ডিপ ওয়েব

Send
অভিষেক সরকার
প্রকাশিত : ১৩:১১, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৩, নভেম্বর ১৭, ২০১৯



“Blessed are the sleepy ones for they shall soon drop off” – Friedrich Nietzsche

পদ্মনাভন
এক এক সময় দুঃস্বপ্নের ভেতরে আরো দুঃস্বপ্ন দেখে কঙ্কাবতী। সারা শরীর জুড়ে ঘুরে বেড়ানো সাপগুলোর সঙ্গে লড়তে লড়তেই মনে হল যেন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে দেহ। হ্যাঁ, ঘুমের মধ্যে ঘুম। সেই ঘুমের মধ্যে ঘুমে দেখল সাদা ধবধবে মখমলের মতো পা জড়িয়ে ধরেছে দুটো সুঠাম কুচকুচে কালো লোক। তাদের জিভের আদর গোড়ালি থেকে হাঁটু হয়ে আরো আরো ওপরে উঠছে ক্রমশ। এক সময় যোনির পাপড়িতে দাঁতের হাল্কা ছোঁয়া লাগে। হিসহিসিয়ে ওঠে কঙ্কাবতী। আর তার ঠিক পরেই ওর গনগনে আঁচে পুড়তে থাকা শরীর থেকে মুহূর্তের জন্য মুখ তোলে লোকদুটো। ভারী চোখের পাতা আলতো খুলে হাসতে চেষ্টা করে কঙ্কাবতী। উফ! বুকটা মুচড়ে মুচড়ে যেন অলিন্দ, নিলয় থেকে গরম রক্ত নিংড়ে নিচ্ছে খরখরে হাত। মাথাটা একটু তুলে ওদের দিকে তাকায় কঙ্কাবতী। আর হঠাৎ ছিটকে সরে যায় লোকদুটো। ওদের চোখগুলো ভয়ে বড়ো বড়ো হয়ে যায়, ঠোঁটদুটো কাঁপতে থাকে। মিলিয়ে যায় লোকদুটো। আর ঠিক তখনই ওদের ডাকতে যায় কঙ্কাবতী। কাটা জিভের ফাঁক দিয়ে হিস হিস শব্দ বার হয় শুধু। নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে আঁতকে ওঠে কঙ্কা। ধীরে ধীরে আঁশে ঢেকে যাচ্ছে শরীর। হাত দুটো মিলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। সেদিন সে বুঝেছিল ভয়ঙ্করের মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেয়ে নিজে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ঢের বেশি ভয়ের। এক পাশে এলিয়ে পড়া হাতে ঝাঁকুনি লেগেছিল তার অব্যবহিত পরেই। চড়চড় করে খুলে গিয়েছিল ভেলক্রো। ধীরে ধীরে মাথার ওপর থেকে, চোখের ওপর থেকে সরে যাচ্ছিল ড্রিম ট্র্যাকার। ডাক্তার চুক চুক শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল আবার, ‘হচ্ছে না কঙ্কাবতী, হচ্ছে না। আপনার মধ্যে কোনো পজিটিভ ভাইব পাচ্ছি না কেন বলুন তো!’ দু-দুটো ঘুম পার হয়ে এসে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল কঙ্কা। ডিপ ওয়েব রিসার্চ ল্যাবের করিডরে আলো আলো ছায়া ছায়া মানুষ। ট্রমা কেয়ার সেন্টারের নরম আলোর দিকে চেয়ে কঙ্কা বোঝার চেষ্টা করে সে কোথা থেকে কোথায় এসে পড়েছে—কোন সাল, কত তারিখ, দিন না রাত...
