আজ ফুসফুস দিবস। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে ফুসফুস অন্যতম। শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে এই অঙ্গ। তাই সুস্থ থাকতে ফুসফুসের যত্ন নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, ঘরের ভেতরের ধোঁয়া এবং ধুলা ও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফুসফুস ভালো রাখার ক্ষেত্রে ধূমপান থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শও এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। তামাকের ধোঁয়া হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য তা ছেড়ে দেওয়া ফুসফুসের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বায়ুদূষণ থেকেও ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখা দরকার। বাইরে অতিরিক্ত ধোঁয়া ও দূষণ থাকলে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকা, দূষিত পরিবেশে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া এবং ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা উপকারী। রান্নার সময় ধোঁয়া যেন ঘরে জমে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কাঠ, কয়লা বা অন্যান্য দূষণকারী জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ঘরের বাতাস দূষিত হতে পারে।
শরীরকে সক্রিয় রাখাও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা ও সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক পরিশ্রম শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। তবে কারও আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের কোনও রোগ থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
ধুলা, ধোঁয়া ও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে যাদের নিয়মিত থাকতে হয়, তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে ধুলা বা রাসায়নিক পদার্থের কারণে ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলা জরুরি।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকেও ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে সতর্ক থাকা এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কফ, শ্বাস নিতে কষ্ট, বুক চাপ লাগা বা শ্বাসের সঙ্গে শব্দ হওয়ার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফুসফুসের সুস্থতা একদিনের যত্নে নিশ্চিত হয় না। ধূমপান ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, বায়ুদূষণ থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা, ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, শরীরকে সক্রিয় রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ফুসফুসকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করা যায়।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—ফুসফুসের স্বাস্থ্য, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের রোগসংক্রান্ত তথ্য।