X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

বিনয়ের দুঃখ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৩:৩০


কবি বিনয় মজুমদার ও দুঃখকে ক্ষেত্রবিশেষে মাঝে মাঝে পরিপূরক মনে হয়। বিনয় মজুমদারের মধ্যে দুঃখ কিংবা দুঃখের মধ্যে বিনয়। বিনয় মজুমদারের কবিতায় দুঃখ এমন ভারসাম্যপূর্ণ। পাঠ করতে গিয়ে ভাবতেও হয় বিনয়ের কবিতায় এত চাপা দুঃখ কেন? দুঃখগুলো আবার এক নয়; অনেকগুলো বাঁক এইসব দুঃখের। সঙ্গ-অনুষঙ্গ মিলে কী ভাষণ প্রতাপ সেসব দুঃখের। ফিরে এসো, চাকা  কাব্যে দুঃখ যেন বিনয়কে প্রাণবান করেছে। কখনো তিনি দুঃখে ঋদ্ধ ও পূর্ণ। বর্তমান প্রবন্ধটি ফিরে এসো, চাকা-র নির্বাচিত কিছু কবিতার নিবিড় অবলোকন।
কবিতা- এক:
কবিতাটি কতবার পাঠ করা হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বিনয় মজুমদার কবিতাটির মধ্যে আকস্মিক একটা সৌন্দর্য রাখেন। তিনি ঐ সৌন্দর্যের মধ্যেই বেদনা দেখতে পান:
একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে
দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে স্বচ্ছ জলে
পুনরায় ডুবে গেল।
এ পর্যন্ত কবিতাটি একরকম। পরের দুটি পঙক্তি উপরের পঙক্তিগুলোকে মুহূর্তে ভিন্ন করে তোলে:
এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে
বেদনার গাঢ় রসে আপক্ব রক্তিম হল ফল।
এ দৃশ্যটির নাম বিনয় মজুমদার নিজেই দেন স্মিত দৃশ্য। খুব উজ্জ্বল বা প্রাণবন্ত কোনো কিছুই স্মিত। প্রাকৃতিকভাবেই দেখা একটি দৃশ্য হয়ে যায় প্রতীকী। এ দৃশ্যটির সঙ্গে প্রথম স্তবকের শেষ পঙক্তিতে ‘বেদনা’র রসকে গাঢ় মনে করে তার সঙ্গে সম্পূর্ণ পেকে খাওয় ফলের সংযোগ। এটাও কী ভাবা যায়। ফল তো নিজেই এক সময় পেকে যায়। অথচ ঘটা করে কবি তাকে কত গভীর অর্থে বলছেন অন্য কথা। প্রাকৃতিকভাবেও ফল পাকলে ‘রক্তিম’ লাগে। সেটা ঐ উজ্জ্বল মাছটির মতো আলো-আঁধারি খেলা খেলল বিনয়রূপী একজন কবি ও দর্শকের সঙ্গে। অতঃপর ভাবা সঙ্গত হয় বেদনাও এক সময় ভরাট হয় পেকে যাওয়া ফলের মত। আধুনিক কবির এ অন্যদৃষ্টি নিজস্ব কাব্যিক অনুভূতিযুক্ত। পরের স্তবকটি উপরের স্তবকের ‘বেদনা’ বা দুঃখর সম্প্রসারিত ভাবনা। ‘মরাল’ হয়ে যাচ্ছে পলায়নপর অথচ এই মরালও উষ্ণ মাংস আর মেদরূপী এক ধরনের পাখি। তার বিপরীতে সমুদ্রমৎস্যকে অনেক বড় সাক্ষী করেন। সমুদ্রমৎস্য দেখে অসুস্থ বৃক্ষেরা শ্বাসজনিত কষ্টে আছে আর এভাবে সব বৃক্ষ এবং ফুলেরা স্ব স্ব জায়গায় মিলনের কথা ভাবে। সমুদ্রমৎস্যের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের কথা বলেননি কবি কেননা তার সে কষ্ট নেই। এই ‘শ্বাসকষ্ট’ অসুস্থ বৃক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভাবিত এক মানসবেদনার উৎস হয়।  বিনয় মজুমদার দুঃখকে ভিন্নদৃষ্টিতে দেখে সম্পূরক জীবন অনুভূতি তুলে ধরেন।

