সারাক্ষণ শারীরিক অসুস্থতার দুশ্চিন্তা হওয়া এবং বার বার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরেও স্বাভাবিক রিপোর্ট আসাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইলনেস অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ বলা হয়, যা আগে হাইপোকন্ড্রিয়াসিস নামে পরিচিত ছিল। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-
‘বডি স্ক্যানিং’ কমানো
যাদের এই সমস্যা থাকে, তারা সারাক্ষণ শরীরের খুঁটিনাটি পরিবর্তন (যেমন—হালকা মাথাব্যথা বা একটু বেশি পালস রেট) পর্যবেক্ষণ করেন। এই অতি-সতর্কতা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। চেষ্টা করতে হবে শরীরের দিকে অতি-মনোযোগ না দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে।
‘সাইবারকোন্ড্রিয়া’ বা গুগল সার্চ বন্ধ করা
সামান্য উপসর্গ নিয়ে ইন্টারনেটে বা গুগলে সার্চ করলে অনেক সময় সাধারণ লক্ষণকেও বড় কোনও রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখানো হয়। এটি মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
দুশ্চিন্তার বিকল্প ব্যাখ্যা খোঁজা
শরীরের প্রতিটি অনুভূতিই কোনও বড় রোগের সংকেত নয়। অনেক সময় মানসিক উদ্বেগের কারণেই শরীরে নানা শারীরিক উপসর্গ (যেমন—বুক ধড়ফড়, নিশ্বাসের সমস্যা, পেশির টান) দেখা দেয়। যখনই খারাপ কিছু মনে হবে, তখন নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে, ‘এটি কোনও রোগ নয়, এটি কেবল আমার দুশ্চিন্তার একটি শারীরিক প্রকাশ।’
চিকিৎসকের ওপর আস্থা রাখা
একই সমস্যার জন্য বারবার বিভিন্ন ডাক্তার পরিবর্তন না করে একজন বিশেষজ্ঞের ওপর ভরসা রাখা জরুরি। যদি তিনি বলেন শারীরিক কোনও সমস্যা নেই, তবে বারবার টেস্ট করানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
থেরাপি এবং পেশাদার সাহায্য
এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি। একজন দক্ষ মনোবিজ্ঞানী বা সাইকোথেরাপিস্টের মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা শেখা যায়। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে স্বল্প মেয়াদে ওষুধ সেবন উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে।
সচেতনতা ও রিলাক্সেশন
নিয়মিত যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। যখন মন শান্ত থাকে, তখন তুচ্ছ শারীরিক অস্বস্তি বড় হয়ে ধরা দেয় না।
লেখক: মনোরোগ চিকিৎসক








