ব্যস্ত জীবনযাত্রায় শরীরচর্চার জন্য আলাদা করে সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করা, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে কোমর ও পেটের চারপাশে মেদ জমতে পারে। ফলে শরীরের স্বাভাবিক গড়নেও পরিবর্তন আসে। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে সক্রিয় রাখতে এবং পেশির শক্তি বাড়াতে যোগব্যায়াম হতে পারে একটি উপায়। বাড়িতে সহজেই করা যায় এমন কয়েকটি যোগাসনের কথা জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের ফিটনেস ও যোগচর্চার জন্য পরিচিত।
পঞ্চাশ পেরিয়েও শিল্পার শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তাঁর ফিটনেসের রুটিনে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব রয়েছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি আসন করলেই পেটের মেদ কমে যাবে, এমন নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সব কিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব।
সুপ্ত বজ্রাসন
এই আসনে শরীরের নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি পিঠ ও শরীরের সামনের অংশ প্রসারিত হয়। প্রথমে হাঁটু মুড়ে গোড়ালির উপর বসুন। এর পর হাতের সাহায্যে শরীরের উপরের অংশ ধীরে পিছনের দিকে নিয়ে যান। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে পেছনে হেলুন। অভ্যাস না থাকলে প্রথম দিনেই পুরো পিঠ মাটিতে রাখার চেষ্টা করবেন না। কয়েক সেকেন্ড স্বাভাবিক শ্বাস নিয়ে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। হাঁটু, কোমর বা পিঠে সমস্যা থাকলে এই আসন করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হনুমান দণ্ডাসন
শরীরের বিভিন্ন পেশিকে সক্রিয় করতে এই ধরনের দণ্ডভিত্তিক যোগাভ্যাস করা যায়। প্রথমে প্ল্যাঙ্কের ভঙ্গিতে হাত ও পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে শরীর সোজা রাখুন। এর পর কনুই ভাঁজ করে বুক ধীরে নিচের দিকে নামান। সেখান থেকে হাতের সাহায্যে বুক তুলে ভুজঙ্গাসনের মতো অবস্থানে আসুন। পরের ধাপে নিতম্ব উপরে তুলে শরীরকে উল্টো ‘ভি’ আকৃতিতে নিয়ে যান। আবার ধীরে প্ল্যাঙ্কের ভঙ্গিতে ফিরে আসুন। প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে করা প্রয়োজন। নতুনদের ক্ষেত্রে সহজ ভঙ্গি দিয়ে শুরু করাই ভালো।
নৌকাসন
পেট ও শরীরের মাঝের অংশের পেশি সক্রিয় করার জন্য নৌকাসন পরিচিত একটি যোগভঙ্গি। মাদুরে সোজা হয়ে বসে হাঁটু ভাঁজ করুন। ধীরে ধীরে পা মাটি থেকে তুলুন এবং শরীর সামান্য পিছনে হেলিয়ে ভারসাম্য রাখুন। হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে পিঠ যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করুন। প্রথমে কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। পরে অভ্যাস অনুযায়ী সময় বাড়াতে পারেন। ঘাড় বা কোমরে ব্যথা থাকলে কিংবা ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হলে জোর করে এই আসন করবেন না।
ফিট থাকতে অভ্যাসই আসল
যোগাসন শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও পেশির সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে পেটের মেদ কমানোর জন্য হাঁটা বা অন্য নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটুন। খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ উপাদান রাখুন এবং অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার সীমিত করুন। দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত ব্যায়াম না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
সূত্র: এনডিটিভি