উমবের্তো একোর ‘গোলাপের নাম’ উপন্যাসের ভূমিকায় এক ধরনের সাহিত্যিক দাবি তোলেন। তিনি জানান, ১৯৬৮ সালে তার হাতে এসে পৌঁছয় চতুর্দশ শতকের একটি ল্যাটিন পাণ্ডুলিপির অনুবাদ, যা ১৮৪২ সালে করেছিলেন এক ফরাসি পাদ্রী। সেই পাণ্ডুলিপির কথিত লেখক একজন বেনেডিক্টাইন সন্ন্যাসী—মেলকের অ্যাডসো। অ্যাডসোর বর্ণনায় যে কাহিনি উন্মোচিত হয়, তা কেবল ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়; তার ভেতরে জমে আছে ইতিহাসের ভার। অ্যাপেনাইন পর্বতমালার সন্নিকটে এক বেনেডিক্টাইন মঠে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যা, সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র এবং শেষ পর্যন্ত এক সর্বগ্রাসী ধ্বংস—যাকে তিনি ‘ecpyrosis’ শব্দে চিহ্নিত করেন। এই ঘটনাগুলোকে শুধু অপরাধকাহিনী হিসেবে পড়লে ভুল হবে। সেগুলো গভীরভাবে জড়িয়ে আছে সেই সময়ের মতভেদ, উপদলগত সংঘাত এবং ধর্মীয় বিভাজনের সঙ্গে। একো ইঙ্গিত দেন, মধ্যযুগীয় বাস্তবতায় কাঠামো নিজেই এক ধরনের বন্ধ পরিসর—খোলা নয়, নিয়ন্ত্রিত। উপন্যাসটিও তেমনই। তার অন্তর্বস্তু ও বিন্যাস ঘনভাবে সংহত, প্রতিটি অংশ অন্য অংশকে ধরে রাখে। তবু এই কাঠামোর মধ্যেই বইটির অদ্ভুত স্বর ক্ষীণ হয় না। নিজের সীমার ভেতর দাঁড়িয়েই এটি পাঠককে এক অস্বাভাবিক, প্রায় অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার দিকে ঠেলে দেয়।
‘The Name of the Rose’ একই সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক সাহিত্যিক উদ্যোগের মতো। একে বলা যায় দার্শনিক উপন্যাসের আড়ালে গড়ে ওঠা এক গোয়েন্দাকাহিনী, আবার গোয়েন্দা কাঠামোর ভেতরে নির্মিত এক ঐতিহাসিক আখ্যান। আসলে তিনটি ধারাই এখানে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ধারণাটি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও একো সেটিকে দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করেন। এর আগে তিনি মূলত সেমিওটিক্স নিয়ে টেকনিক্যাল লেখালেখিতেই পরিচিত ছিলেন, তবে পাশাপাশি ইয়ান ফ্লেমিং, ইউজেন সু, জেমস জয়েসের মতো লেখকদের কাজ বিশ্লেষণ করেছেন, এমনকি সুপারম্যান কমিক স্ট্রিপ নিয়েও ভেবেছেন। উপন্যাস লেখা তার জন্য নতুন ক্ষেত্র হলেও, এই বইয়ে তিনি কোথাও অনিশ্চিত নন; বরং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই থাকে।
উপন্যাসটির শিরোনামের ইঙ্গিত মেলে শেষ বাক্যে। বহু বছর পরে অ্যাডসো লিখছেন, আমি এই পাণ্ডুলিপি রেখে যাচ্ছি, জানি না কার উদ্দেশ্যে; এর অর্থ নিয়েও আমি আর নিশ্চিত নই: stat rosa pristina nomine, nomina nuda tenemus। ল্যাটিন থেকে সরে এসে কথাটির মানে দাঁড়ায়, তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন না, রেখে যাচ্ছেন কেবল বস্তুটিকেই। গোলাপ তার অস্তিত্বে এবং তার নামেই সম্পূর্ণ। আর আমরা, যারা অনেক পরে, এক ক্ষয়িষ্ণু সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের হাতে আসে শুধু নামের শূন্য খোলস।