কবিতা- দুই:
এ কবিতাটি অসম্ভব রকম প্রতীকী। ‘দেবদারু’ বৃক্ষটি পুরো কবিতায় বিচরণ করেছে। প্রথম স্তবকের যথার্থ অর্থ খোঁজা ঝুঁকির। দেবদারুর সঙ্গে প্রতিফলিত অন্যান্য উপাদান যেমন পাখি, মাটি, পাখির বাসা সবই প্রতীকীভাবে শিল্পায়িত। বৃক্ষের রহস্যময়তার মধ্যে জীবনের শিক্ষা লুকায়িত। দ্বিতীয় স্তবকও দুরূহতার স্মারক। বলা হয়েছে মাটির থেকে সমুদ্র বেশি বিপদসঙ্কুল। একইভাবে আকাশের নীলিমাও। অথচ মানুষ রোমান্স অনুভব করতে এদের কাছেই যায়। যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ও সহজাত যেহেতু মানুষ বিশাল অনুভবের কোনো কিছুকে অবারিত এসব প্রাকৃতিকতার মধ্যে অনুসন্ধান করে। জ্বরের জন্য মাথা ধুয়ে নেয়া একটি প্রাথমিক পথ্যের মতই মানুষ করে থাকে এবং এটাও প্রকৃতিগত একটা শিক্ষা। কারণ মাথা ধোয়ার জন্য যে জল দরকার সেটিও প্রকৃতির উপাদান। এর পরের দুটি পঙক্তি পুরো কবিতার শাঁসটিকে ‘বেদনা’ য় মুড়িয়ে দেয়:
তবুও কেন যে আজো, হায় হাসি, হায় দেবদারু
মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়।
উক্তিটি প্রচণ্ড বেদনার। হাসি ও দেবদারু শব্দ দুটি ‘হায়’ অব্যয় যোগে বিশেষার্থবোধক হয়েছে এবং কারুণ্যের মধ্য দিয়ে মানুষের নিকটে যাওয়ার প্রাকৃতিক শূন্যতাকে মহিমাজ্ঞাপক করেছে। শেষের পঙক্তিটি বেশ ধারালো । প্রাকৃতিক বিচ্ছেদকে এত আবেগও চাপা উপলব্ধি দিয়ে বিশ্বাস করার শৈলী দেখে বিনয়ের কবিদৃষ্টিকে শ্রদ্ধা করতে হয়।

কবিতা- ছয় :
কবিতাটি গ্রহণ ও বর্জনের কিছু কথা। গ্রহণ করতে হয় যা প্রয়োজন বা সাফল্যের পক্ষে থাকে আর কিছু কথা বর্জন করতে হয় যেসব জীবনের সঙ্গে সাযুজ্যময় নয়। ব্যর্থতাকে সম্পূর্ণ বর্জনীয় ভাবাও অসঙ্গত । ব্যর্থতাকে মানস রূপান্তরের অন্যতম চাবিকাঠি ভাবা উচিত। বিনয় ‘ব্যর্থতা’র সঙ্গে ‘আত্মচিন্তা’ র সম্পর্কের কথা বলেন। অনেক হারাবার পরে নতুন কিছুর অন্বেষণ ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে কঠিন। বিপরীত কোনো সত্তায় নির্ভরতা বাড়ে তখনই । বিনয় বলেন:
সকল ফুলের কাছে এত মোহময় মনে যাবার পরেও
মানুষেরা কিন্তু মাংস রন্ধনকালীন ঘ্রাণ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