মাস্টার স্ক্রিনে প্রৌঢ়ের উদ্বিগ্ন মুখের ছায়া কেটে উল্লম্ব আলোর দাগ। এতক্ষণ স্থির তাকিয়েছিলেন ডক্টর পদ্মনাভন। আজ সমস্ত মিটিং থেকে ছুটি নিয়েছেন। এই একটি কেসের জন্য। কনফারেন্স স্ক্রিনে ডক্টর মিনোরু ওৎসুকি আর অধ্যাপক সাইমন হ্যারিসনের চোখ মাছের চোখের মতো স্থির। মুখের একটি রেখাও ভাঙছে না। মোহনার সূর্যাস্ত নীল কাচে উদ্ভিদের রহস্যময় ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে। গোধুলির লাল জলের ওপর ডক্টর পদ্মনাভনের ডিপওয়েব স্পেশাল জোন—ভাসমান শহর। আর সেই শহরের কেন্দ্রে এই বিশাল প্রাসাদ—ডিপ ওয়েব রিসার্চ ল্যাব। অফিস, কাউন্সেলিং ইউনিট, রিসার্চ ল্যাব ছাড়াও প্রায় সাড়ে চারশ পরিবারের থাকার বন্দোবস্ত। অত্যাধুনিক গ্যাজেটে মোড়া। এই প্রাসাদের ভেতরে চকচকে মহিলা, পুরুষ, আদুরে শিশুদের পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে একসময় দেখা যাবে সাদা ধবধবে দেওয়ালে ধাতব দরজা। দরজার ওপারে কাঁচাপাকা চুলের প্রৌঢ়—ডক্টর পদ্মনাভন। দেওয়ালটা, শুধু স্থান নয়, দুটো সময়ের বিভাজিকা যেন। পদ্মনাভনের ল্যাবরেটরি অগোছালো। এখনও মান্ধাতার আমলের ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, দেওয়ালে তিরুপতি, মা সরস্বতী আর যিশুখ্রিস্টের ছবি। ভিতরে আর বাইরে দুটো ভিন্ন গ্রহ যেন। পদ্মনাভন যেন ওই সব চলে ফিরে বেড়ানো প্রাণির চেয়ে আলাদা। সমকালীন প্রযুক্তি বলতে ঘরভর্তি ভার্চুয়াল স্ক্রিনে অসংখ্য নম্বর, ভেরিয়েবল, অপারেটর, কোড... এক সঙ্গে একাধিক স্ক্রিনে কাজ করেন পদ্মনাভন। ল্যাপটপটা পাশে খোলা থাকে। স্মৃতির মতো। ওই ল্যাপটপে লেখা কোডগুলো ভার্চুয়াল স্ক্রিনগুলো থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—ডিপ ওয়েব নেটওয়ার্ক। নানান শহরের ডিপ ওয়েব রিসার্চ ল্যাবে ওই সংকেতের মাধ্যমে অন্ধ মানুষ দৃষ্টি ফিরে পান, তীব্র যন্ত্রণায় পুড়তে থাকা, ধুঁকতে থাকা মানুষ শুশ্রূষা পান। পদ্মনাভন রেভোল্যুশনের সামনে চ্যালেঞ্জ কঙ্কাবতী গোয়ালা। কনফারেন্স স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টান পদ্মনাভন। ওৎসুকি শরীরটা চেয়ারে হেলিয়ে দেন। নিঃশব্দে ডিসকানেক্ট করেন। সাইমন গম্ভীর হয়ে আছেন। চোখ নামিয়ে হাতের আঙুলের দিকে চেয়ে একবার বিড়বিড় করলেন, ‘কান্ট ইম্যাজিন হোয়াই...’। একই প্রশ্ন পদ্মনাভনের। আর ভালো লাগছে না ঘরটা। গুমোট লাগছে। গ্লাস ওয়াল খুলে দিয়ে লাগোয়া ইনফিনিটি পুলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।
পদ্মনাভন অপ্রতিরোধ্য। অন্তত গত কুড়ি বছর সারা বিশ্ব তা-ই বিশ্বাস করে এসেছে। তিনি প্রাণের সঙ্গে প্রাণের সেতুবন্ধনকারী অতিমানুষ। এই সময়কে খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, চিকিৎসাশাস্ত্রীরা বলেন পদ্মনাভন এরা—পদ্মনাভন যুগ। জড় প্রযুক্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানকে অ্যান্ড্রয়েড তৈরি করতে শিখিয়েছে দশকের পর দশক। হৃদযন্ত্র বিকল হলে ধাতব নকল বসেছে তার জায়গায়। আসল অঙ্গের জায়গায় বসেছে নকল অঙ্গ, চিপ, মাইক্রোপ্রসেসর। তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে ব্যাটারি, ক্লাউড, কোডরাইটার সফ্টওয়্যার। ডিজিটাল টেকনোলজি নিয়ন্ত্রণ করেছে শরীরকে। সাপের খোলস ছাড়ার মতো গোটা মানবসভ্যতা শরীর ছাড়তে ছাড়তে ক্রমশ যন্ত্রের দিকে এগিয়েছে কয়েক শতাব্দী জুড়ে। সমনামবুলেন্স—ঘুমের ঘোরে হাঁটতে হাঁটতে ক্রমশ প্রাণ থেকে অপ্রাণে মিশে গেছে শরীর। ক্রমশ বন্দি হয়ে পড়েছে। স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে। তড়িৎচৌম্বক আকর্ষণে সাড়া দিয়ে ওঠা যন্ত্র কেড়ে নিয়েছে প্রাণ, সার্ভারের মুহূর্তের চোখ বোজায় নিথর হয়ে গেছে হাজার হাজার মাইল দূরের শরীর। বহু মানুষ সারা জীবন যন্ত্রের নাগালের ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হয়েছে—পাছে নাগাল পেরিয়ে গেলে মুছে যায় স্মৃতি বা নিঃসাড় হয়ে যায় দেহ অথবা শ্লথ হয়ে আসে কৃত্রিম পেশী। পুলের পাড়ে বসে জলে আঙুল ডুবিয়ে দেন পদ্মনাভন। টলটলে জলে কাঁপা কাঁপা রেখায় নিধির মুখটা একবার ফুটে উঠেই মিলিয়ে যায়। কতই বা বয়স তখন মেয়েটার, ১৫ কি ১৬—মায়ের মতো দেখতে ছিল—হবহু। কী যে হল, হঠাৎ মেয়ের মেমরি এক্সটেনশন চাই। নতুন অ্যাক্সেসরি—মগজে বসিয়ে নিলে স্মৃতি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। পদ্মনাভন পই পই করে বারণ কছিলেন। জড় প্রযুক্তি যুগের যুক্তিহীনতা, লক্ষ্যহীন উৎপাদনের পাগলামিকে ভয় পেতেন পদ্মনাভন। আজও পান। এ এক সন্ত্রাস। উৎপাদনের সন্ত্রাস, আরোর সন্ত্রাস! একদিকে তথ্য মজুত থাকছে ক্লাউডে, চশমার কাচে ভার্চুয়াল স্ক্রিন—গতকাল যে পাবে ওয়ালেট হারিয়েছি তার নাম থেকে কিফারের ইনস্টলেশন, যে কেউ যখন খুশী খুঁজে নিতে পারে, আবার তৈরি হচ্ছে মেমরি চিপ! দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন পদ্মনাভন। নিধিকে তিনি বোঝাতে পারেননি। মস্তিষ্কের স্মৃতিবর্দ্ধক চিপ থেকে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ যখন ধরা পড়ল তারপর আর বেশিদিন বাঁচেনি মেয়েটা। নিজের মেয়ের মাথা কোলে নিয়ে পাথরের মতো বসেছিলেন পদ্মনাভন। পাঁচিলের শ্যাওলার ওপর দিয়ে পিঁপড়ের সার তখন ঠোঁটে ডিম নিয়ে বাসায় ফিরছে।
তখন তাঁর এই প্রতিষ্ঠা কোথায়, কে-ই বা তাঁর কথা শুনত। য়ুনিভার্সিটির চাকরি চলে যাওয়ার পর বাপ আর মেয়ের ঠাঁই হয়েছিল ডিসট্রেস সেন্টারে। গায়ে গায়ে ছোটো ছোটো পায়রার খোপের মতো দু-কামরার বাড়ি। সেই বাড়ির ছাদে টিনের দেওয়াল ঘেরা ল্যাবরেটরিতে বসে দিনে পর দিন প্রাণের রহস্যময় সঞ্চারণাকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। লিখে রেখেছেন ওই ল্যাপটপে। নিজের সবটুকু সম্বল উজাড় করে দিয়ে ওই ল্যাবটাকে সাজিয়েছিলেন পদ্মনাভন। সরকারি কর্মীরা ছাঁটাইয়ের পর বেতন অনুযায়ী নানান রকম ভাতা পেতেন সে আমলে। সামান্য হলেও ওর মধ্যে থেকেই তিল তিল করে টাকা জমানো হত ল্যাবের জন্য। সেই ল্যাবের ভেতর বসে মনে মনে এক কল্পবিশ্ব বুনে ফেলতেন পদ্মনাভন। সেই দুনিয়ায় ফুটে উঠত ডারউইন’স অর্কিড। পাপড়িগুলোর ঠিক মাঝখানে দীর্ঘ সরু নল নেমে গেছে বৃন্ত অবধি। আর সেই নেক্টার টিউবের গভীরে জমে আছে মধু। ওই মধুর নাগাল পায় একমাত্র মর্গ্যান’স স্ফিংক্স মথ। কত শতাব্দীর বিবর্তনে তার মুখের ভেতর গড়ে উঠেছে বারো ইঞ্চির জিভ—গোটা দেহের প্রায় চার গুণ লম্বা সেই জিভ ছাড়া ফুলের মধুর নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। আবার ফুলের মধু পাত্রটির দৈর্ঘ কম হলে পরাগরেণু মথের দেহ স্পর্শ করবে না। ব্যাহত হবে জনন। রেড স্কুইরেলের হাত থেকে বীজ বাঁচাতে লজপোল পাইন তার ফলকে মুড়েছে ঘন কিন্তু পাতলা আঁশে যাতে কাঠবেড়ালির আঁচড়ে একসঙ্গে বাইরের আবরণের অনেকটা খুবলে বেরিয়ে না আসে। আবার যেখানে পাইন বীজের খাদক ক্রসবিল, সেখানে ফলের বাইরের আবরণ ঘন নয়, শক্ত, যাতে সহজে ভেদ না করা যায়। সহবিবর্তন— কোএভোল্যুশন। এক শরীর থেকে অন্য শরীরে, জিন থেকে জিনে, চারিয়ে যাচ্ছে ইনফর্মেশন। জিনের স্মৃতির ভেতর বোনা হয়ে যায় প্রাণের পরিবেশ, প্রতিবেশ, চরাচরের সঙ্গে তার সম্পর্ক—ইনফর্মেশন—প্রাণের সঙ্গে প্রাণের অদৃশ্য যোগাযোগ—ডিপ ওয়েব। এই ইনফর্মেশনকে ধরে ফেলতে পারলে, একবার এই রহস্য উন্মোচন করতে পারলেই এক প্রাণির শরীরে অন্য প্রাণি লিখে দেওয়া যায়। না না জেনেটিক অসুখ নয়, সারিয়ে ফেলা যায় পারসেপশনের সবরকম সমস্যা। জিনের অসুখ সারাতে এত কসরত করতে হয় না। আসল কথা যদি এক দেহের ইনফর্মেশন অন্য দেহে লিখে ফেলা যায়, ইন্দ্রিয়ানুভূতিও লিখে দেওয়া সম্ভব। এক স্নায়ুতন্ত্রে লিখে ফেলা যায় অন্য স্নায়ুতন্ত্র। তবে তো অন্ধের দেহকেও দৃশ্যানুভূতি দেওয়া সম্ভব—নকল চোখ নয়, দৃশ্যের অনুভূতি— সত্যি সত্যি। নিখুঁত ন্যারেশন তার মস্তিষ্কে দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে পারে—বায়োপ্রোগ্র্যামিং। আসলে দুটো শরীর একই শরীরকে ভাগ করে নিতে পারে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছুটতে ছুটতে মিলিয়ে যেতে পারে দিগন্তে। এই বস্তুসত্যের চার দেওয়ালের বাইরে যে আরও বড় সত্যের জগৎ—সেই সত্যে উপনীত হোক মানুষ। কারও পা কাটা পড়া যদি সত্যি হয়, তার ছোটার ইচ্ছেটা সত্য নয় কেন? এই ল্যাবে বসেই প্রথম সংকেত লিখেছেন পদ্মনাভন। দু-একজন কাজের ধরণ শুনে বোদ্ধা বোদ্ধা হাবভাব নিয়ে মন্তব্য পাড়ত, ‘সবই তো বুঝলাম মশায়, কিন্তু কেউ তো হিটলার বা গোয়েবেলসের কপিও বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পারে।’ পদ্মনাভন হাসতেন। হিটলারের আমলে তাঁর জন্ম হয়নি, তাতে হিটলারের কপির অভাব হয়েছে কি? ১৯৪৫-এ নাৎসি পার্টির সদস্যসংখ্যা ৮০ মিলিয়ন পেরিয়ে গিয়েছিল—জিনের কেরামতি ছাড়াই। আইডিওলজির সঙ্গে জিনের কী সম্পর্ক! ক্ষতি করার যে পরিমাণ সরঞ্জাম মানুষের হাতে মজুত আছে, তাতে গোটা গ্রহটাকে এক দিনে লোপাট করে ফেলা যায়। ওসব কথায় কান দিতেন না পদ্মনাভন। এসব আধসেদ্ধ ভাসা ভাসা বিজ্ঞানচেতনা চায়ের দোকানের বেঞ্চিতেই মানায় ভালো।
এত ওপর থেকে নিচে তাকালে পশু-পাখি, মানুষ, গাড়ি সবই একটা বিরাট তারজালির ওপর চলে ফিরে বেড়াচ্ছে মনে হয়। ওই তারজালি, ওই নেটওয়র্কই চেতনবিশ্বের প্রকৃত রূপ। জল থেকে পা তোলেন পদ্মনাভন। কঙ্কাবতী গোয়ালার কাছে তিনি হেরে যেতে পারেন না। ডিপ ওয়েবের নানান কেয়ার সেন্টারে হাজার হাজার ভলান্টিয়ার কাজ করেন—হোস্ট। এছাড়া দুনিয়া জুড়ে অসংখ্য ডোনার আছেন—দেহদাতা। কিন্তু সবাই সবার বডি হোস্ট করতে পারে না। দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া চাই—ডারউইন'স অর্কিড আর মর্গ্যান'স স্ফিংক্স মথের মতো। বয়স থেকে লিঙ্গ, যৌনতা থেকে আর্থিক সম্বল—দেহের নির্মাণে যা কিছুর সামান্যতমও ভূমিকা আছে সব মাথায় রাখতে হয়। দুটো মানুষকে একাত্ম হতে হয়, বিশ্বাস করতে হয় আমিও ওরই মতো—প্রতিরূপ। কঙ্কাবতীর জন্য কত যে কম্বিনেশন ট্রাই করেছেন পদ্মনাভন। এই ডিপ ওয়েবেরই ভলান্টিয়ার কঙ্কাবতী—প্রায় দশ-বারো বছর হল। ভলান্টিয়ারদের স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত সচেতন কম্পানি। মোটা মাইনে থেকে দামি ফ্ল্যাট কিছুরই ত্রুটি নেই। কিন্তু কঙ্কা তো ঠিক আর পাঁচজনের মতো নয়। ছোট্ট কঙ্কাবতীকে মনে পড়ে পদ্মনাভনের, ছবি ভেসে ওঠে। মেয়েটা এখানে এসেছিল সুন্দরবনের রেসকিউ ক্যাম্প থেকে। গায়ে জ্বর, হাতে পায়ে জায়গায় জায়গায় জমাট বেঁধে ছিল নুন। সুনামিতে তোলপাড় ব-দ্বীপ থেকে শুধু মেয়েটাকেই উদ্ধার করতে পেরেছিল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম। বাবা-মাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পদ্মনাভনকে জানানো হয়েছিল মেয়েটার বাবা ছিলেন কলেজের অধ্যাপক—সাহিত্য পড়াতেন। মা বোধ হয় কোনো ব্যাংকে, না না গৃহবধূ কি? সামান্য ভ্রূ কুঁচকে ভাবার চেষ্টা করেন পদ্মনাভন। নাঃ, মনে পড়ছে না। কিন্তু মেয়েটার লেখাপড়া, বেড়ে ওঠা সব এই ডিপ ওয়েব জোনে। এই সংস্থা যতটা তাঁর নিজের, ততটাই কঙ্কারও। হতাশ হলে চলবে না। ঘরে ফিরে মাস্টার স্ক্রিনে ইনস্ট্রাকশন মোড অন করেন পদ্মনাভন। ফ্লয়ের তখন সবে ইউনিট থেকে বেরিয়ে হাতের ওপর নিকোটিন প্যাচটা সেট করছে—স্যাটেলাইট কলারে এমার্জেন্সি নোটিফিকেশন ভেসে উঠল। কাঁধের ওপর থেকে বুকের ওপর এসে পড়া সোনালি চুল এক ঝটকায় পিঠে ফেলে দিয়ে ইউনিটে ফিরল চিফ থেরাপিস্ট ফ্লয়ের।

কঙ্কাবতী
ওরা ঘুম পাড়িয়ে দেবে আবার। কঙ্কা বুঝতে পারে। ডিপ ওয়েব ন্যাভিগেটরে বসে আছেন পদ্মনাভন নিজেই। কঙ্কাবতীর দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছেন। চোখ দুটোর পাশে চামড়া কুচকে আছে—বুড়ো হয়েছে লোকটা। এই বয়সে এতটা ঝুঁকি...ডক্টর ইয়েলৎসিনের পর আর কেউ এ কাজ করেনি—ইয়েলৎসিন স্ত্রীর সিজোফ্রেনিয়া সারাতে চেয়েছিলেন অবচেতনে ডুব দিয়ে। আর ফিরতে পারেননি। চিরকালের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল তাঁর চেতনা। কোমায় আক্রান্ত মানুষটাকে কয়েক মাস দেখাশোনা করেছিল কঙ্কা। ডাক্তারবাবুকে বারণ করতে চায় কঙ্কাবতী। কিন্তু জিভটা মোটা হয়ে আছে। পেশীগুলো আয়ত্তে নেই ঠিক। লোকটাকে যখন প্রথম দেখেছিল টান টান ছিল শরীর। শান্ত চোখ। আর কঙ্কাবতীর চোখে মুখে তখন সদ্যকৈশোরের আলো। জয়ন্ত কাকা কানে কানে বলেছিল, 'খুব বড়ো ডাক্তার, ডাক্তারবাবুকে প্রণাম করো'। সেই যে কানে ঢুকল ডাক্তারবাবু, পদ্মনাভনকে আর কোনোদিন স্যর বলে উঠতে পারল না কঙ্কাবতী। ডাক্তারবাবুকে বাবার কথা বলেছিল জয়ন্ত কাকা, মায়ের কথা...
