পেশাগত মানসিক চাপ: আড়ালে থেকে যায় যে লড়াই

আসাদ আবেদীন জয়
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০

পেশাগত দায়িত্বের চাপ, কর্মক্ষেত্রের প্রতিকূলতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা কিংবা ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে মানসিক চাপে পড়েন বিভিন্ন পেশার মানুষ। সাংবাদিককে সামলাতে হয়কাজের চাপ ও পেশাগত নানা প্রতিকূলতা, শিক্ষককে মোকাবিলা করতে হয় প্রশাসনিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ, আর পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হয় নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে। অথচ এসব পেশার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর্মক্ষেত্রে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞের বক্তব্যে উঠে এসেছে, পেশাগত চাপ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করা।

পেশাগত চাপে বিপর্যস্ত কর্মজীবন

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পেশাগত চাপ সামলাতে গিয়ে কেউ যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, সে বিষয়ে আমাদের তাগিদ আছে। পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটে। এসব পরিস্থিতিতে সদস্যদের মনোবল চাঙা রাখতে সিনিয়র অফিসাররা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে পেশাগত মানসিক চাপ সামলানোর জন্য আমাদের আলাদা কোনও কাউন্সেলর বা এ ধরনের পেশাজীবীর ব্যবস্থা নেই। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে এখনও তেমন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এমনকি আমাদের হাসপাতালগুলোতেও এ ধরনের কোনও ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি নিয়ে এখনও চিন্তাভাবনা চলছে।

মানসিক চাপ সামলানোর বিষয়ে পুলিশের সদস্যদের কাউন্সেলিং করা হয় কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমাদের কোনও মেডিক্যাল কনসালট্যান্ট বা এ ধরনের পেশাজীবীর সঙ্গে আলাদা কোনও ব্যবস্থা নেই। তবে সিনিয়র অফিসাররা সাধারণত কল্যাণসভা বা বিভিন্ন সভায় সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মনোবল চাঙা রাখার চেষ্টা করেন। এ ধরনের উদ্যোগ আগে থেকেই রয়েছে। তবে তা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হয়। একজন কমান্ডার হয়তো সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেন এবং সে অনুযায়ী উদ্যোগ নেন। আবার কোনও কোনও জায়গায় এ বিষয়ে ততটা যত্নশীল না হওয়ার কারণে বিষয়গুলো উপেক্ষিতও থাকে। এ ক্ষেত্রে কমবেশি পার্থক্য রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব সময়ই সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতে, তাদের সমস্যাগুলো শুনতে এবং কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়।

সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ, শিশুসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিষয়ক নিবন্ধকার মো. রহমত উল্লাহ্ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একসময় শিক্ষকতাকে খুবই আরামদায়ক পেশা হিসেবে মনে করা হতো। শিক্ষকদের ছুটি বেশি, কর্মঘণ্টা কম, আর্থিক সুবিধাও কম। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকতা পেশা আগের মতো আরামদায়ক ও নিরাপদ নেই। বিশেষ করে, শিক্ষকদের মানসিক চাপ এখন অনেক বেশি। প্রথমত, জবাবদিহি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের এখন অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানসম্পন্ন থাকতে হচ্ছে। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। যারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন ভেবে শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন, তারা আরও বেশি মানসিক চাপ অনুভব করছেন। নতুন করে যুক্ত হয়েছে সবচেয়ে বড় একটি চাপ—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভয়ে তটস্থ থাকা। শিক্ষার্থীদের শাসন করা তো দূরের কথা, উপদেশ দেওয়ার পরিবেশও এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকূল হয়ে পড়েছে। প্রাণ খুলে শিক্ষকতা করার পরিবেশ না থাকা একজন শিক্ষকের জন্য কতটা মানসিক চাপের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের জন্য আরেকটি বড় মানসিক চাপ হলো, যখন যে দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের মতাদর্শ অনুসারে রচিত পাঠ্যবই পড়াতে হয়। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা নিচের শ্রেণিতে থাকতে যে ইতিহাস পড়িয়েছেন, সেই শিক্ষার্থীরা ওপরের শ্রেণিতে ওঠার পর তাদেরই সম্পূর্ণ বিপরীত ইতিহাস পড়াতে বেশিরভাগ শিক্ষক এসব চাপ মোকাবিলায় তেমন কোনও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করতে পারছেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন যেমন, তখন তেমন হয়ে নিজেকে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। এটিও এক ধরনের চাপ। কেউ কেউ আপসকেও চাপ মোকাবিলার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। শিক্ষকদের এসব চাপ থেকে মুক্ত করে স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠদানের পরিবেশ তৈরি করা সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এখানে শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিক চাপকেও মোকাবিলা করতে হয়। একজন শিশুকে পড়াতে হলে আপনার আচরণেও শিশুসুলভ মনোভাব তৈরি করতে হয় তা না হলে মানসিক চাপে আপনি ভেঙে পড়বেন। এই বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পিটি আইগুলোতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এত প্রশিক্ষণ সত্ত্বেও অনেকেই এই চাপ শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে পারেন না এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক সংবাদকর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারেন। যেমন- একজন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী বা বিশেষ প্রতিবেদন করতে হলে, সেটি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তার মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ কাজ করে। আবার অনেক সময় নিজের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও তাকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়। এটিও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের দেশের অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয় না। কোথাও বেতন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, আবার অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারিশ্রমিক পান না। এ কারণে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকেরা অনেক সময় বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এমনকি পরিবারের কোনও সদস্য বা আত্মীয়স্বজন মারা গেলেও অনেক সময় তাদের পক্ষে সেখানে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আবার সহকর্মীদের আচরণও অনেক সময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোনও কোনও সহকর্মী অন্যের ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না। সহকর্মীদের এমন আচরণের কারণেও একজন সাংবাদিক মানসিক চাপে পড়েন। সবশেষে বলবো রাজনৈতিক কারণেও একজন সাংবাদিককে অনেক সময় দ্বিধা বা সংকোচের মধ্যে পড়তে হয়। তার চিন্তাভাবনা ও কাজের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। ভিন্নমতাবলম্বী সহকর্মীরা অনেক সময় তার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে ছোট করার চেষ্টা করেন। আমার কাছে এগুলোই সাংবাদিকদের মানসিক চাপের অন্যতম কারণ বলে মনে হচ্ছে।

মানসিক চাপের কারণে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে একটা সময় একজন মানুষ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন না। তার মধ্যে কর্মস্পৃহা ও উদ্যম কমে যায়। একপর্যায়ে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন এবং মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। আবার এসব কারণে অনেক সাংবাদিক তার পেশা থেকে ছিটকে পড়েন কিংবা পছন্দের পেশা ত্যাগ করেন।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মিডিয়া হাউজে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কাউন্সিলিংয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই। দুই একটি প্রতিষ্ঠান এটা করলেও করতে পারে। অথচ এটা একজন সাংবাদিকের জন্য অনেক জরুরি।  শুধু সাংবাদিক বললে ভুল হবে এ ধরনের পেশার সবার জন্যই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। 

কর্মক্ষেত্রে কেন প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা

পেশাগত জীবনের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট রাউফুন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মানুষের জীবনের যেকোনও পর্যায়েই মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সব বয়সেই মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে সন্তানকে কীভাবে বড় করতে হবে, তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কীভাবে নিতে হবে এবং তার বিকাশ কীভাবে নিশ্চিত করতে হবে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। উন্নত বিশ্বের স্কুলগুলোতে স্কুলে সাইকোলজিস্ট থাকেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও মনোবিজ্ঞানী থাকেন। একইভাবে, কেউ যখন পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন, তখন তার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় একজন মানুষকে একদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়, অন্যদিকে পরিবারের সদস্য, মা-বাবা ও সন্তানদের দেখাশোনা করতে হয়। ফলে একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তার ওপর মানসিক চাপ বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহায়তা দরকার হতে পারে। কিছু পেশায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে বেশি। যেমন- ফ্রন্টলাইন ফাইটার বা সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা, যারা বিভিন্ন ধরনের আঘাতজনিত বা সংকটপূর্ণ ঘটনার মুখোমুখি হন। সাংবাদিক, চিকিৎসক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা এ ধরনের পেশার অন্তর্ভুক্ত। এসব পেশায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা সুপারিশ করি।

এ ছাড়া আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিছু ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কর্মীদের জন্য স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ মোকাবিলার বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক বা অন্য প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দল রাখার সামর্থ্য না-ও রাখে, তারপরও অন্তত দুই মাস পরপর দলগত কর্মশালার আয়োজন করতে পারে। এতে পেশাজীবীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে। কাউন্সেলিং বা এ ধরনের কর্মশালা অনেকটা আয়নার মতো কাজ করে। কাউন্সেলিং বা কর্মশালার মাধ্যমে মানুষ নিজের শক্তিশালী দিক ও সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে পারেন। তার জীবনে কোন বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং কোন বিষয়গুলো তাকে শক্তি জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের সহ্যক্ষমতা সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারেন। তাই আমি মনে করি, কোনও না কোনোভাবে পেশাজীবীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব কিছু নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান অনেক সাংবাদিক নিয়োগ দেয়। সেখানে একজন মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলর নিয়োগ করা খুব বেশি ব্যয়বহুল কিছু নয়।

কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নজর দেওয়া জরুরি

রাউফুন নাহার বলেন, গার্মেন্টস কারখানা থেকে শুরু করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলে তা উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। একজন মানুষ মানসিকভাবে যত সুস্থ থাকবেন, তার কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা তত বেশি থাকবে। এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে, কর্মীরা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এর ফলে কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একটি দায়বদ্ধতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হবে।

মানসিক চাপমুক্ত থাকতে করণীয় কী

কর্মজীবনে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা নিয়ে রাউফুন নাহার বলেন, যারা কর্মজীবনে রয়েছেন, তাদের সবার আগে নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে মানুষের ওপর অনেক দায়িত্ব থাকে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের ধরন ও প্রত্যাশাও কঠিন হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির কারণে কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা এখন আর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি একজন কর্মীর কাছে ২৪ ঘণ্টাই কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার প্রত্যাশা করে, তাহলে ওই কর্মীর পক্ষে দীর্ঘদিন মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। এ বিষয়টি কর্মীদের যেমন বুঝতে হবে, তেমনি নিয়োগকর্তাদেরও উপলব্ধি করতে হবে। এ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সুস্থ সীমারেখা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে কাজের ক্ষেত্রে একটি সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বাড়ছে শিশুদের মানসিক ট্রমা, করণীয় কি?
চারপাশে অনেক মানুষ, তবু নিজেকে কেন একা লাগে
আমরা ভালো নেই... 
সর্বশেষ খবর
গুড়ের মিষ্টি স্বাদে ঘরেই বানান চিড়া মুগ ক্ষীর
গুড়ের মিষ্টি স্বাদে ঘরেই বানান চিড়া মুগ ক্ষীর
বাড়ছে শিশুদের মানসিক ট্রমা, করণীয় কি?
বাড়ছে শিশুদের মানসিক ট্রমা, করণীয় কি?
দোকানে দোকানে সার, কৃষক বলছে ‘পাচ্ছি না’
দোকানে দোকানে সার, কৃষক বলছে ‘পাচ্ছি না’
বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর লড়াইয়ে রিয়ালের বড় পরীক্ষা
বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর লড়াইয়ে রিয়ালের বড় পরীক্ষা
সর্বাধিক পঠিত
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার
এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক  
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক