একসময় স্ট্রোককে মূলত বয়স্কদের অসুখ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু বদলে যাওয়া জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, স্থূলতা, ধূমপান ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মতো নানা কারণে কম বয়সেও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আচমকা কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা হাত-পায়ে দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। যোগাসনের কিছু সহজ ভঙ্গিও দৈনন্দিন শরীরচর্চার অংশ হতে পারে।
তবে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে অবশ্য শুধু শরীরচর্চা নয়, একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়ানো, ওজন ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় না থাকা এসবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকাতেও নিয়মিত মাঝারি থেকে তুলনামূলক বেশি মাত্রার শারীরিক সক্রিয়তাকে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যোগাসনও নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার অংশ হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট যোগাসন একাই স্ট্রোক প্রতিরোধ করে বা মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকায়, এমন দাবি করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, ভারসাম্যের সমস্যা বা আগে স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের নতুন কোনও ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বীরভদ্রাসন: পা দু’টি কিছুটা ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। দু’হাত মাথার উপরে তুলে তালু জোড়া করতে পারেন। এরপর এক পা সামনে রেখে ধীরে ধীরে সেই হাঁটু ভাঁজ করুন এবং পিছনের পা সোজা রাখুন। শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে এসে অন্য পাশেও একইভাবে করুন।
এই আসনে পা, কোমর, কাঁধ ও হাতের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনের অংশ হিসেবে এটি শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আকর্ণ ধনুরাসন: মাটিতে বসে দুই পা সামনে সোজা করে দিন। এবার এক হাত দিয়ে একই পাশের পায়ের আঙুল ধরে ধীরে ধীরে পা কানের দিকে তুলুন। অন্য হাত দিয়ে বিপরীত পায়ের আঙুল ধরে রাখুন। যে পা তুলছেন, সেটি শরীরের দিকে টেনে আনার সময় অন্য পা মাটির দিকে সোজা রাখার চেষ্টা করুন।
এই আসনে পা, কোমর, কাঁধ ও হাতের পেশিতে টান পড়ে এবং শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য নিয়ে কাজ করা যায়।
পদহস্তাসন: সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পা দু’টি স্বাভাবিক দূরত্বে রাখুন। শ্বাস নিয়ে দুই হাত মাথার উপর তুলুন। এবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকুন। যতটা সম্ভব হাত দিয়ে পায়ের পাতা বা গোড়ালি স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। হাঁটু না ভাঙার চেষ্টা করুন, তবে শরীরে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থানে থেকে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন। এই আসন শরীরের পেছনের দিকের পেশিতে টান তৈরি করে এবং নমনীয়তা বাড়ানোর অনুশীলন হিসেবে করা যায়।
স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝলে যোগাসন নয়, জরুরি চিকিৎসা
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে কোনও যোগাসন, মালিশ বা ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল বা অবশ হয়ে আসা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে সমস্যা, আচমকা ভারসাম্য হারানো বা দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। উপসর্গ কিছুক্ষণ পর কমে গেলেও বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ সাময়িকভাবে সেরে যাওয়া এমন উপসর্গও ‘মিনি-স্ট্রোক’ বা টিআইএ-এর সতর্কবার্তা হতে পারে।
তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে জরুরি হল নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিজের রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। যোগাসন সেই সক্রিয় জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে, তবে চিকিৎসার বিকল্প নয়।









