প্যারিসে বিজনেস অব ফ্যাশন (বিওএফ) গালায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে নজর কাড়লেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। বাংলার মসলিনে তৈরি বিশেষ শাড়ি আর নজরকাড়া অলংকৃত হাতার সাজে গালার আসরে উপস্থিত হন তিনি। জাহ্নবীর এই বিশেষ সাজের দায়িত্বে ছিলেন রিয়া কাপুর। পোশাকটি তৈরি করেছে পঙ্কজ এস হেরিটেজ।
জাহ্নবীর পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপ। কোমরের কাছে শাড়িতে রাখা হয়েছিল আড়াআড়ি ভাঁজের বিশেষ নকশা। সঙ্গে ছিল কাঠামোবদ্ধ লিনেনের কুচি। শাড়ির আঁচল শরীরের ওপর দিয়ে জড়িয়ে কবজির চারপাশে পেঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তা কুচির পাশ দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে পুরো সাজে তৈরি হয়েছিল একদিকে ঐতিহ্যের আবহ, অন্যদিকে আধুনিক নকশার ছাপ।
তবে জাহ্নবীর সাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ব্লাউজের হাতা। হাতাজুড়ে ছিল একাধিক সোনালি বৃত্তাকার অলংকরণ। তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল হালকা গোলাপি রঙের ঝালর, যা হাতের নিচের অংশ পর্যন্ত নেমে এসেছিল। রিয়ার দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হাতার অলংকরণে ব্যবহার করা হয়েছিল পোলকি, গারনেট ও পান্না। এর সঙ্গে ছিল সরাফা ঝালর, কিরণ ও রেশমের কাজ।
পোশাকের কাপড় নিয়েও বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। রিয়া কাপুর জানিয়েছেন, জাহ্নবীর শাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের বেঙ্গল মসলিন। অপরিশোধিত ও প্রাকৃতিক রঙের এই মসলিনকে বলা হয় ‘খুদ-রং’। বাতাসের মতো হালকা বুননের কারণে এর পরিচিতি রয়েছে ‘বাফত-ই-হাওয়া’ নামেও। ‘শবনমি’ বা ‘চাঁদনি’ নামেও এই সূক্ষ্ম মসলিন পরিচিত। রিয়ার ভাষায়, এটি বিলাসবহুল মসলিনের অন্যতম নিখুঁত রূপ। পুরো মসলিন খাদিই ভারতে বোনা হয়েছে।
পোশাকের জাঁকজমককে সামনে রাখতে গয়নায় ছিল সংযমের ছাপ। জাহ্নবী বেছে নিয়েছিলেন শুধু সোনালি রঙের ছোট স্টাড দুল। গলায় বা হাতে বাড়তি কোনও গয়না রাখেননি তিনি। চুল মাঝখান থেকে সিঁথি করে টেনে নিয়ে পরিপাটি খোঁপায় বেঁধেছিলেন। ফলে নজর ছিল মূলত মসলিনের শাড়ি ও অলংকৃত হাতার দিকেই।
রিয়া কাপুর জাহ্নবীর এই সাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পরই তা নজর কাড়ে। ছবিতে জাহ্নবীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিক নকশার সংমিশ্রনটির প্রশংসা করেছেন অনুরাগীরা। প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আসরে ভারতীয় বয়নশিল্প ও মসলিনের ঐতিহ্যকে এভাবে তুলে ধরা জাহ্নবীর সাজকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।