চিরায়ত স্বভাবের দিকে যাত্রা না করে অন্যদিকে যাবার আভাস। ফুল সর্বদাই মোহময় কিন্তু মাংস রন্ধনকালীন ঘ্রাণ বিশেষ গন্ধযুক্ত বিষয় এবং ভোজনও মানুষের দৈনন্দিনতার অংশ। সেসূত্রে ঘ্রাণ বিষয়ক গন্ধে আকর্ষণ বেশি এবং সেই অর্থেই নতুন । ফুলকে এখানে বর্জন নয় বরং বলা হয়েছে ফুলের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ নাও হতে পারে মানুষের । তাই মাংস রন্ধনকালীন নিয়ত প্রাত্যহিক অথচ অপ্রচলিত অনুভূতিতেই যেন একটা আকর্ষণ থাকে মানুষের। বর্ণ দিয়ে যে ‘আলেখ্য’ বা ‘চিত্রশিল্প’ আঁকা হয় কাছাকাছি দৃশ্যে তা মনোহর লাগে। দূরের কাছের অনুভূতি যে কত ভিন্ন বিনয় তা দেখান। এরপর ‘আলেখ্য’ হয়ে যায় পরবর্তী বক্তব্যের চিত্র। যে জল মেঘে থাকে তা অপরিমেয় তার সবটার সামান্যই আসে ফসলের দেহে এবং যেটুকু আসে সেটাই ফসলের জন্য দরকারি। মশা যে স্বল্পকালের জন্য কানের কাছে উড়ে আসে তাও হয়ে যায় সঙ্গীতময়। এই দক্ষতা মশার নিজস্ব কিন্তু মানুষের কাছে বিরক্তিকর । পূর্বের সেই রান্নার ঘ্রাণ ও ফুলের ঘ্রাণ-এর স্বতন্ত্র রূপ এখানে বিপরীতের বাস্তবতায় প্রতিফলিত। কিন্তু সূক্ষ্মদৃষ্টিতে ফুলের কাছে মোহময়তার সঙ্গে মাংস রন্ধনকালীন ঘ্রাণে যে দূরত্ব আছে তা বিনয়ের চোখে মানুষের এক প্রকার সীমাবদ্ধতা। মানুষ এক সত্তার অভাব অন্য সত্তায় পুষিয়ে নিতে চায় এটাই বাস্তবতা এবং ঐ বাস্তবতা বেদনার।

কবিতা- পঁচিশ:
উপমার অসাধারণ প্রয়োগে কবিতার নতুন স্বর নিয়ে বিনয় প্রথমেই বলেন:
বিদেশি ভাষায় কথা বলার মতোন সাবধানে
তোমার প্রসঙ্গে আসি।
আশ্চর্য সুন্দর বোধ। ভাবলে নতুন লাগে সত্যিই তো বিদেশি ভাষা আমরা সাবধানেই বলি। যদি কোনো ভুল ধরে বসে কেউ কিংবা নিজের কাছেও খটকা লাগে এই বোধ হয় ভুল হয়েই গেল। যখন কবিতায় সম্মোহনগত প্রসঙ্গ আসে এধরনের কবিতা হয় উল্লেখ করার মত। ‘তুমি’ নামে যে নারীটিকে সম্বোধন করা হয়েছে সে নারীটি অতীতের কোনো স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকৃত কবি যখন কবিতায় নারীকে শৈল্পিক করবেন তা যেমন দীপ্তিময় হবে ‘কীটদষ্ট’ কবি অর্থাৎ যে কবি শুধু নামেই কবি তিনি নারীটির শৈল্পিকতা আঁকতে চাইলেও তা মৌলিক হবে না। সেভাবেই যারা চিত্রকর নয় তারাও ছবি আঁকতে চাইলে তা সম্ভব হবে না। এই পারা না পারার দ্বৈততা বা মৌলিক ব্যাপারকে ‘সাধনা’ ও ‘ডুবুরি’ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করেনন কবি। সাধনা সুদূরপ্রসারী বিষয়। লক্ষ্য অর্জন হয় বহু পরে কিন্তু লক্ষ্য অর্জন পর্যন্ত সাধনা চলতেই থাকে।  ডুবুরি জলের সঙ্গে খেলেই তার কাঠিন্যকে বারবার প্রমাণ করে। যদি কবির ব্যক্তি জীবনে প্রেম ও নারী প্রসঙ্গে গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাককে এখানে আনি তাও আনা সম্ভব এবং প্রত্যেক মানুষের জীবনে প্রেম ও নারীর অপরিহার্যতা স্বরণে রেখে যদি সাফল্য ও ব্যর্থতাকে তুলে ধরি তাহলে কবির সূত্রে মানুষের মনোজগতের অবধারিত দুঃখকে অনুধাবন করতে পারব।

কবিতা- পঁয়ষট্টি :
অসাধারন প্রশ্ন রেখে কবিতাটি শুরু হয়েছে:
ভালোবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?