ল্যাটিন ভাষার উপস্থিতি উপন্যাস জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এই ছিটেফোঁটা ল্যাটিন বাক্যগুলো কাহিনির স্বরে এক ধরনের ঘনত্ব যোগ করে। অধিকাংশ সময়েই একো সেগুলোর অর্থ দ্রুত স্পষ্ট করে দেন, যদিও আগের উদ্ধৃত বাক্যটির ক্ষেত্রে তিনি ইচ্ছে করেই চুপ থাকেন। ‘The Name of the Rose’ সাজানো হয়েছে সাত দিনের কাঠামোয়, যা স্পষ্টভাবে আমাদের সৃষ্টির ধারণাকে মনে করিয়ে দেয়, যেন কোনো মধ্যযুগীয় নাট্য-ঐক্যের ছায়া বইটির ওপর পড়ে থাকে। আবার প্রতিটি দিন ভেঙে দেওয়া হয়েছে গির্জার নির্ধারিত প্রার্থনা-ঘণ্টা অনুযায়ী, যা ছিল মধ্যযুগে ধর্মীয় জীবনে সময় মাপার স্বীকৃত পদ্ধতি।
একো বইটিতে দুটি নকশা যোগ করেছেন। এগুলো প্রায় তার সেমিওটিক্স বিষয়ক লেখায় পাওয়া সূক্ষ্ম ডায়াগ্রামের মতো। একটি নকশা পুরো মঠের, যা গম্ভীর ও বিশদ স্থাপত্যরূপ। আরেকটি নকশা গ্রন্থাগারের, যার বিন্যাস ল্যাবিরিন্থ অর্থাৎ গোলকধাঁধার ধাঁচে তৈরি। তিনি পাঠককে আরও একটি কৌতূহলপূর্ণ খেলা দেন; রাশিচক্রের চিহ্নগুলোর ওপর ভিত্তি করা এক সাংকেতিক কোড। গল্পের ভেতর এই কোড ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এবং পাঠককে তদন্তের অংশীদার করে রাখে।
অ্যাডসোর বর্ণনার ভঙ্গি পাঠককে চমকে দেয়। তিনি যেন এক ধরনের অগোছালো, গম্ভীর, অতিধর্মনিষ্ঠ ড. ওয়াটসন, যিনি ঘটনাগুলো বলেন কিন্তু সবসময় পুরোটা বোঝেন না। তার সঙ্গী উইলিয়াম অব বাস্কারভিল, ইংল্যান্ড থেকে আসা এক ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী। উইলিয়ামের উপর অর্পিত দায়িত্ব ছিল সম্রাট লুইস চতুর্থ এবং বিতর্কিত পোপ জন বাইশ-এর মধ্যে সমঝোতার পথ খোঁজা। এই জন বাইশ নামটি এতটাই বিতর্কের ভার বহন করেছিল যে, পরে আর কোনো পোপই তা গ্রহণ করেননি, এমনকি বিশ শতক পর্যন্তও নয়।
উইলিয়ামের চরিত্রে আংশিকভাবে ধরা পড়ে তারই দেশবাসী ও বন্ধু উইলিয়াম অব অকাম-এর ছায়া। অকামের মতো তিনিও যুক্তির ধারালো ছুরি ব্যবহার করেন, সমকালীন উন্মাদনা আর বাড়াবাড়িকে ছেঁটে ফেলেন। এক সময় তিনি ইনকুইজিশন-এর দায়িত্বে ছিলেন, তবে কঠোর শাস্তির চেয়ে দয়া দেখানোতেই তার আগ্রহ ছিল বেশি। তিনি শুধু অভিযুক্তদের নয়, অভিযোক্তাদের প্রতিও সমান সন্দেহ পোষণ করতেন।
উইলিয়ামের ভেতরে এমন কিছু লক্ষণও ধরা পড়ে, যা স্পষ্টভাবে উমবের্তো একোর নিজের দিকেই ইশারা করে। বিশেষ করে সাংকেতিক চিহ্ন পড়া এবং কোড ভাঙার দক্ষতা তাকে প্রায় চতুর্দশ শতকের এক সেমিওটিশিয়ানের অবস্থানে দাঁড় করায়। আবার ‘বাস্কারভিল’ নামটি চুপিচুপি তার গোয়েন্দা উত্তরাধিকার প্রকাশ করে। এই নামের সূত্র ধরে তাকে সহজেই প্রতিষ্ঠিত গোয়েন্দা ধারায় বসানো যায়, যেখানে শার্লক হোমস-এর ছায়া অনিবার্যভাবে এসে পড়ে।
মঠে পা রাখার পর উইলিয়ামের প্রথম কাজই ছিল এক হারিয়ে যাওয়া ঘোড়ার সন্ধান দেওয়া। তিনি ঘোড়াটির নাম ও চেহারাও নির্ভুলভাবে বর্ণনা করেন, যদিও আগে কখনো তাকে দেখেননি, এমনকি তার সম্পর্কে কিছু শোনাও ছিল না তার। তিনি ঘোড়াটির সন্ধান দেওয়ায় সন্ন্যাসীরা স্বাভাবিকভাবেই হতবাক হয়ে যায়। এই বিস্ময়ের সুযোগেই অ্যাবট তাকে সাম্প্রতিক এক অস্বস্তিকর ঘটনার তদন্তে যুক্ত হতে অনুরোধ করেন। মঠের প্রাচীরের ধারে এক সন্ন্যাসীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটি আত্মহত্যা, না কি খুন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উইলিয়াম অব বাস্কারভিল দ্রুতই মঠের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিভিন্ন চরিত্রের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এবং চতুর্দশ শতকের জটিল ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্কের গভীরে ঢুকে পড়েন।