ফ্লয়েরের ঝাঁকুনিতে জ্ঞান ফেরে কঙ্কার। গত বেশ কয়েক মাস ধরে এরকম ব্ল্যাক আউট হচ্ছে— মাঝে মাঝে। পদ্মনাভনের চোখের ওপর ডার্ক গ্লাস নেমে এসেছে। মাথায়, দেহের নানান অঙ্গে বসছে সেন্সর। ব্লাড প্রেশার, পালস রেট... আরো কত কী মাপা হবে। কঙ্কাকে হাল্কা ম্যাসাজ দিচ্ছে ফিজিওথেরাপিস্ট। টর্চ জ্বেলে চোখ দেখছে ফ্লয়ের। মাস্টার স্ক্রিনে পদ্মনাভনের মুখ দেখা যাচ্ছে না আর। ধীরে ধীরে চোখ বোজে কঙ্কা।
জানো ডাক্তারবাবু তোমাকে আমি কতদিইইন দূর থেকে দেখেছি। দেশ বিদেশের বড়ো বড়ো সায়েন্টিস্টের সঙ্গে, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কেমন হাত নেড়ে, মাথা নেড়ে কথা বলতে তুমি। আজকাল আর ওরকম মিটিং হয় না তোমার। এখন তোমার মিটিং মন্ত্রী-সান্ত্রী বা আমলাদের সঙ্গে। দুর্ভেদ্য দেওয়ালের ওপারে। একা হয়ে গেছ ডাক্তারবাবু। তবে খুব মন দিয়ে কিছু শোনার সময় চশমাটা খুলে হাতে নাও। এখনও। বাঁদিকের ডাঁটিটা দুটো ঠোঁটের মাঝে চেপে ধরো, মাথাটা সামনে সামান্য ঝুঁকে থাকে, ভুরু দুটো ধনুকের মতো বাঁকা আমি ইচ্ছে করে তোমার যাতায়াতের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। তুমি দেখতে পেলে গাল টিপে দিতে, হাসতে। তুমি চলে গেলে হাসিটা লেগে থাকত। নতুন নতুন যখন এসেছিলাম, আমার অসুখ করলে তুমি দেখতে আসতে। মাথার কাছে বসতে। কপালে হাত রাখতে। চিকিৎসা যে-ই করুক, ঘণ্টায় ঘণ্টায় রিপোর্ট নিতে তুমি। যখন প্রথম প্রথম বায়োপ্রোগ্র্যামিং শিখছি, আমার মনে হত আমি তোমার মতো হব। তখনো বুঝিনি তোমার মতো হওয়া যায় না, হয় তুমি হতে হবে নাহলে এই আমরা হয়ে থেকে যেতে হয় ডাক্তারবাবু। তুমি তো ঈশ্বর, এই বিরাট উঁচু টাওয়ারের ওপর মেঘেদের দেওয়ালে ঘেরা তোমার বাড়ি। তুমি প্রাণের সঙ্গে প্রাণ জুড়ে দিতে পার, বদলে দিতে পার শরীর, অঙ্গহীনের অঙ্গ ফিরিয়ে দাও ডাক্তারবাবু। কত বড়ো মানুষ তুমি, এই বিরাট প্রতিষ্ঠা, এই সময়, এই জগৎ তোমার সৃষ্টি তবু আমার মতো সামান্য মেয়েকে নিয়ে তোমার রাতের ঘুম চলে যায়। ন্যাভিগেশনের ঝুঁকি নাও। তুমি হতে আমার সাতশ জন্ম লাগবে, কিন্তু যখন ভলান্টিয়ার হয়ে এই রিসার্চ ল্যাবে ঢুকলাম, তুমি গর্বিত অভিভাবকের মতো তাকিয়ে ছিলে আমার দিকে, মনে হয়েছিল তোমার পৃথিবীতে আমিও একটা দাগ কেটে যাব। আমার ফাইনাল ইয়ারের প্রজেক্টের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনে লাল হয়ে যাচ্ছিল তোমার গাল। আর আমি দেখছিলাম তোমার হাতের ওপর আঁকাবাঁকা নীল রেখাগুলো, বুকের ভেতর হাপরের ওঠা নামা শুনতে পাচ্ছিলাম।
প্রথম অ্যাটাকটা হওয়ার আগে অবধি ঠিকই তো চলছিল সব। তখন আয়েশাকে হোস্ট করছি আমি। আমারই বয়সী মেয়ে। সীমান্তের কাছে ওর বাড়ি। ঠিক কোথায় মনে পড়ে না আর। বেশ লাগত ওর সাথে সময় কাটাতে—কফিশপে, বাড়িতে, সিনেমায়। এক ডিসেম্বরের রাতে হেভি শেলিং-এ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল ওর স্বামী, ছোট্ট ছেলেটাকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল বাড়ি। ট্রমা কেয়ার সেন্টারে সেই প্রথম পা রাখলাম আমি। তুমি জানতে না। রোজের অ্যাসাইনমেন্টের খবর কী করেই বা রাখবে তুমি। ফ্লয়ের বলেছিল বিশেষ কিছু করার নেই, জাস্ট বি ইওর নরম্যাল সেল্ফ। আমরা ওর মেমরি রিশেপ করে দেব। শক্ত কাজ, মানুষগুলোকে ভুলবে না, শুধু নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার স্মৃতি আবছা হয়ে যাবে। পারসেপশনের ইন্টেনসিটি আমার পারসেপশনের সঙ্গে হারমোনাইজ করে দেওয়া হবে। কী করে ভাবলে তুমি ডাক্তারবাবু! মানুষটা একই থাকবে, অটুট থাকবে তার স্মৃতি, শুধু দেখার চোখ বদলে যাবে—যেন সে অন্য মানুষের যন্ত্রণার সাক্ষীমাত্র। যেমন করে আমি তার ট্রমায় কষ্ট পাই, গল্প শুনে, পরোক্ষ অনুভূতি দিয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করি, তেমনটাই সে-ও নিজেকে দেখবে নিজের বাইরে থেকে। তুমি ছাড়া এ কাজ আর কেউ করতে পারত না। তোমার লেখা খুব মন দিয়ে পড়েছি আমি। আমি বিশ্বাস করি ডাক্তারবাবু যে আমার আমিত্ব তিল তিল করে গড়ে ওঠে আমার চারপাশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে। এই যে আমি অমুকটা খেতে ভালোবাসি, তমুক বইটা পছন্দ করি, ওই লোকটাকে একদম ভাল্লাগে না—এই অমুক, তমুক, ওই লোকটাই আসলে আমার ভেতরে আমির বোধের জন্ম দেয়। এই চারপাশটা না থাকলে, এই চারপাশের সঙ্গে আমি আমার ইন্দ্রিয় দিয়ে নিজেকে জুড়ে না রাখতে পারলে আমি বলেও আর কিছু থাকতে পারে না ডাক্তারবাবু। তোমাকে কত ইন্টারভ্যুতে লোকে জিগেস করেছে, 'কিন্তু ডক্টর পদ্মনাভন, মানুষের সেন্স অফ সেল্ফের কি হবে?' তুমি বুঝিয়ে বলতে, সেল্ফ তো তার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। চারপাশের সঙ্গে প্রাণের নিরন্তর বিনিময় চলছে—একটা বিরাট নেটওয়ার্ক প্রাণের সঙ্গে প্রাণকে জুড়ে রেখেছে, ডিপ ওয়েব রিসার্চ ল্যাব তাকে ব্যবহার করছে মাত্র। আমরা যন্ত্র নয়, এমপ্যাথিকে ব্যবহার করছি।
প্রথম অ্যাটাকটার আগে আমিও কোনোদিন ভাবিনি সেল্ফের ভেতরের চোরকুঠুরির কথা। আমাদের যে অনেক গোপন আছে ডাক্তারবাবু। কত কীই তো ভেবেছি তোমায় নিয়ে, বলতে আর পারলাম কই! তুমি অনেক দূরের তারার মতো—নাগালের বাইরে। আবার এমন কত কী আছে যা নিজের কাছেও লুকিয়ে রাখি—চেতনে, অবচেতনে। সে যা হোক, হোস্টিং-এ সময় লাগে। ধীরে ধীরে আয়েশার দুঃস্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছিল। কিন্তু ওর সঙ্গে থাকতে থাকতে ফিকে হয়ে আসছিল আমার ঘুম। ও উসকে দিচ্ছিল আমার ঘুমিয়ে পড়া কোনো স্মৃতি। বীভৎস দুঃস্বপ্ন দেখতাম। বুঝতে পারিনি প্রথম দিকে। প্রথম হোস্টিং বলে ভয়ও ছিল জানো! যদি আমাকে আনফিট বলে, যদি কাজটা চলে যায়! যখন ট্রমা কেয়ার সেন্টারে জানাতে বাধ্য হলাম, ততদিনে সমস্যা পেকে উঠেছে। সন্ত্রাসের স্মৃতি ডিলিট করে দিল ট্রমা কেয়ার। আমার খুব ভালো ঘুম হয়েছিল কদিন। কিন্তু তারপর থেকে বাবা-মার মুখ মনে পড়ে না আর। কিছুদিন অস্বস্তি হত, তারপর ভুলে গেলাম।
বড়ো দায়িত্ব ছিল প্রাকৃত। ভিশনের সমস্যা—পার্টিশন করতে হয়। নিখুঁত পার্টিশন করেছিল ফ্লয়ের। দুজনেই সিম্যুলেশন লেন্স পরে থাকলে তবে একজনের দেখা অন্যজনের চোখে আলো জ্বালবে। নচেৎ অন্ধকার। কিছুদিন বেশ চলল জানো! কি যে অপরূপ সুন্দর ছেলেটা! লেন্স পরে ওর দিকে তাকাইনি কখনো। নিয়ম নেই। মানুষটার মনে হবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে—ভিজুয়াল ফিল্ড—কগনিশন সব ওলটপালট হয়ে যাবে। সেই প্রাকৃতের চোখও সেরে গেল, আমারও প্রোমোশন হল। অ্যাকিউট ডিপ্রশনের রোগী মার্থাকে হোস্ট করতে গিয়ে প্রাকৃতকে গোপন থেকে আরো গোপনে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি আমি। আর কাউকে ডিলিট করতে চাইনি কখনো। শুধু গভীরতর ঘুমর ভেতর ঠেলে দিয়েছি। মেলানিয়া, জুবের, অ্যালেক্স...আমি ক্রমশ ওপরে উঠেছি ডাক্তারবাবু, ফ্ল্যাট উঁচু হয়েছে, অর্থ উপচ পড়েছে আর উন্মাদের মতো অন্যের সঙ্গে নিজেকে সিংক করিয়ে গেছি। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে অনেক গভীরে গোপনেরা ষড়যন্ত্র করছে, যুদ্ধ করছে বহিঃপৃথিবীর সঙ্গে—ওরা ছাড়া আমি বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
যে আমিকে কাল নিজর ঘর থেকে উদ্ধার করে এনেছে তোমার মেডিক্যাল টিম, তারা আমার দেহে মুভমেন্ট আনার চেষ্টা করছে, পেশী সচল রাখতে চাইছে। ওরা জানে না আমি তোমার উৎপাদন মাত্র—অ্যান্ড্রয়েড। আমি ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছি ডাক্তারবাবু, যেমন যায় তোমার ভলান্টিয়াররা—ওরা বুঝতেও পারে না ওরা সচল আছে মাত্র। ওরা অস্বীকারের মধ্যে দিয়ে সচল আছে। ওদের জীবনে ওরা প্রাকৃতকে অস্বীকার করবে, মুছে দেবে অস্বস্তিকর স্মৃতি। ওরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না ডাক্তারবাবু। ওরা আসলে তোমার ছায়া। তুমি ওদের বিশ্বাস করাও ওরা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। আসলে ওরা সবাই শুধু তোমার ওপর নির্ভরশীল ডাক্তারবাবু। তুমিই সেই এক—একামি বহুস্যাম। জেনে বা না জেনে ওরা এই বন্দোবস্ত মেনে নিয়েছে। ওরা প্রতি মুহূর্তে শুধু সচল থাকতে চায়। আমি যে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমার বিশ্বে তুমি ছাড়া আর কোনো আমির অস্তিত্ব সম্ভব নয় ডাক্তারবাবু। আমার যুদ্ধ তোমার সঙ্গে। আমার গোপনেরা শেষ চেষ্টা করছে তোমার অনুপ্রবশকে রুখে দেওয়ার। যদি কেউ সেই ব্যূহ ভেদ করে ফেলে অসীম গভীর অন্ধকাআআর...
ফ্লয়ের তড়িৎগতিতে ইঞ্জেকশনের সূচ ঢুকিয়ে দেয় কঙ্কাবতীর শিরায়। ঘরে শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। কে যেন ফিসফিসিয়ে জিগ্যেস করে, নাড়ি পাওয়া যাচ্ছে? দীর্ঘ সুরঙ্গের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে পদ্মনাভন স্বপ্ন দেখেন কঙ্কার দেহ ধীরে ধীরে অ্যামিবার আকৃতি নিচ্ছে। কোষের ক্রমবিভাজনে ক্রমশ খালি হয়ে যাচ্ছে মেয়ে।

 

 

//জেডএস//

লাইভ

টপ