চকোলেটের নাম শুনলেই অনেকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আর যদি সেটি হয় নরম, মিষ্টি ও ক্রিমি মিল্ক চকোলেট, তাহলে তো কথাই নেই। এটি যেন জিভের জন্য এক মিষ্টি আলিঙ্গন। এক টুকরো খেলেই মনটা একটু ভালো হয়ে যায়। আজ সেই মিষ্টি স্বাদ গ্রহণ করা দিন ‘মিল্ক চকলেট দিবস’।
প্রতি বছর মিল্ক চকোলেট দিবস উদযাপন করা হয় এই জনপ্রিয় মিষ্টি খাবারের স্বাদ, ইতিহাস ও আনন্দকে ঘিরে।
মিল্ক চকোলেটের বিশেষত্ব কোথায়
ডার্ক চকোলেটের তুলনায় মিল্ক চকোলেটের স্বাদ বেশি মোলায়েম ও মিষ্টি। এটি তৈরি হয় কোকো সলিডসের সঙ্গে শুকনো দুধ বা ঘন দুধ মিশিয়ে।
যেখানে ডার্ক চকোলেট অনেক সময় বেকিংয়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেখানে মিল্ক চকোলেট দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের জনপ্রিয় খাবার চকোলেট বার, হট চকোলেট, কেক, ডেজার্টসহ আরও কত কী।
আরও মজার বিষয় হলো, চকোলেট শুধু স্বাদের জন্য নয়, মন ভালো করার সঙ্গী হিসেবেও পরিচিত। এতে থাকা থিওব্রোমিন ও অ্যানানডামাইড নামের যৌগ মস্তিষ্কে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই মিল্ক চকোলেট খাওয়ার জন্য একটি বিশেষ দিন থাকতেই পারে!
দুধ আর চকোলেটের বন্ধুত্বের গল্প
মিল্ক চকোলেটের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুইজারল্যান্ডের এক উদ্ভাবকের নাম ড্যানিয়েল পিটার।
১৮৩৬ সালে সুইজারল্যান্ডের ক্যান্টন ভদের ছোট্ট গ্রাম মউদঁ-এ জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে তার সঙ্গে প্রতিবেশী হেনরি নেসলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নেসলে শিশুদের খাবার তৈরির জন্য মিল্কি ফ্লাওয়ার নামের একটি বিশেষ উপাদান নিয়ে কাজ করছিলেন।
সেই সময় ড্যানিয়েল পিটারের মাথায় আসে এক দারুণ প্রশ্ন। তিনি মনে মনে ভাবতে থাকেন দুধ আর চকোলেট একসঙ্গে মিশিয়ে দিলে কেমন হয়। তার সেই একটি ভাবনাই পরে বদলে দেয় চকোলেটের ইতিহাস।
নতুন স্বাদের খোঁজে ড্যানিয়েল পিটার
সেই সময় চকোলেটের বাজারে আধিপত্য ছিল ক্যালিয়ার, সুচার্ড, কোহলারের মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির।
তাই ড্যানিয়েল পিটার বুঝেছিলেন, টিকে থাকতে হলে নতুন কিছু তৈরি করতে হবে। এমন কিছু, যা মানুষের স্বাদে নতুন আনন্দ যোগ করবে।
আরও পড়ুন-
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি দুধ মেশানো চকোলেট তৈরির পথ তৈরি করেন। ধীরে ধীরে এই নরম ও মিষ্টি চকোলেট ইউরোপ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের মানুষের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
সুইজারল্যান্ড থেকেই শুরু চকোলেটের নতুন অধ্যায়
ড্যানিয়েল পিটারের মিল্ক চকোলেট তৈরির কাজ এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ডের ভেভে অঞ্চলে। এর আগেও এই শহরের সঙ্গে চকোলেটের ইতিহাস জড়িয়ে ছিল। ১৮১৯ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফ্রাঁসোয়া লুই ক্যালিয়ার চকোলেট তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছিলেন।
পরবর্তীতে ড্যানিয়েল পিটারের দুধ মেশানো চকোলেট তৈরির পদ্ধতি আধুনিক মিল্ক চকোলেট শিল্পের ভিত্তি গড়ে দেয়।
গবেষণা অনুযায়ী, জাতীয় মিল্ক চকোলেট দিবস চালু করে কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এই দিনটি চকোলেটপ্রেমীদের জন্য মিষ্টি আনন্দ উদযাপনের একটি উপলক্ষ।
কীভাবে উদযাপন করবেন মিল্ক চকোলেট দিবস
এই দিনে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো—পছন্দের মিল্ক চকোলেট হাতে নিয়ে উপভোগ করা। তবে চাইলে রান্নাঘরে ছোট্ট চকোলেট অভিযানও চালাতে পারেন। তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু চকোলেট ক্যান্ডি বার কেক।
উপকরণ
- ১ প্যাকেট ডেভিল’স ফুড কেক মিক্স
- ১.৫ কাপ দুধ
- ৩টি ডিম
- ৩/৪ কাপ ভেজিটেবল অয়েল
- ১ প্যাকেট ইনস্ট্যান্ট ভ্যানিলা পুডিং মিক্স
- ১ প্যাকেট ক্রিম চিজ
- ১/২ কাপ সাদা চিনি
- ১ কাপ গুঁড়ো চিনি
- ১ পাত্র ফ্রোজেন হুইপড টপিং
- ১ কাপ কুচানো পেকান বাদাম
- ৪টি মিল্ক চকোলেট ক্যান্ডি বার, মোটা করে কাটা
তৈরির পদ্ধতি
ওভেন ৩২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় গরম করে নিন। তিনটি ৮ ইঞ্চি কেক প্যান তেল ও ময়দা দিয়ে প্রস্তুত করুন। কেক মিক্স, দুধ, ডিম, তেল ও ভ্যানিলা পুডিং মিক্স একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রথমে কম গতিতে এবং পরে মাঝারি গতিতে প্রায় ৪ মিনিট বিট করুন। ব্যাটার তিনটি প্যানে ভাগ করে ঢেলে দিন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট বেক করুন। টুথপিক পরিষ্কার বের হলে বুঝবেন কেক তৈরি।
ফ্রস্টিং তৈরির পদ্ধতি
ক্রিম চিজ, সাদা চিনি ও গুঁড়ো চিনি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এতে হুইপড টপিং, পেকান বাদাম ও কাটা মিল্ক চকোলেট মিশিয়ে দিন। কেকের স্তরের মাঝে এবং চারপাশে ফ্রস্টিং লাগিয়ে সাজিয়ে নিন।
তৈরি হয়ে গেল মজাদার মিল্ক চকোলেট ক্যান্ডি বার কেক।
জাতীয় মিল্ক চকোলেট দিবসে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চকোলেট ভাগ করে নেওয়া, নতুন রেসিপি চেষ্টা করা কিংবা ছোট্ট মিষ্টি আয়োজন সবই হতে পারে আনন্দ উদযাপনের দারুণ উপায়। কারণ চকোলেট শুধু খাবার নয়, অনেক সময় এটি এক টুকরো সুখও।

যে দিনটিতে দেরিতে উঠলে মিলতে পারে ‘পানির পুরস্কার’!