পঙক্তিটি বিখ্যাত। প্রশ্নটি কবির যেমন তেমনি কাব্যপাঠকেরও অথবা একজন সাধারন মানুষেরও হতে পারে। অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে স্ব-ব্যক্তিত্বের উদঘাটনে বেরিয়ে আসা নিজের অভিজ্ঞতা এবং ক্রমাগত ভালোবাসার বিকাশকে তার দেখাতে হয়। বিনয় মজুমদার তার ভালোবাসা আমাদের দিয়ে যান যেন তাঁর কাছে ভাণ্ডারটি অফুরন্ত কিন্তু সেই ভালোবাসা কি আমরা গ্রহণে সক্ষম? বক্তব্য খুব সূক্ষ্মভাবেই এটাই বলছে যে, ভালোবাসার গ্রহণের মধ্যে একটা যোগ্যতা, সক্ষমতা দরকার যা সম্পূর্ণরূপে মানসিকতার ব্যাপার। উল্লেখযোগ্যভাবে বিনয় ‘তোমরা’ বহুবচনটি প্রয়োগে সামষ্টিক মানুষকেই তার জিজ্ঞাসার লক্ষ্য করেছেন যা অসাধারণ। কবিতাটি প্রথম বাক্যেই এত তীক্ষ্ম বাক্যে অসামান্য বেদনাকে তুলে ধরে। গাণিতিক হিসাবের মতই এসেছে ঝরে যাওয়া হাসি, জ্যোৎস্না ব্যথা বা স্মৃতি। এসব অভিজ্ঞতার হিসাব। যুক্তি আসে:
পারাবতগুলি জ্যোৎস্নায়
কখনো ওড়ে না; তবু ভালোবাসা দিতে পারি আমি।
‘তবু ভালোবাসা দিতে পারি আমি’- আত্ম উদঘাটনের বাণীতে কবি তাঁর অবস্থান পোক্ত করেন। কবিতাটি ‘তোমরা’ থেকে তুমিতে আসে। ‘তুমি’তে নেমে এসে ফের বলা হয়েছে গ্রহণে সক্ষম নও। যাকে তিনি ভালোবাসা দিতে চান এখানে তিনি ব্যক্তি। প্রথমে ছিল সমষ্টি। শেষের দুই পঙক্তিতে খেদ উঠে আসে:
প্রাচীন চিত্রের মতো চিরস্থায়ী হাসি নিয়ে তুমি
চলে যাবে; ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় দগ্ধ হবো আমি।
‘প্রাচীন চিত্র’ উপমাটি ক্লাসিক সুরে চিরস্থায়ী হাসিকে বাঙময় করে বিচ্ছেদকে প্রকাশ করেছে এবং বিচ্ছেদ স্বভাবতই বেদনার উৎস, যে ধারাবাহিকতায় ‘ক্ষত’, ‘যন্ত্রনা’ বা ‘দগ্ধ’ শব্দ তিনটি এসেছে। এভাবে পুরো কবিতায় তিন সর্বনাম ‘তোমরা’ ‘তুমি’ ও ‘আমি’ র সামষ্টিক থেকে ব্যক্তিবোধে ভালোবাসা ও বিচ্ছেদকে দুঃখময় বাস্তব করেন বিনয় মজুমদার।

কবিতা- ছিয়াত্তর :
এ কবিতাটি কাব্যের নামের প্রতিনিধিত্ব সূচক। ‘চাকা’ সূত্রে ফিরে আসা জীবনচক্রে বেদনার কথা গতিময়তা পেয়েছে। জীবনচক্রই সেই গতি। কোথাও না কোথাও বাধা পেয়ে অতীত যেমন বর্তমানে ভেসে ওঠে বেদনার কারণরূপে এখানে ‘চাকা’ যেন সেই প্রবহমান গতির স্মারক। ‘অনেক মদিরা পান করেছি’- বাক্যটিতে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা সূত্রে এ পঙক্তিগুলো এসেছে:
মদিরা-রক্ত ও জ্যোৎস্না
তোমার (নারীর) দেহ
কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে অন্ধকার। (যৌনসুখ)
‘মদিরা’ পান করে জীবন পায় অন্যতৃপ্তি। যৌনতা এখানে শারীরিক স্পর্শে মানুষের চুড়ান্ত সুখ। সব সম্পর্কের জেরে শারীরিক সুখ বা সম্পর্ক সাধারণ নিয়মবর্তী। আঘাত পাওয়া স্মৃতির মধ্যে যা কিছু থাকে যোগ-বিয়োগের মাধ্যমে তৃপ্তিটাই যেন আসল সেখানে। ‘চাকা’ সেই গতিময় জীবনের কথা বলছে। জীবনের দার্শনিক মধ্যস্থতায় চাকা বেশ অভিনব ভূমিকা রেখেছে। চাকা এক প্রকার সান্ত¦নাও কারণ জীবনের হিশাবে একসময় সান্ত্বনাই মেলে। আবার চাকা এক প্রকার বিরতি ও বলা যায় যেন জীবনে বিরতিসূত্রে অন্য অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়। সবকিছু মিলে বেদনাই শ্রেষ্ঠ উপাদান যা মানুষকে গ্রহণ করতেই হয় যেহেতু সুখ ক্ষণস্থায়ী।
বিনয় মজুমদারের কবিতার প্রতীকগুলো দ্বৈত অর্থ প্রদান করে। জীবনের চলমানতায় ‘ইতি’ ও ‘নেতি’সূত্রে সে প্রতীক গুলো স্থানবিশেষে প্রয়োগিক ভূমিকা রাখে। পঞ্চাশের দশকের বিকাশের মুখে শঙ্খ ঘোষ, আলোক সরকার, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়দের আলাদা কাব্যভাষা ছিল। বিকাশটি পরবর্তী কালের ষাটের দশক যাকে অনেক সমৃদ্ধ একটি দশক ভাবা হয় তার জন্য শুভ ইঙ্গিত ছিল। বিনয় মজুমদারের কবিতায় নতুন বাক্য, শব্দযোগে সুনির্বাচিত অনুভব ইত্যাদিতে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছিল। ফিরে এসো, চাকা র বর্তমান প্রবন্ধের নির্বাচিত কবিতাবলির দুঃখবোধ একটি জীবনচিত্রের শিল্পরূপ। বিনয়ের দুঃখ তাঁর একার দুঃখ নয় আবার বিনয়ের দুঃখও সবার দুঃখ নয় কেবল ব্যক্তি ও  সমষ্টিবোধে স্বতন্ত্ররূপে তা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিনিধিত্বশীল।

পুনশ্চ: বিনয় মজুমদারের কবিতা নিয়ে শেষ কথা বলা অসম্ভব। তাঁর কবিতার বৈচিত্র্য ও স্বরের নানা মাত্রার জন্য। আমাদের আধুনিক জীবন যে ধরনের দুঃখ ব্যথা বেদনাকে অনুভব করে তার বিভিন্নতা বিনয়ের কবিতায় এসে নতুন বাঁক পেয়েছে। ফিরে এসো, চাকা  ঐ বাঁকের একটা সাঁকো। বর্তমান প্রবন্ধের অন্বেষায় দুঃখবোধকে নতুনভাবে দেখার প্রয়াস করা হল। আরো হয়তো বলার ছিল তা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
শখ করে বন্ধুরা ফেললেন জাল, ধরা পড়লো ৩২ কেজির বাগাড়
শখ করে বন্ধুরা ফেললেন জাল, ধরা পড়লো ৩২ কেজির বাগাড়
বরিস জনসনের পদত্যাগ চান যুক্তরাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ: জরিপ
বরিস জনসনের পদত্যাগ চান যুক্তরাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ: জরিপ
বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে ২ ঘণ্টা, অতিষ্ঠ যাত্রীরা
বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে ২ ঘণ্টা, অতিষ্ঠ যাত্রীরা
১৮ লাখ টাকায় নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় পাস, গ্রেফতার ৩
১৮ লাখ টাকায় নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় পাস, গ্রেফতার ৩
এ বিভাগের সর্বশেষ
পুরস্কারপ্রাপ্তি আনন্দের
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১পুরস্কারপ্রাপ্তি আনন্দের
মারুফা মিতার কবিতা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১মারুফা মিতার কবিতা
দিপন দেবনাথের কবিতা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১দিপন দেবনাথের কবিতা
খোঁপায় গমখেতের মায়া
খোঁপায় গমখেতের মায়া
বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার
বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার