চার মাসে চার বইয়ের দোকানে পুলিশি অভিযান, আতঙ্কে হংকংয়ের প্রকাশনা জগৎ

আনোয়ার ইসলাম
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩১আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩১

হংকংয়ের স্বাধীন বইয়ের দোকানগুলো ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বই বিক্রির অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দোকানের বই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পুরোনো বইয়ের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

হংকংয়ের অনেক স্বাধীন বইয়ের দোকান দীর্ঘদিন ধরে মূল ভূখণ্ডের চীনা পাঠকদের জন্য ভিন্ন চিন্তা ও মতের বই পড়ার একটি জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে চীনের মূল ভূখণ্ডে সহজে পাওয়া যায় না, এমন রাজনৈতিক ও সমালোচনামূলক বইয়ের সন্ধানে অনেক পাঠক এসব দোকানে আসতেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার মাসে চারটি বইয়ের দোকান পুলিশের নজরে আসে। ৫০ বছর পুরোনো গ্রিনফিল্ড বুক স্টোর জুলাইয়ে তাদের বর্তমান ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলে দোকান বন্ধের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে সাবেক সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত ‘হ্যাভ আ নাইস স্টে’ আর্থিক সংকট ও অস্পষ্ট বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে বন্ধ হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়।

হংকংয়ের স্বাধীন বই বিক্রেতাদের ওপর চাপ নতুন নয়। ২০২০ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। তিয়েনআনমেন আন্দোলন এবং গণতন্ত্রপন্থী রাজনীতিকদের নিয়ে লেখা কিছু বইও সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

চলতি বছর মার্চে বুক পাঞ্চ, জুনে হান্টার বুকস্টোর এবং জুলাইয়ে গ্রিনফিল্ড ও হ্যাভ আ নাইস স্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বই বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তারা রাষ্ট্রবিরোধী বা উসকানিমূলক প্রকাশনা বিক্রি করছিলেন।

তবে বই বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোন বইকে আইন অনুযায়ী উসকানিমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা বোঝা কঠিন। কর্তৃপক্ষ কোনো নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে অনেক দোকান এখন চীনের আধুনিক রাজনীতি নিয়ে বই বিক্রির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হচ্ছে।

হংকং সরকার বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার আইন মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশ ও প্রকাশনার স্বাধীনতা সুরক্ষার কথাও বলে। সরকারের মতে, আইনটি সরকারের নীতির সমালোচনা বা মত প্রকাশকে সরাসরি নিষিদ্ধ করে না।

এই পরিস্থিতি হংকংয়ে তাইওয়ানের বইয়ের প্রবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। চীনা ভাষার প্রকাশনার ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত একটি কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়। ২০২০ সালের পর হংকং নিয়ে তাইওয়ানে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও বেড়েছে।

অনেক পাঠকের কাছে স্বাধীন বইয়ের দোকান শুধু বই কেনার জায়গা নয়। এটি চিন্তা, আলোচনা এবং ভিন্ন মতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি পরিসর। কিন্তু সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও বিধিনিষেধের কারণে হংকংয়ের এই পরিসর ভবিষ্যতে কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তথ্যসূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
নাগিব মাহফুজ পদকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ৬ উপন্যাস
হোমারের ‘ওডিসি’ আবার অনুবাদ করছেন উইলসন, এবার চার গুণ বেশি টীকা
বেইলি গিফোর্ড ননফিকশন পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা ঘোষণা, জায়গা পেলেন ১৩ লেখক
সর্বশেষ খবর
‘সঙ্কটের সমাধান করুন, ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না’
‘সঙ্কটের সমাধান করুন, ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না’
সাইকেলে চড়ে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে শিক্ষক নিহত
সাইকেলে চড়ে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে শিক্ষক নিহত
মন্ত্রণালয় থেকে ফোনের পর সেই এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন
মন্ত্রণালয় থেকে ফোনের পর সেই এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন
যুদ্ধ থামাতে মস্কো-কিয়েভ যাচ্ছেন ট্রাম্পের দুই দূত
যুদ্ধ থামাতে মস্কো-কিয়েভ যাচ্ছেন ট্রাম্পের দুই দূত
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের বাড়িতে এসিল্যান্ডের ‘মাদক উদ্ধারের’ অভিযান
দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের বাড়িতে এসিল্যান্ডের ‘মাদক উদ্ধারের’ অভিযান
ভারতে পৌঁছার আগেই গলে গেলো মোদির জন্য আনা বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার
ভারতে পৌঁছার আগেই গলে গেলো মোদির জন্য আনা বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার
বিমানবন্দরে দিলীপ তাহিলের কাছে শাহরুখকে মারার কারণ জানতে চাইলেন তরুণী
বিমানবন্দরে দিলীপ তাহিলের কাছে শাহরুখকে মারার কারণ জানতে চাইলেন তরুণী
পাতায়া নেমে বারে যাওয়ার আগে কেনাকাটা করলেন মার্কিন সেনারা
পাতায়া নেমে বারে যাওয়ার আগে কেনাকাটা করলেন মার্কিন সেনারা
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও, কলেজছাত্রকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও, কলেজছাত্রকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