X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৮ বৈশাখ ১৪৩১

ইয়ন ফসেকে কীভাবে পাঠ করি ।। কার্ল ওভ নওসগার্ড

অনুবাদ : সুমাইয়া আক্তারী উর্মি
১৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:০৯আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৩১

১.
গত কয়েকদিন ধরে আমি ইয়ন ফসের রচনাগুলো আবার পড়ছি। এর সবগুলোই ১৯৮৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে রচিত। তার রচনাগুলো প্রথমদিকে বিভিন্ন ফর্ম, যেমন : উপন্যাস, কবিতা, ছোট গদ্য বা নাটক আকারে প্রকাশিত হতে থাকলেও এগুলো মূলত একই কথা বলে।

১৯৮৩ সালে প্রকাশিত ফসের প্রথম উপন্যাস ‘Raudt, svart’ (লাল, কালো) থেকে উঠে আসা কণ্ঠস্বর, তারও ১০ বছর পরে থিয়েটারে করা তার প্রথম কাজ ‘Og aldri skal vi skiljast’ (এবং কখনোই আমরা অংশ নেব না) বা আরো ২০ বছর পরে—সবচেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে লেখা উপন্যাস ‘Kveldsvaevd’ (ক্লান্তি) এর কণ্ঠস্বরও একই।

ইয়ন ফসের সমস্ত রচনা থেকে উঠে আসা এই কণ্ঠস্বর আসলে কী? এটা তার শৈলী, পুনঃপুন লেখা, লেখার বাঁক, পাঠকের মাথায় তৈরি কোনো স্তর নয়৷ এমনকি তার লেখার নকশা, সমুদ্রের সেইসব খাঁড়ি, সারি বাঁধা সব নৌকা, সেই সমস্ত বৃষ্টি, ভাইবোনেরা বা সংগীতও নয়; বরং তা এই সমস্ত কিছু মিলে তৈরি হওয়া এক আবহ যা নিজেকে ক্রমশ আরো প্রকাশমান করে তোলে।

এই আবহটা কী রকম?

মিশেল হেলবেকের উপন্যাস ‘Submission’-এ প্রোটাগনিস্ট সাহিত্যের প্রকৃতি প্রতিফলিত করে যা বলে তা বেশ সহজবোধ্য। সাহিত্যের মতো সংগীত আমাদের অপ্রত্যাশিত আবেগে আচ্ছন্ন করে দিতে পারে বা চিত্রকলা আমাদের নতুন চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু কেবল সাহিত্যই পারে আমাদের একজন মানুষ হয়ে অন্য এক মানব আত্মার সমস্ত দুর্বলতা ও মহত্ত্বের সংস্পর্শে আনতে।

তার মতে, মানুষের এই বহুরূপী উপস্থিতিই সাহিত্যের মূল সারবত্তা। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এই ভেবে যে, এই ধরনের সহজ পর্যবেক্ষণের প্রতি দার্শনিকরা খুবই কম মনোযোগ দিয়েছেন।

মিশেল হেলবেকের তুলনায় ইয়ন ফসে যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখান থেকে খুব কম আধুনিক লেখকই দূরে সরে থাকতে পেরেছেন। হেলবেকের উপন্যাসগুলো ধারণা-নির্ভর, উত্তেজক, সমকালীনের সাথে যুক্ত, মোহমুক্ত, ছিমছাম, মনুষ্যদ্বেষী এবং যেভাবেই হোক পাঠকের কাছে একটি অবয়ব তুলে ধরছে বলে মনে হয়।

ফরাসি লেখক মিশেল হেলবেক
অপরদিকে, ফসের লেখায় যেকোনো ধারণা খুবই কম পাওয়া যায়; কোনো প্রকার উসকানি নেই—সমকালীনতার স্বর নীচু অথবা সম্পূর্ণভাবে এড়ানো। যদিও তার লেখা কখনো কখনো মৃত্যুর কথা বলে এবং অস্তিত্বের ভিত্তিস্বরূপ একপ্রকার শূন্যতার অন্বেষণ করে।

