বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের নানা পরিবর্তন আসবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে জীবনযাপনের ধরনটাও যদি বদলে নেওয়া যায়, তাহলে বয়সকে অনেকটাই সামলে রাখা সম্ভব। অভিনেত্রী টাবু জীবনযাপনের দিকে তাকালে এমন ছবিই সামনে আসে। ৫৪ বছর বয়সেও তার ফিটনেস এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতি নজর কাড়ে। এর পেছনে কোনও কঠিন নিয়ম বা দ্রুত ফল পাওয়ার কৌশল নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের শরীরের প্রতি সচেতন থাকার অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
টাবু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যচর্চা মানেই নিজেকে কষ্ট দেওয়া নয়। শরীর যতটা সামলাতে পারে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিজের রুটিন ঠিক রাখেন তিনি। বয়সের সঙ্গে শরীরের ক্ষমতা বদলায় এই বিষয়টি মেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী শরীরচর্চা করাই তার জীবনযাপনের অন্যতম দিক।
খাদ্যাভ্যাসেও অতিরিক্ত কড়াকড়ির বদলে ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিদিনের খাবারকে অযথা জটিল করে তোলার প্রয়োজন নেই। সাধারণ খাবারও পরিমিত পরিমাণে এবং শরীরের প্রয়োজন বুঝে খেলে তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। অতিরিক্ত তেল-মশলা বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু খাবারের দিকে নজর রাখলেই অবশ্য ফিট থাকা যায় না। শরীরকে সক্রিয় রাখার জন্য নিয়মিত নড়াচড়াও প্রয়োজন। তবে বয়স বাড়ার পর শরীরচর্চার ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া দরকার। অল্প সময়ে বেশি ফল পাওয়ার আশায় শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করার বদলে এমন ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত, যা দীর্ঘদিন ধরে করা সম্ভব।
এই জায়গাতেই টাবুর রুটিনে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব সামনে আসে। যোগাসন শরীরকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি ভারসাম্য ও শরীরের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ সামলাতেও সহায়ক হতে পারে। ফলে শুধু শরীরের গড়ন নয়, শরীর ও মনের সামগ্রিক সুস্থতার দিকটিও গুরুত্ব পায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পুনরুদ্ধারের ক্ষমতাও বদলাতে পারে। তাই বিশ্রাম, খাবার এবং শরীরচর্চার মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। তরুণ বয়সে যে মাত্রায় ব্যায়াম করা সম্ভব, পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছে একইভাবে শরীরকে চাপ দেওয়া সবসময় যুক্তিযুক্ত নয়। নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের মাত্রা ঠিক করাই নিরাপদ।
টাবুর জীবনযাপন থেকে আরও একটি বিষয় শেখার মতো ফিটনেসকে শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়। শরীর সুস্থ রাখা, দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বজায় রাখা এবং নিজের মধ্যে সতেজতা ধরে রাখাও ফিট থাকার অংশ।
অনেকেই বয়স বাড়লে দ্রুত ওজন কমানো বা শরীরের গড়ন বদলানোর জন্য কঠোর ডায়েট কিংবা অতিরিক্ত শরীরচর্চার দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ধরে রাখতে এমন পদ্ধতির বদলে ধারাবাহিক অভ্যাস বেশি কার্যকর। পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, নিজের শরীরের সীমাবদ্ধতা বোঝা এবং প্রয়োজনমতো রুটিন বদলে নেওয়াই হতে পারে বাস্তবসম্মত পথ।
তাই ৫৪ বছর বয়সে টাবুর ফিটনেস দেখে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো তার মতো দেখতে হওয়ার চেষ্টা নয়। বরং নিজের বয়স ও শরীরের প্রয়োজন বুঝে জীবনযাপন করাই আসল। খাবারে সংযম, শরীরকে সক্রিয় রাখা, যোগব্যায়ামের মতো উপযুক্ত অনুশীলন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেই অভ্যাস বজায় রাখার মধ্যেই সুস্থ থাকার ভিত্তি তৈরি হতে পারে।