একোর বর্ণনায় ধর্মতত্ত্ব আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জটিলতা অল্প সময়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাঠককে অপ্রয়োজনীয় ভার বইতে হয় না, আবার দরকারি কোনো সূত্রও ফসকে যায় না। ফ্রান্সিসকান সংঘের ভেতর তখন তীব্র বিভাজন চলছিল। একদিকে ছিল জেলট বা স্পিরিচুয়ালরা, যারা সেন্ট ফ্রান্সিস-এর দারিদ্র্যবিষয়ক শিক্ষাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে চাইত। অন্যদিকে ছিল অপেক্ষাকৃত সংযত অংশ, যারা একই শিক্ষার কিছু দিক বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিত।
মঠের কয়েকজন সন্ন্যাসীর অতীত ছিল সন্দেহে ভরা। তারা আগে এমন সব মতাবলম্বী দল বা ভাঙা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যাদের অনেককেই চার্চ ধর্মদ্রোহী বলে চিহ্নিত করেছিল। আবার কারও কারও বিরুদ্ধে ছিল সমকামীসম্পর্কে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ, যা তখনকার ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, বিশেষ করে ক্যাথলিক চার্চ-এর নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবেশে।
তদন্তে প্রথম মৃত্যুটির কারণ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়। যৌন অপরাধবোধের প্রবল চাপ তাকে এক অস্থির মানসিক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু সাত দিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া পরবর্তী চারটি মৃত্যু কোনো সরল ব্যাখ্যায় ধরা দেয় না। প্রতিটি মৃত্যুই যেন অন্য কিছুর দিকে ইশারা করে, দৃশ্যমান ঘটনাকে ছাড়িয়ে মঠের ভেতরে জমে থাকা রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ আর ধর্মীয় অন্ধকারের আরও গভীরে নিয়ে যায়।
খুনগুলো কাহিনির প্রধান আকর্ষণ তৈরি করলেও, তার পাশাপাশি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্রোত চলতে থাকে। প্রথমটির সূত্রপাত হয়, যখন উইলিয়াম নিহত সন্ন্যাসীদের একজনের রচিত পাণ্ডুলিপির প্রান্তচিত্রগুলি খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেন। প্রচলিত ধর্মভীরু অলংকরণের বদলে এই ছবিগুলো যেন এক সম্পূর্ণ উলটো জগতের ইঙ্গিত বহন করে। সেখানে মাছ গাংচিল শিকার করে, কুকুর খরগোশের সামনে পালিয়ে যায়, বানরের মাথায় হরিণের শিং গজায়, পৃথিবী আর নিচে নয়, আকাশও যেন নিজের অবস্থান হারিয়ে উলটে যায়।
উইলিয়াম এই ধরনের শিল্পে স্পষ্ট আনন্দ খুঁজে পান। তার যুক্তি, শব্দখেলা, বিদ্রুপ আর জগৎকে উলটো দিক থেকে দেখা সত্য উন্মোচনের কার্যকর পথ। এগুলো মানুষকে অভ্যস্ত চিন্তার বাইরে যেতে বাধ্য করে। সেই কারণেই তার কাছে হাসি অপরিহার্য। এই কথাগুলো শুনে ফেলেন এক প্রবীণ অন্ধ সন্ন্যাসী, জর্জ অব বুরগোস। তিনি তীব্র আপত্তি জানান। জর্জের মতে, খ্রিষ্ট কখনো হাসেননি। হাসি সন্দেহ জন্ম দেয়, আর সন্দেহই অ্যান্টিক্রাইস্টের পথে নিয়ে যায়।
