বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শিথিলতা ও মুখের স্বাভাবিক ভলিউম কমে আসা এগুলো স্বাভাবিক পরিবর্তন। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন কোলাজেন উদ্দীপক ইনজেকশন। সম্প্রতি ৫০ বছর বয়সে এমনই একটি চিকিৎসা করিয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সীমা সাজদেহ। তিনি ‘স্কাল্পট্রা’ নামের একটি চিকিৎসাপদ্ধতি বেছে নিয়েছেন, যা ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগাতে সাহায্য করে।
তবে এই চিকিৎসা করানোর আগে এর সম্ভাব্য উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি।
কোলাজেন বাড়ানোর ইনজেকশন কী?
স্কাল্পট্রা হলো পলি-এল-ল্যাকটিক অ্যাসিড (পিএলএলএ) দিয়ে তৈরি এক ধরনের ইনজেকশনযোগ্য ডার্মাল ফিলার। এটি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা হয় এবং শরীরের নিজস্ব কোলাজেন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের গঠন, দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের উৎপাদন কমতে থাকে। ফলে ত্বকে বলিরেখা ও শিথিলতা দেখা দেয়।
কী কী উপকার হতে পারে?
ত্বকের দৃঢ়তা ও গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে: কোলাজেন উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগানোর মাধ্যমে ত্বকের গঠন উন্নত করতে পারে এই চিকিৎসা। মুখের কিছু অংশে বয়সের কারণে হারানো ভলিউম ফিরিয়ে আনতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
বলিরেখা কম দৃশ্যমান হতে পারে: নির্দিষ্ট কিছু গভীর বলিরেখা ও মুখের ত্বকের অসমতল ভাব কমাতে স্কাল্পট্রা ব্যবহার করা হয়। তবে ফলাফল ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
ফল পেতে সময় লাগে: অন্যান্য কিছু ফিলারের মতো ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। কোলাজেন তৈরি হতে সময় লাগে বলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন বোঝা যেতে পারে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে একাধিক সেশনের প্রয়োজনও হয়।
কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
ফোলা, ব্যথা ও কালশিটে: ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় সাময়িক ফোলা, লালচে ভাব, ব্যথা বা কালশিটে পড়তে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে চুলকানিও দেখা দিতে পারে।
ত্বকের নিচে গুটি তৈরি: এই চিকিৎসার একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হলো ত্বকের নিচে ছোট পিণ্ড বা গুটি তৈরি হওয়া। কখনও এগুলো ইনজেকশন নেওয়ার কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পরেও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা: বিরল ক্ষেত্রে ভুল করে রক্তনালিতে ইনজেকশন প্রবেশ করলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ত্বকের ক্ষতি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, এমনকি গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে। ইনজেকশনের পর হঠাৎ দৃষ্টিতে পরিবর্তন, অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা বা ত্বক সাদা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে।
কারা সতর্ক থাকবেন?
সবার জন্য এই চিকিৎসা উপযুক্ত নয়। যাদের উপাদানগুলোর প্রতি গুরুতর অ্যালার্জি রয়েছে, কেলয়েড বা অতিরিক্ত উঁচু দাগ তৈরির প্রবণতা আছে, কিংবা ত্বকে সংক্রমণ বা সক্রিয় প্রদাহ রয়েছে, তাদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। রক্তপাতের সমস্যা, রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টিও চিকিৎসককে জানাতে হবে। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় এই চিকিৎসার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়।
চিকিৎসার আগে কী করবেন?
কোলাজেন বাড়ানোর ইনজেকশন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য ও অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। নিজের শারীরিক অবস্থা, অ্যালার্জি, চলমান ওষুধ এবং প্রত্যাশিত ফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। চিকিৎসার সম্ভাব্য ঝুঁকি, প্রয়োজনীয় সেশনের সংখ্যা, পরবর্তী যত্ন ও খরচ সম্পর্কেও আগেই জেনে নেওয়া উচিত।
সীমা সাজদেহের মতো তারকারা নিজেদের সৌন্দর্যচর্চার অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনায় বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে মনে রাখতে হবে, কোলাজেন উদ্দীপক ইনজেকশন বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন পুরোপুরি থামিয়ে দেয় না এবং সবার ক্ষেত্রে একই ফলও নিশ্চিত নয়। তাই শুধু তারুণ্য ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা নয়, নিজের স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি