প্রতিদিন ঘর মোছার পরও মেঝেতে থেকে যাচ্ছে ময়লার ছোপ, তেলচিটে ভাব কিংবা চা-কফির দাগ? শুধু পানিতে সাবান বা ফিনাইল মিশিয়ে মেঝে মুছলেই সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। বরং মেঝেতে জমে থাকা পুরোনো ময়লা আগে আলগা করে নেওয়া গেলে পরিষ্কার করা অনেক সহজ হতে পারে।
বাড়ির মেঝেতে প্রতিদিন ধুলো, জুতোর দাগ, খাবারের কণা, তেল ও নানা ধরনের ময়লা জমে। নিয়মিত মোছার পরও এসবের কিছু অংশ মেঝের উপরিভাগে আটকে থাকে। পরে শুধু ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলে সেই ময়লা পুরোপুরি না উঠে ছড়িয়ে যেতে পারে।
তাই সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিয়মিত মোছার পাশাপাশি একটু গভীরভাবে পরিষ্কার করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
প্রথমে শুকনো মেঝে পরিষ্কার
মেঝে পরিষ্কারের আগে শুধু ঝাঁটা দেওয়ার পরিবর্তে শুকনো অবস্থায় জমে থাকা ময়লা আলগা করার দিকে নজর দিন। বিশেষ করে টাইলস বা মার্বেলের মেঝেতে দাগযুক্ত জায়গাগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে সমপরিমাণ বেকিং সোডা ও লবণ মিশিয়ে দাগযুক্ত অংশে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন। এরপর নরম স্ক্রাবার দিয়ে হালকা হাতে ঘষে আলগা করে ফেলুন ময়লা।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, সব ধরনের মেঝেতে লবণ বা বেকিং সোডা ব্যবহার নিরাপদ নয়। পালিশ করা মার্বেল, প্রাকৃতিক পাথর কিংবা বিশেষ ধরনের ফিনিশে ঘষাঘষি করলে দাগ বা ক্ষতি হতে পারে। তাই আগে মেঝের ছোট ও আড়াল থাকা জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
এরপর ভেজা কাপড়ের পালা
শুকনো ময়লা ও দাগের স্তর আলগা করার পর মেঝে ঝেড়ে নিন। এরপর পরিষ্কার পানি ও উপযুক্ত ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মেঝে মুছুন। প্রয়োজন হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
অতিরিক্ত সাবান বা ফিনাইল ব্যবহার করলেই মেঝে বেশি পরিষ্কার হবে, এমন নয়। বরং বেশি রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ মেঝেতে থেকে গেলে তা আঠালো অনুভূতি তৈরি করতে পারে এবং দ্রুত ধুলো আটকে যেতে পারে।
গরম পানি কি ব্যবহার করবেন?
কিছু ক্ষেত্রে হালকা গরম পানি মেঝে পরিষ্কারে সহায়ক হতে পারে। তবে সব ধরনের টাইলস, পাথর বা ফ্লোরিংয়ের জন্য গরম পানি উপযোগী নয়। তাই মেঝের ধরন ও ক্লিনিং প্রোডাক্টের নির্দেশনা দেখে পানি ব্যবহার করাই নিরাপদ।
বিশেষ করে কোনও রাসায়নিক ক্লিনার একসঙ্গে অন্য ক্লিনারের সঙ্গে মেশানো উচিত নয়। ফিনাইল, ব্লিচ, অ্যাসিডজাতীয় ক্লিনার বা অন্য রাসায়নিক একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে।
সপ্তাহে এক দিন গভীর পরিষ্কার
প্রতিদিনের ধুলো-ময়লা সরানোর পাশাপাশি সপ্তাহে এক দিন মেঝের কোণা, আসবাবের নিচের অংশ, দেয়ালের পাশ এবং বেশি ব্যবহৃত জায়গাগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারেন।
চা, কফি, তেল বা খাবারের দাগ পড়লে শুকিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত পরিষ্কার করাই ভালো। দাগ যত বেশি সময় মেঝেতে থাকে, তা তত কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সবশেষে, মেঝে চকচকে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কোনো একটি ‘জাদুকরি’ মিশ্রণ নয়; বরং নিয়মিত পরিষ্কার করা, মেঝের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্লিনার ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক না দেওয়া।
একটু নিয়ম মেনে পরিষ্কার করলেই প্রতিদিনের মেঝে মোছার কাজ হতে পারে আরও কার্যকর। আর ঘরও থাকবে পরিচ্ছন্ন ও সতেজ।