হাসি নিয়ে বিতর্কটি ধীরে ধীরে নিছক মতভেদের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ক্রমে পরিষ্কার হয়ে ওঠে, জর্জ হাসিকে দমন করতে এবং যারা হাসিকে প্রয়োজনীয় মনে করে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই অবস্থায় উইলিয়াম অব বাস্কারভিল হাসির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে গিয়েই তিনি আবিষ্কার করেন, মঠের ভেতর গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে অ্যারিস্টটল-এর হারিয়ে যাওয়া কমেডি গ্রন্থের একটি অনুলিপি। এই বইয়ের সন্ধান ক্রমে তার তদন্তের সঙ্গে সমান গুরুত্ব পেতে শুরু করে, যেন খুন আর গ্রন্থ একে অন্যের সঙ্গে অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।
জর্জের চোখে অ্যারিস্টটলের এই গ্রন্থ নিখাদ ধর্মদ্রোহ। তার বিশ্বাস, বইটি যদি উইলিয়ামের হাতে পৌঁছে যায়, তবে মঠের ভেতর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এই আশঙ্কা থেকেই তিনি গ্রন্থটির পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন এবং একে একে সেগুলো গিলে খান। তিনি আগে থেকেই পাতার প্রান্তে বিষ মেখে রেখেছিলেন, ফলে বইটিকে ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেকেও তার সমাধিতে পরিণত করেন। এই পর্যায়ে জর্জের আধ্যাত্মিক উদ্ধততা এমন চরমে পৌঁছয় যে তাকে প্রায় শয়তানের সমান্তরালে দাঁড় করানো যায়। আর অ্যারিস্টটল-এর গ্রন্থের সেই বিষাক্ত প্রান্তই জর্জের মৃত্যু ডেকে আনে, যেন যুক্তির স্পর্শে অন্ধ ধর্মীয় দমননীতির অবসান ঘটে।
অ্যাডসোর উদ্দেশে উইলিয়াম তখন ঘটনার সারবিন্দুতে পৌঁছান। মানুষের প্রতি যাদের টান আছে, তাদের কাজ সম্ভবত সত্যকে নিয়ে হাসতে শেখানো, সত্যকেই হাস্যরসের ভেতর আনতে শেখানো। কারণ সত্যের প্রতি উন্মত্ত, অন্ধ আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করাই হয়ত সত্যের আসল শিক্ষা। এই উপলব্ধির মুহূর্তটি একসঙ্গে মিলে যায় রহস্যময় মৃত্যুগুলোর সমাধানের সঙ্গে। আর ঠিক তখনই আগুনে গ্রাস হয়ে যায় মঠের সমগ্র পরিসর, তার বিস্তৃত, ল্যাবিরিন্থাকৃতি গ্রন্থাগারসহ, যেন জ্ঞানকে দমন করার চেষ্টার শেষ পরিণতি হিসেবেই সেই ধ্বংস নেমে আসে।
এই সমগ্র আয়োজন একো তুলে ধরেন স্পষ্ট উচ্ছ্বাসে, কিন্তু তার ভেতরে কাজ করে এক ধরনের স্থির, নিয়ন্ত্রিত বিদ্রুপ। যেসব লেখকের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন, তাদের মধ্যে হোর্হে লুইস বোর্হেস বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছেন। উইলিয়াম চরিত্রটি এবং অ্যারিস্টটলের হারানো গ্রন্থের অনুসন্ধান একোর এই রসবোধকেই কার্যকর করে তোলে। বিতর্কগুলোর সূচনা মধ্যযুগীয় পরিসরে হলেও সেগুলো ধীরে ধীরে আধুনিক চিন্তার দিকে বাঁক নেয়। অ্যাডসো, জন্মসূত্রে জার্মান, দাবি করে যে সে দান্তে আলিগিয়েরি-এর নতুন কবিতা পড়তে পারে না, কারণ তা লেখা “ভালগার তুসকান”-এ। অথচ সে গোপনে দান্তেকে উদ্ধৃত করে, ঠিক যেমন গোপনে উদ্ধৃত করে জেমস জয়েসকেও। এই ইঙ্গিতগুলো বোঝায়, চরিত্রটি এক ধরনের শৈলী ব্যবহার করলেও চিন্তা করতে শিখেছে আরেক শৈলীর ভেতর দিয়ে। উইলিয়াম উইভার-এর ইংরেজি অনুবাদে মূল ইতালীয় গদ্যের বাগ্মিতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বাংলায় অনুবাদ করেছেন জি এইচ হাবীব। বাংলা অনুবাদটিও পাঠযোগ্য ও স্বচ্ছ।