ফসের লেখা কখনোই মোহের কথা বলে না এবং অবশ্যই মনুষ্যদ্বেষী নয়, বরং পরিপূর্ণভাবে আশাতে মোড়ানো। ফসের অন্ধকার আসলে আলোয় ভাস্বর। উপরন্তু, তার লেখা পাঠকের সামনে কোনো অবয়বকে তুলে ধরে না, বরং তা বেশ উন্মুক্ত। হেলবেকের রচনা সবকিছুকে প্রতিফলিত করে; সবকিছুকে পেছনে ঠেলে দেয়—এখানে পাঠক নিজেকে ও তার সময়কে দেখতে পায়। অপরদিকে, ফসের লেখা পাঠককে নিবিষ্ট করে; অন্ধকারের বাতাসের মতো পাঠক বিলীন হয়ে যায় লেখার মধ্যে। এগুলো ফসের সাহিত্যকর্মের মূল বৈশিষ্ট্য, যা হেলবেকের সাহিত্যকর্মের মূল বৈশিষ্ট্যে থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর মাধ্যমে দুজন লেখক বিভাজনের দুই প্রান্তে অবস্থান করে৷

ফসে ও হেলবেক উভয়ের ক্ষেত্রেই যা তাদের কাজকে সাহিত্যে রূপ দিয়েছে, তাই তাদেরকে একত্রিত করেছে। হেলবেকের ‘সাবমিশন’ যেমন উত্তেজকভাবে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সহজ ভাষায় তা হলো : লেখালেখিতে মানবাত্মার উপস্থিতি। এটি কোনো শৈলী বা গড়নের বিষয় নয়, থিম বা বিষয়বস্তুও নয়৷ এটি আমাদের মধ্যে প্রতিধ্বনিত করে কোনো এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির লেখাকে। ঠিক যেন আমরা ১৯ শতকের শেষের দিকে তৃতীয় পুরুষে লেখা রাশিয়ান কোনো উপন্যাস অথবা নব্বই দশকে প্রথম পুরুষে লেখা সুইডিশ কোনো কবিতা পড়ছি। সাহিত্য তখনই আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন লেখকের কাছে লেখা যথাযথ হয় এবং লেখকের নির্দিষ্ট সত্তা আরো বেশি অভিব্যক্তিপূর্ণ ও স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। কারণ মানব আত্মার উপস্থিতি তথা মানুষের কথা বলাই সাহিত্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

বিজ্ঞাপনের ভাষা, পাঠ্য বইয়ের ভাষা, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ভাষা সকল কিছুর সাথেই মানানসই। এটি সমাজে স্বীকৃত সত্য ও নির্দিষ্ট কিছু বুলিকে তুলে ধরে৷ সামাজিক দুনিয়ার এই ভাষায় লিখিত বইগুলো তাদের সময়ের চেতনায় চালিত হয়। সময় যখন সামান্য এগিয়ে যায় তখন শুধুমাত্র তা অতীত সমাজের কোনো এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ভাষা হিসাবে ম্লান হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৬০-এর দশকের বেশিরভাগ বইগুলো এমনভাবে লেখা, যা আমাদের সামনে নির্দিষ্ট একটি ছবি তুলে ধরে; শুধুমাত্র ঐ সময়ের ফ্যাশন সম্পর্কে কথা বলে। তাই বলা যায়, সাহিত্যই টিকে থাকে, কখনোই গৎবাঁধা কিছু নয়। কখনোই সামাজিক সকল স্তরের ভাষা এখানে খাপ খায় না, বরং তাকে অস্বীকার করে। যুদ্ধোত্তর অস্ট্রিয়ার সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আমরা থমাস বার্নহার্ডের ‘Extinction’ পড়ি না, বা ব্যক্তিবিশেষের পিতামাতা হারানোর অর্থ কী, তা বুঝতেও না। বরং থমাস বার্নহার্ডের গদ্যে নিজেকে নিমজ্জিত করলে তা আমাদের নিজেদের থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসে এবং সম্পূর্ণ অনন্য ও ব্যতিক্রম কিছুর দিকে চালিত করে। এই অনন্যতা ও ব্যতিক্রমীতাই আমাদের সকলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এই ব্যতিক্রমী ও অনন্যতায় বিশ্বের সত্য ও আমাদের বাস্তবতা। এ বৈপরীত্যের মাঝেই সাহিত্যের বৈধতা নিহিত।

