবাদী হয়। জীবন উপভোগ করার এই গুণ তাদের দিয়েছে দীর্ঘজীবন। 

৪। ওকিনাওয়ানদের জীবনে অবসর বলে কোনও শব্দ নেই। একজন কৃষক শেষ বয়স পর্যন্ত চাষ করেন। তারা ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। সারা জীবন শারীরিক এবং মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা তাদের দীর্ঘায়ু লাভের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

৫। ওকিনাওয়ানরা আধ্যাত্মিকতা বা ধর্মকে ভীষণ গুরুত্ব দেয়। তাদের নিজস্ব আদিবাসী ধর্ম রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে সবকিছুর মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে। তারা ধর্মচর্চাকে প্রাধান্য দেয় এবং প্রতিটি গ্রামে থাকে একজন পুরোহিত। 


তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরাম 

/এনএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে চোট, ভারত সিরিজে অনিশ্চিত রাচিন
বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে চোট, ভারত সিরিজে অনিশ্চিত রাচিন
‘১৭ বছর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে’
‘১৭ বছর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে’
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’
সর্বাধিক পঠিত
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের
তিন নামকরা হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
তিন নামকরা হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
৩ দফা বদলি, অবশেষে উপজেলা ছাড়লেন সেই এসিল্যান্ড
৩ দফা বদলি, অবশেষে উপজেলা ছাড়লেন সেই এসিল্যান্ড
জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে যেভাবে ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী
জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে যেভাবে ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী
লংমার্চের সভামঞ্চে একদিনের জন্য বসেছে বিদ্যুতের মিটার, এক এলাকাতেই ৫০০ পুলিশ
লংমার্চের সভামঞ্চে একদিনের জন্য বসেছে বিদ্যুতের মিটার, এক এলাকাতেই ৫০০ পুলিশ