প্রথম দেখায় চোখ আটকে যাবে পোশাকের রঙে। একটু খেয়াল করলেই নজরে আসবে ধাতব ঝিলিক, সূক্ষ্ম কারুকাজ আর শরীরের গড়ন ঘেঁষে নেমে যাওয়া লেহেঙ্গার সিলুয়েট। সব মিলিয়ে যেন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে থাকা এক ফ্যাশন-চিত্র। সেই সাজেই এবার নজর কাড়লেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ।
অভিনেত্রীর পরনে ছিল ডিজাইনার মনীশ মলহোত্রার কাস্টম লেহেঙ্গা। স্মোকড ব্রোঞ্জ ও চারকোল ব্ল্যাকের সংমিশ্রণে তৈরি এই পোশাকে ভারী কারুকাজ থাকলেও রঙের ব্যবহারে ছিল সংযম। ফলে পোশাকটি একদিকে যেমন জাঁকজমকপূর্ণ, অন্যদিকে তেমনই আধুনিক ও পরিশীলিত।
লুকটি প্রকাশ করে মনীশ মলহোত্রা জ্যাকলিনকে বর্ণনা করেছেন ‘একটি আভা’ হিসেবে। তার কথায়, পোশাকটিতে রয়েছে স্মোকড ব্রোঞ্জ, সাবলীল ড্রেপিং, সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি এবং শান্ত আত্মবিশ্বাসে গড়া সিলুয়েট। জ্যাকলিনের উপস্থিতিই যেন সেই নকশাকে সম্পূর্ণ করেছে।
বর্মের মতো ব্লাউজ
জ্যাকলিনের লেহেঙ্গার উপরের অংশেই ছিল প্রথম চমক। কাঠামোবদ্ধ বাস্টিয়ের-ধাঁচের ব্লাউজে রয়েছে আকর্ষণীয় সুইটহার্ট নেকলাইন। তবে এর আসল আকর্ষণ ব্লাউজের কারুকাজে।
বডিসজুড়ে হাতে করা হয়েছে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি। ধাতব রুপালি পুঁতি, ক্রিস্টাল, সিকুইন এবং নানা জটিল মোটিফ একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে ঝলমলে টেক্সচার। ভারী এই কারুকাজ ব্লাউজটিকে দিয়েছে অনেকটা বর্মের মতো দৃঢ় আবহ। ফলে জ্যাকলিনের সাজে যেমন এসেছে রাজকীয়তা, তেমনই যোগ হয়েছে শক্তিশালী আধুনিক নারীত্বের ছাপ।
লেহেঙ্গায় কারুকাজের নানা স্তর
উঁচু কোমরের মারমেইড স্কার্ট জ্যাকলিনের শরীরের গড়ন ঘেঁষে নেমে এসেছে। হাঁটুর নীচে গিয়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে এর ঘের। তবে এই স্কার্টের সৌন্দর্য শুধু তার সিলুয়েটে নয়, বরং প্রতিটি স্তরে ব্যবহৃত আলাদা আলাদা কারুকাজে।
ওপরের অংশে রয়েছে অ্যাবস্ট্রাক্ট ধাতব থ্রেডওয়ার্ক। কোমর ও নিতম্বের কাছে দেখা যায় ফুলের নকশার অ্যাপ্লিকে। আর স্কার্টের নিচের অংশে রয়েছে জালের মতো ল্যাটিস এমব্রয়ডারি।
হেমে এসে কারুকাজ আরও ঘন হয়েছে। ফুলের নকশার সঙ্গে যোগ হয়েছে নানা অলংকরণ। ফলে নিচের অংশটি পেয়েছে বাড়তি ভার ও জৌলুস। দূর থেকে পুরো লেহেঙ্গাটিকে এক রঙের মনে হলেও কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, এর প্রতিটি স্তরে আলাদা গল্প লুকিয়ে রয়েছে।
ভারী কারুকাজের পাশে স্বচ্ছ কালো
এত ভারী কারুকাজের সঙ্গে ডুপাট্টাতেও যদি একই রকম জাঁকজমক থাকতো, তাহলে হয়তো পুরো সাজটাই অতিরিক্ত ভারী দেখাতো। সেই জায়গাতেই এসেছে জ্যাকলিনের স্বচ্ছ কালো ডুপাট্টা।
গলায় জড়ানো ডুপাট্টার দুই পাশ দিয়ে লম্বা প্যানেল নেমে এসেছে। একেবারে মনোক্রোম এই ডুপাট্টা লেহেঙ্গার ধাতব কারুকাজের পাশে তৈরি করেছে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য। ফলে নজর আটকে থেকেছে মূল পোশাকের এমব্রয়ডারি ও সিলুয়েটেই।
গয়নাতেও সংযম
পোশাকের কারুকাজ যখন এতটাই নজরকাড়া, তখন গয়নায় বাড়তি জৌলুস না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। জ্যাকলিনও বেছে নিয়েছেন সেই পথ। কানে ছিল ছোট হিরের স্টাড। সামান্য ঝিলিক যোগ করলেও এই গয়না লেহেঙ্গার জটিল কারুকাজকে ছাপিয়ে যায়নি।
মেকআপেও ছিল একই রকম সংযম। ব্রোঞ্জ টোনের গ্ল্যাম মেকআপে চোখকে দেওয়া হয়েছিল স্পষ্ট সংজ্ঞা। ঠোঁটে ছিল নুড শেড। ফলে মুখে এসেছে উষ্ণতা, কিন্তু পোশাকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেনি মেকআপ।
চুলে ছিল নরম, ভলিউমযুক্ত ব্লো-আউট। সাইড পার্ট করে সাজানো চুলে জ্যাকলিনের লুক পেয়েছে আরও সমকালীন আবহ।
সব মিলিয়ে এই সাজে জ্যাকলিনের লেহেঙ্গা শুধু একটি জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক হয়ে থাকেনি। ধাতব কারুকাজ, গাঢ় রঙের সংযত ব্যবহার, ভাস্কর্যের মতো ব্লাউজ, শরীর ঘেঁষে নেমে যাওয়া স্কার্ট এবং ন্যূনতম গয়নায় এটি হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আধুনিক ফ্যাশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক পরিশীলিত উদাহরণ।