এর বিপরীতে বলা যায়, সাহিত্যের প্রকৃতি ও রস নিহিত আছে লেখালেখিতে অপর ব্যক্তির উপস্থিতির উপর; এরূপ ভাবনা একপ্রকার অযৌক্তিক হ্রাসবাদী চিন্তা। এটি সাহিত্য থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকটি কেড়ে নেয় এবং রোমান্টিক যুগের একক ব্যক্তিসত্তার ভাবনার কাছে ফিরে আসে। এই একই সময়ে এরূপ ভঙ্গিমা লেখায় অন্য ব্যক্তির উপস্থিতিকে সাহিত্য হিসেবে দাবি করে। এক্ষেত্রে থমাস বার্নহার্ডের লেখা বইগুলো তার নিজের লেখার বাইরে আর কিছুই করে না, কিছু বলেও না। আমাদের কোনো নির্দিষ্ট অর্ন্তদৃষ্টিও দেয় না। এটি সাহিত্য অধ্যয়নের সমগ্র অ্যাকাডেমিক শাখাকে অতিরঞ্জিত করে তোলে। অন্তত পরীক্ষায় পাশ করাকে তা অনেক সহজ করে তোলে। কারণ তখন একমাত্র প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হশে ওঠে : “থমাস বার্নহার্ডের ‘Extinction’ কে লিখেছিলেন?” অথবা, “ইয়ন ফসের ‘Boathouse’ কে লিখেছেন?”

ইয়ন ফসের রচনাবলি
‘Boathouse’ লিখেছিলেন ইয়ন ফস। উপন্যাসটির শুরুর বাক্য ‘আমি আর বাইরে যাই না, একটি অস্থিরতা আমার উপর এসে ভর করেছে এবং আমি আর বাইরে যাই না।’ উপন্যাসটি ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকের অন্য কোনো উপন্যাসের মত নয়; এর আগে ইয়ন ফসে যা লিখেছিলেন এবং তারপর যা লেখেন তার অনেকটাই অনুরূপ। উপন্যাসের প্রথম বাক্য থেকেই পাঠক ইয়ন ফসের উপস্থিতি লক্ষ্য করতে পারে। কিন্তু এ উপস্থিতি ব্যক্তি ইয়ন ফসের নয় এবং তিনি ঐ সময়ে যেমন মানুষটি (আমার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে যা সহজ হবে কারণ রাইটিং একাডেমিতে ইয়ন ফসে ছিলেন আমার শিক্ষক। যে বছর ‘Boathouse’ প্রকাশিত হয়, সে বছর আমি ঐখানকার ছাত্র ছিলাম) ছিলেন তা স্মরণে রাখলেও উপন্যাসটি পড়ার ক্ষেত্রেই খুব একটা কাজে আসে না। সময় ও সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে এরচেয়েও কম বিবেচনা করলে হয়। বরং পাঠের সময় আমরা যে উপস্থিতি অনুভব করি—তার সাথে যুক্ত করতে হয় কিছু নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্যতা, কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা, নির্দিষ্ট এক মেজাজ। এসবকিছু মিলে ফসের টেক্সট আমাদের জন্য বিশেষ এক দ্বার উন্মোচন করে। লেখালেখির ক্ষেত্রে অদ্ভুত বিষয়টি হলো তা নিজ সত্তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে—সাধারণত আমাদের নিজ ধারণায় ব্যক্তিকে একত্রিত করে রাখে। এটি মিলিয়ে যায় ও পুনরায় অভ্যন্তরীণ সত্তার তাগিদে নতুন ও অপরিচিত কোনো উপায়ে পুনর্গঠিত হয়।

একই বিষয় ঘটে যখন আমরা কোনো কিছু পাঠ করি। পৃষ্ঠার নিচের দিকের শব্দগুলো পড়ার সময় আমরা নিজেকে আরামে ছেড়ে দেই এবং কিছু সময়ের জন্য আমরা নিজেকে নতুন ও স্বাধীন এক অন্য ‘আমি’-এর কাছে অর্পণ করি। তবুও একটি নির্দিষ্ট ছন্দে, নির্দিষ্ট ফর্মে, নির্দিষ্ট ইচ্ছার আবহে তা আমাদের কাছে পরিষ্কার ও বোধগম্য হয়ে ওঠে। নিঃস্বার্থ লেখক ও পাঠকের মধ্যকার এ সাক্ষাৎকারের মধ্যে দিয়ে সাহিত্য তার গড়ন পায়। আর সেই সাহিত্য যদি ভালো হয়, তবে তা এমন স্বর ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে যা সবসময়ই আবহমান; জগতের নিত্য কোলাহল এবং ‘আমি ও আমাদের’ আত্মজ্ঞানের দৃঢ়তার মধ্যে অশ্রুত থেকে যায়। এই স্বর ও বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদেরকে একে অন্যের মধ্যে জাগিয়ে তোলে। সকলের অনুভূতির সাথে যুক্ত হওয়া উপন্যাস, কবিতা অথবা নাটকের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। সাহিত্যে আমাদের ও আমাদের দুনিয়ার অবয়ব ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে। যখন আমরা পাঠ করি তখন ক্রমাগত আমরা নিজেরাই মিলিয়ে যেতে থাকি; এমনিভাবে আমরা অন্যের ও আরেক দুনিয়ার কাছে যেতে পারি।

২.
ইয়ন ফসের রচনাগুলোর বেশিরভাগই সাহিত্য ও শিল্প সম্পর্কিত। এগুলো সাহিত্য ও শিল্পের জীবনবৃত্তান্ত; সমাজতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক দিকগুলো সম্পর্কে নির্লিপ্ত; তবে এদের কাছে যা অপরিহার্য তা-ই সাহিত্যকে ‘সাহিত্য’ ও শিল্পকে ‘শিল্প’ করে তোলে। সাহিত্য ও শিল্পের ক্ষেত্রে যেহেতু সর্বদাই নিজস্বতার বিষয়টি কাজ করে—যথাযথ উপযুক্ত হওয়ার বিষয় থাকে, তাই সাহিত্য ও শিল্পকে খুঁজতে হয় খোদ সাহিত্য ও শিল্পের মধ্যেই। সেই অর্থে ইয়ন ফসের রচনাসূমহ মোটেও সরল নয়—অননুবাদ্য ও হেঁয়ালিপূর্ণ।

নরওয়েজিয়ান লেখক কার্ল ওভ নওসগার্ড
তার প্রথম সংকলনে ‘From Telling via Showing to Writing’ এসকল রহস্যময় ও অননুবাদ্য বৈশিষ্ট্যগুলো লেখার মধ্যে ফুটে উঠতে থাকে। যেখানে কথনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক জগতের সাথে সংযোগ স্থাপন করার বিষয়টি নিজেই আখ্যান হয়ে ওঠে ও বিনোদনের বেশ কিছু উপাদান গড়ে তোলে। লেখা বলতে ফসে বিশ্বাস করেন সম্পূর্ণ অন্যকিছুর সাথে সংযোগ স্থাপন তথা আমাদের ভাষার এমন কোনো একটি অংশের সাথে সংযোগ যা নিজেই নিজের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে। যেমন : পাথর বা প্রাচীরের ফাটল।

ফসের লেখার হেঁয়ালিপূর্ণ বিষয়টি স্বতন্ত্র। তার লেখার ভাষা ও চিন্তাভাবনাকে ১৯৮০-এর দশকের সাহিত্যতত্ত্ব দ্বারা রূপ দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। ১০ বছর পরে প্রকাশিত তার পরবর্তীকালের সংকলন ‘Gnostic essays’-তে লেখার হেঁয়ালিপূর্ণ দিকটি তখনও কেন্দ্রীয়, যদিও এখন তা ঐশ্বরিক বা দিব্য কিছুর সাথে সংযোগ তৈরির কথা বলে। লেখক এবং লেখার ক্ষেত্রে সাহিত্যের তত্ত্বগুলো থেকে ঐশ্বরিক ভাবনার দিকের যাত্রাকে বিশাল মনে হতে পারে। তবে সবক্ষেত্রে এমন হয় না। ফসে তার সাহিত্য রচনার উভয়ক্ষেত্রেই একই রকম মান ধরে রাখতে চেষ্টা করেছেন, যদিও এখন এটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। ফসে তার প্রবন্ধের শিরোনামে এরূপ সংযোগের দিকে ইঙ্গিত করেছেন : ‘কথক হলেন ব্যাকরণবিদ, লেখক ব্যাকরণবিরোধী। সাহিত্যে চরিত্রকে ধরতে পারা যায় অলংকারের এক বা একাধিক রূপের মধ্যে। যেই চরিত্রটির ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার কম, শুধুমাত্র সেই চরিত্রটিই স্বাধীন। অবশ্যই কোনো ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। অর্থাৎ অনেকটা ঈশ্বরের মতো। একটি ভালো লেখার ক্ষেত্রে দেখা যায় ঈশ্বর ভাবনা পুনরুদ্ধারের একপ্রকার আকাঙ্ক্ষা খেলা করে। সম্ভবত ভালো উপন্যাসগুলোর ক্ষেত্রে এটা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।’

একইভাবে ফসের প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য বিশাল রয়েছে। ফসের প্রবন্ধগুলো শিল্পের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে থেকে শিল্পের উপর দৃষ্টি রাখে ও অনুসন্ধান করে। ফসের প্রবন্ধগুলো আমাদের সকলের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে এবং এর মাধ্যমে সামাজিক বিশ্বের সাথে পাঠকের এক প্রকার সংযোগ তৈরি হয়। এগুলো এমনভাবে পরিবর্তিত হয়, ১৯৮০-এর দশকের প্রবন্ধগুলো ৮০-এর দশকের মতো, ৯০-এর দশকের প্রবন্ধগুলো ৯০-এর দশকের মতো হয়ে ওঠে।

তবে ফসের কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে এর বিপরীতটি সত্য। শিল্পের বাইরে থেকে না দেখে এটি সরাসরি একদম পাঠক ও বিশ্বের ভেতর থেকে দেখে। ফসের লেখায় উঠে আসা কণ্ঠস্বর সত্যিই অবিশ্বাস্য। প্রবন্ধগুলো আরো বেশি করে সমসাময়িক স্বরকে তুলে ধরে। অপরদিকে, ফসের কথাসাহিত্যের ভাবনারা তার নিজের সময়ের প্রতিচ্ছবি নয় বরং এর উদ্দেশ্য ছিল আরো বৃহৎ কোনো ভাবনার সাথে সংযোগ। ফসের প্রবন্ধগুলো সচেতনভাবে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছে। ফসের লেখার হেঁয়ালি অবশ্য একই রয়ে গেছে।

ইয়ন ফসের সাহিত্যকে বুঝতে ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’-এ লেভ তলস্তয়ের চেয়ে ভালো আর কেউই লেখেনি। ওয়ার অ্যান্ড পিসের প্রধান চরিত্র প্রিন্স আন্দ্রেই যখন গান শোনার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বুঝতে চেষ্টা করে যে কেন সে কাঁদছে—তখন হঠাৎই অসীম অনন্ত ও পার্থিব বস্তুবাদীতার বৈপরীত্যে সে নিজেকে খুঁজে পায়। আমাদের মধ্যকার অসীম ও বাহ্যিক সীমাবদ্ধতার বৈপরীত্যই ইয়ন ফসের লেখার সমস্ত কিছুকে চালিত করে৷

মিশেল হেলবেক (Michel Houellebecq)
ফরাসি লেখক মিশেল হেলবেক উপন্যাস, কবিতা ও প্রবন্ধ লেখার পাশাপশি একজন অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং গায়কও। ১৯৯৪ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘Whatever’ প্রকাশ হয়। তার পরবর্তী উপন্যাস ‘Atomised’ ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় যা তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির পাশাপাশি বিতর্কিত করে।

কার্ল ওভ নওসগার্ড
(karl Ove Knausgaard)
১৯৬৮ সালে জন্ম নেওয়া নরওয়েজিয়ান লেখক কার্ল ওভ নওসগার্ড তার প্রথম উপন্যাস ‘আউট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর জন্য ‘নরওয়েজিয়ান ক্রিটিকস প্রাইজ’ পেয়েছিল। তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘এ টাইম টু এভ্রি পারপাস আন্ডার হ্যাভেন’ যা সমালোচকদের থেকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তার রচিত ‘মাই স্ট্রাগল’ সিরিজের সবগুলো বই যেকোনো সময়ের জন্যই মাস্টারপিস স্বরূপ।

মূল : lithub.com

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
নোবেল বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মাদীকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড দিলো ইরান
রসায়নে নোবেল পেলেন তিন গবেষক
কোভিডের ভ্যাকসিনে অবদান রাখায় নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
সর্বশেষ খবর
ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক পরিবারের ১৩ শিশু নিহত
ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক পরিবারের ১৩ শিশু নিহত
বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ
বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ
দুবাই পৌঁছেছে এমভি আবদুল্লাহ
দুবাই পৌঁছেছে এমভি আবদুল্লাহ
শ্রমবাজার ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বসতে চায় বাংলাদেশ
শ্রমবাজার ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বসতে চায় বাংলাদেশ
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?
আজকের আবহাওয়া: ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস
আজকের আবহাওয়া: ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস