মহামারি-উত্তর সাহিত্যমড়কের গর্ভে সৃজনের বীজ

Send
মূল : এলিজাবেথ আউটা, অনুবাদ : শেলী নাজ
প্রকাশিত : ১১:৫১, মে ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৬, মে ১১, ২০২০

ক্যাথেরিন অ্যানি পোর্টার ১৯১৮ সালের অক্টোবর মাসে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যাকে তিনি বলেন ‘এক আনন্দময় দিব্যদৃষ্টি’। নভেল ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসেন, যে ইনফ্লুয়েঞ্জায় সংক্রমিত হয়েছিল পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ, যার সংখ্যা ৫০০ মিলিয়ন। সে সময় এইচ ওয়ান এন ওয়ান ভাইরাসটি প্রাণ নিয়েছিল ৫০ মিলিয়ন মানুষের। শুধু আমেরিকাতেই মারা গিয়েছিলেন প্রায় আট লক্ষ মানুষ। পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্কিন উপন্যাসিক পোর্টারের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে, তিনি মরে যেতে যেতে বেঁচে ফিরে আসেন। আর অনুভব করেন যেন তিনি চলে এসেছেন এক স্বর্গভূমিতে, যা ব্যথা ও ভয়মুক্ত, যা দখল করে রেখেছিল তার শরীর। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো তিনি শুধু ওই ভয়াবহ অসুস্থতা থেকেই ফিরে আসেননি, উপরন্তু রচনা করেছিলেন শক্তিশালী নভেলা—‘পেইল হর্স, পেইল রাইডার’। মহামারি নিয়ে লেখা অল্পসংখ্যক সাহিত্যকর্মের মধ্যে বইটি অন্যতম। আমেরিকায় বিংশ ও একবিংশ শতকে সংঘটিত সকল যুদ্ধে যত মানুষ মরেছে তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই মহামারিতে। পোর্টারের মনে হয়েছিল এই অভিজ্ঞতা তার জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। মহামারিতে আক্রান্ত হওয়ার পরের জীবন কোনোভাবেই তার আগের জীবনের মতো ছিল না। অনেকদিন লেগেছিল তার ঘর থেকে বাইরে গিয়ে বদলে যাওয়া পৃথিবীতে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে। 

কোভিড-১৯ নামের এই অদৃশ্য ভাইরাস পৃথিবীতে আঘাত হানার পর আমাদের আগের পৃথিবীর জীবন কোনোভাবেই আর আগের মতো নেই। এক অদ্ভুতভাবে আমাদের চির-পরিচিত জীবনকে পাল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছে এই ভাইরাস। এটা এমন এক আমূল পরিবর্তন, এমন এক মনোজাগতিক দুনিয়া বদলের ঘটনা, যে ঘটনা ঘটার আগের ও পরের জীবনাচরণ সংস্কৃতি, সাহিত্য ও শিল্পের গতিপ্রকৃতি কোনোভাবেই এক থাকবে না। আমরা আবির্ভূত হবো এক পরিবর্তিত পৃথিবীতে, যার অর্থনীতি, রাজনীতি আর যুদ্ধনীতির পরিবর্তিত চেহারা আমাদের নিশ্চিত ধারণার বাইরে। আমরা মুখোশ পরছি, আমাদের পুরাতন মুখের এক নতুন অবয়ব তৈরি হয়েছে, আমাদের উপন্যাসে, গল্পে, অণুগল্পে অঙ্কিত হচ্ছে তার রূপ। ‘উদ্বিগ্নতায় আর অবসাদে কুঞ্চিত ডাক্তার ও নার্সের মুখ, অবরুদ্ধ এলাকার সঙ্কেত চিহ্ন, এন্টিসেপটিকের গন্ধ, শূন্য সড়ক, কফিনের স্তূপ—বুনন করে যাবে তাদের পথ আমাদের দেহ ও মনে, আর ভবিষ্যতের বহু বছর ধরে তারা আমাদের সেই পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই সব মুহূর্তে’, লেখেন এলিজাবেথ আউটকা। ‘ভাইরাল মডার্নিজম; দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা পেনডেমিক অ্যান্ড ইন্টারওয়ার লিটারেচার’ বইয়ের লেখক তিনি। বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে। আমেরিকার রিচমন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের এই অধ্যাপকের সাহিত্যকর্মের প্রধান ফোকাস মহামারি, প্লেগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা কীভাবে আধুনিক সাহিত্যের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে ভাইরাসের মতোই, আর তাতে কীভাবে সাহিত্য সংক্রমিত হয়ে উপস্থাপন করে নিজের পরিবর্তিত চেহারা। তিনি বলেন, ‘এইসব (মহামারি) অভিজ্ঞতা ধরে রাখে এক ধরনের পরিচিত ভৌতিক আবহ, কীভাবে ১৯১৮-১৯ সালের মহামারি ইনফ্লুয়েঞ্জার সংবেদন, অনুভূতি এবং আবহ ইন্টারওয়ার সাহিত্যে বা আন্তঃযুদ্ধ সাহিত্যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে সে বিষয়ে গত পাঁচ বছর ধরে একটা বই লিখছি। এই অনুপ্রবেশ বা ফিউশন এমনভাবে ঘটেছে যা আমাদের কাছে নতুন। পেনডেমিকের ফলে যে পরিবর্তন সংঘটিত হয় সে সম্পর্কে আমার নতুন অনুভূতি এমন, যেন এক শত বছর আগের শব্দ ও দৃশ্য এমনভাবে ফিরে এসেছে যা আমার কাছে ভয়ের এবং আমি চাই না তা ফিরে আসুক।’

করোনা মহামারি আকারে কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়, যখনই আমরা তার মানচিত্র খুঁজতে শুরু করি তখন দেখতে পাই মহামারি করোনার সঙ্গে মহামারি ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনামূলক চিত্রও। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা প্রশ্ন করি, কোন ভাইরাসটি বেশি খারাপ? তারা কি একইভাবে ছড়ায়? কীভাবে মানুষের জীবন তখন পরিবর্তিত হয়েছে, আর এখন কীভাবে হচ্ছে? সেই মহামারি থেকে আমরা কি কিছু শিখতে পারি অথবা শোধরাতে পারি কোনো ভুল? এই দুই মহামারির মধ্যে কিছু পার্থক্য তো রয়েছেই, যা স্পষ্ট, ১৯১৮-১৯ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জায় আশ্চর্যজনকভাবে স্বাস্থ্যবান তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছিল, ইনফ্লুয়েঞ্জা তখন নতুন কোনো হুমকি ছিল না বরং এ রোগ সম্পর্কে মানুষ জানত, আর এটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়াও সহজ  ছিল এর তীব্র ধকল সত্ত্বেও। ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়ার সময়টাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ, মারাত্মক একটা বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যু দেখার অপেক্ষায় ছিল পৃথিবী, ফলে মহামারি কম গুরুত্ব পেয়েছিল, যদিও মহামারি নিয়েছিল বহু মানুষের প্রাণ। পাঁচ বছরের মধ্যে গণমৃত্যুর ঘটনা যখন ঘটল তখন আবির্ভাব ঘটল এই মহামারির, পৃথিবী ততদিনে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল লাশে আর অবসাদে।

মহামারি-উত্তর যেসব আত্মজৈবনিক উপন্যাস/সাহিত্য রচিত হয়েছে সেগুলো গভীরভাবে আমাদের বর্তমানের কথাই বলে। আমরা সহজেই সম্পৃক্ত করতে পারি নিজেদেরকে, শিল্প-সাহিত্যের সেই সীমানায়, উপন্যাসের চরিত্রগুলোর আবেগের, যন্ত্রণার ল্যান্ডস্কেপে, বর্তমানের মধ্যে অতীতের মুহূর্তগুলোর প্রতিধ্বনিতে, শরীরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের পৃথিবীকে উপলব্ধি করার মধ্যকার অনির্বাচনীয় আলাপনে! ‘রবিনসন ক্রুসো’ উপন্যাসের বিখ্যাত লেখক ড্যানিয়েল ডিফো তার ঐতিহাসিক মহামারি বিষয়ক উপন্যাস ‘এ জার্নাল অফ দ্য প্লেগ ইয়ার’ (১৭২২)-এ যে নগরীর বর্ণনা দেন, তা আজকের পৃথিবীরই এক বাস্তব চিত্র।

নগরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নগরীর ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে, শুরু হয়েছে পেনিক বায়িং, পরিবার-পরিজনসহ নিজেদের ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আগে তারা জোগাড় করছিলেন তাদের বেঁচে থাকার রসদ। কেউ কেউ তল্পি-তল্পা গুটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন শহর ছেড়ে। কেউ ছুটছেন উপাসনালয়ে, কেউবা জ্যোতিষের কাছে। শহরের অবস্থা যেন আজকের উহান, মিলান অথবা ম্যানহাটনের মতো। সময়টা ১৬৬৫ থেকে ১৬৬৬ সাল, আর করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত আজকের পৃথিবীর যেকোনো নগরীর মতোই ছিল সে সময়ের লন্ডনের জনজীবনের চিত্র। বুবনিক প্লেগ নামক এক অদৃশ্য শত্রুর তাণ্ডবে লন্ডনের চার ভাগের এক ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ড্যানিয়েল ডিফো তার ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘এ জার্নাল অফ দ্য প্লেগ ইয়ার’-এ এভাবেই ফুটিয়ে তোলেন ‘দ্য গ্রেট প্লেগ’-এর শহর লন্ডনের চিত্র, এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে। ১৬৬৫ সালে লেখকের বয়স যদিও ছিল মাত্র পাঁচ বছর, তিনি বইটি লেখেন তার চাচা হেনরি ফো-এর লেখা জার্নালের ওপর ভিত্তি করে, উত্তম পুরুষে। পাঁচ বছর বয়সে তিনি প্লেগের ভয়াবহতা ততটা উপলব্ধি করতে না পারলেও তাকে মানস-ভ্রমণ করতে হয়েছিল, চাচার দিনলিপির মধ্য দিয়ে। এই বই লিখতে গিয়ে ডিফো চরম বেদনার মধ্যে উপনীত হয়েছিলেন, তিনি শৈশবের আবছা স্মৃতির ভেতর দিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন তার শৈশবের অবরুদ্ধ বাড়িগুলোতে, প্লেগপীড়িত শূন্য সড়কে। আর চরিত্রদের উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন বিশ্বাসযোগ্যভাবে। এই বইটিকে তুলনা করা হয় স্যামুয়েল পেপ-এর ব্যক্তিগত ডাইরির সঙ্গে, যেটা লেখা হয়েছিল প্লেগের সময় এবং যিনি মহামারিকালে ছিলেন লন্ডনের নৌবাহিনীর প্রশাসক। ড্যানিয়েল ডি ফোর ‘এ জার্নাল অফ দ্যা প্লেগ ইয়ার’ ছিল এই ডায়রির চেয়েও বাস্তবানুগ, বলা হয়ে থাকে ডিফো পেপের চেয়েও অনেক বেশি গবেষণা করেছিলেন বইটি লেখার আগে, ফলে পেপের ডায়রির চেয়েও উপন্যাসটি ছিল অনেক বেশি বাস্তব, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে ওঠা বিভীষিকাময় প্লেগের মৃত্যুর খতিয়ানসহ। ডিফো এই জার্নাল সম্পর্কে আমাদের জানান, ‘আমি বিস্তারিতভাবে লিখে রেখেছি প্লেগের বিশেষ সেই সময়টাকে’। উপন্যাসের ন্যারেটরের বর্ণনায় তিনি আমাদের জানান ‘হয়ত আমি জানি না, আমার পরের প্রজন্মের কাছেও আসতে পারে এমন ভয়ঙ্কর মুহূর্ত।’ জার্নালটি যেন ছিল পরবর্তী মহামারির আগাম নীল নকশা।

এক ভৌতিক কালো মৃত্যু তথা ব্ল্যাক ডেথ এশিয়া নর্থ আফ্রিকা হয়ে লন্ডনে এসে হানা দেয় ১৩৪৮ সালে, এক উজ্জ্বল শরতে। ১৮ মাসব্যাপী লন্ডন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল, ৪০ হাজার মানুষকে সমাহিত করতে খুঁড়তে হয়েছিল গণকবর।

ব্ল্যাক ডেথ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর ইটালিয়ান কবি ও কথাসাহিত্যিক জিওভান্নি বক্কাচিও লিখেন ইটালিয়ান কথাসাহিত্যের মাস্টার পিস ‘দ্য ডি ক্যামেরন’ (১৩৪৮-১৩৫৩)। তিনি নিজেও এড়াতে পারেননি এই প্লেগ বা কালো মৃত্যুর ছোবল, ফিরে এসেছেন এই মৃত্যু বিভীষিকা থেকে আর তারপর ছয় বছর ধরে লেখেন একশত নভেলার একটা কালেকশন। মহামারির ভয়ে ফ্লোরেন্স শহর থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় দূরের কোনো এক গ্রামে, গল্পের সাত তরুণী ও তিন তরুণ। তারা দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে যায়, অবরুদ্ধ সময় কাটানোর উপায় হিসেবে তারা ঠিক করে প্রতিদিন প্রত্যেকে বলবে একটি করে গল্প, আর প্রতিদিনই গল্পের বিষয় হতে হবে নতুন। বইটির প্রধান বিষয় মানুষের সেই চিরাচরিত আচরণ, মহামারি ভীতি ও সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচার সেই পুরাতন প্রচেষ্টা। এই সংক্রমণ একদিকে মানুষের মৃত্যুভীতি বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্যারাডক্সিক্যালি বাড়িয়ে দেয় অর্থলিপ্সা, দুর্নীতি আর দূষণ—সেই দূষণ ও শোষণ পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার। যার ফলশ্রুতিতে, এই সংক্রমণে ঘটে আমাদের নৈতিক ও শারীরিক মৃত্যু।   

প্লেগ সাহিত্যে এক রূপক বা মেটাফোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকেই, কারণ পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থায় প্লেগ, এমন এক সাম্যবাদী জীবাণু যা চেনে না ধনী কিংবা দরিদ্র, রাজা কিংবা প্রজা। সমাজের সকল শ্রেণির জন্যই মহামারি সমান ভয়ানক। যা প্রতিনিয়ত আঘাত করে সমাজ-কাঠামোতে। করোনা মহামারির ঠিক এ মুহূর্তে, প্রতিটি দিনই নতুন বাস্তবতা নিয়ে আসে আমাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে, গতকালই যা ছিল ভাবনার অতীত, তাই ঘটছে আগামীর দিনগুলোতে। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মহামারির সময়ে তথ্য দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হতে থাকে, সেই পরিবর্তনের ধাক্কা লাগে বৈশ্বিক রাজনৈতিক সম্পর্কে, ভেঙে পড়তে থাকা অর্থনীতিতে, এমনকি ল্যাবরেটরিতে, যেহেতু প্রতিনিয়ত জীবাণুর মিউটেশন ঘটে। যে গতিতে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন তথ্যের সন্নিবেশ ঘটে, তাতে করে আমাদের সরল জীবন এক কঠিন বাস্তবতায় রূপ নেয় আর যা কিছু সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছিল সেই মূল সত্য পাল্টে গিয়ে আমাদের হতবুদ্ধি করে দেয়। ‘পেইল হর্স, পেইল রাইডার’ বইয়ে পোর্টার বুনন করেছেন সেই কাহিনি কীভাবে দ্রুত বদলে যাওয়া প্রতিটি মুহূর্তের ফলে উদ্ভুত বিশৃঙ্খলা তার নিজ সাম্রাজ্য পাল্টে দিয়েছে। তিনি সেই পরিবর্তনের সঙ্কেতগুলো তুলে ধরেছেন নভেলায়। ভাইরাস কীভাবে তার দেহকে দখল করেছে তা তিনি বর্ণনা করেছেন এক হ্যালুসিনেটরি, স্বাপ্নিক ভাষায়, একই সঙ্গে খুব সরাসরি, বাস্তবানুগভাবে বর্ণনা রয়েছে যুদ্ধাবস্থার। চরিত্রগুলো যেভাবে গল্পের মধ্যে আছে তাকে ঠিকঠাক পড়া একটা চ্যালেঞ্জ, যুদ্ধের গল্প ভয়াবহ কিন্তু আমাদের কাছে তা পরিচিত, ন্যারেটিভ খুব বাস্তব। বইটি লেখা হয়েছে যুদ্ধোত্তর  সময়ে, যে সময় চলছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আর একই সঙ্গে মাহামারি সঙ্গে যুদ্ধ। যুদ্ধের গল্পে আমরা জানি চরিত্রগুলোর ভূমিকা পুরুষ সৈন্য অথবা বেসামরিক নারী হিসেবে আর থাকে হুমকি, কামান, গোলাবারুদ, শত্রু আর মিত্রবাহিনী, সৈন্যের মৃত্যু এবং কোনো এক পক্ষের জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটে। মহামারি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই বাস্তবতা পাল্টে যায় কেননা এখানে শত্রু অদৃশ্য, নারীও সমান হুমকির মুখে পড়ে, বাড়ির আঙিনাও সম্মুখ সমরের ফ্রন্ট লাইনের মতো বিপদজনক।  সৈন্যের শরীর শুধুমাত্র যুদ্ধের মাঠেই বিপদের মুখে পড়ে আর মহামারিতে রেস্টুরেন্ট, থিয়েটার, হাসপাতাল এবং কাজের জায়গা সবই হয়ে ওঠে বিপদজনক। এমনকি একজন অসুস্থ হলে সে যদি কাউকে স্পর্শ করে, চুমু খায়, সিগারেট ভাগাভাগি করে খায় আর পুরনো যুদ্ধের গল্পের মধ্যে আছে বলে সে যদি বিশ্বাস করে তাহলে তাদের মেনে নিতে হবে চরম পরিণতি কেননা নতুন মহামারি যুদ্ধ, আর বিকারগ্রস্ততা এর মধ্যেই দখল করে নিয়েছে গল্পের বর্ণনা এবং জীবন। পোর্টার ধরতে চেয়েছেন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত বাস্তবতার নিরিখে প্রবল ইমোশনাল ও শারীরিক লড়াই, এবং নতুন বাস্তবতার সাম্রাজ্যে দ্রুত অভিযোজিত হতে না পারার সহজাত ব্যর্থতা। তিনি বইটি লিখতে গিয়ে নির্ভর করেছেন অসুস্থতার আগের আর পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পরের টুকরো টুকরো স্মৃতির ওপর যার মধ্যে রয়েছে তার বাড়িওয়ালি, তার সুঠাম দেহের প্রেমিক অ্যাডাম আর কলোরাডোর ডেনভারে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক ফ্লু। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সে সময়টায় যুদ্ধের জন্য দরকার ছিল অনেক বেশি তরুণের, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তরুণরাই বেশি মারা যাচ্ছিল মহামারিতে। বইয়ের পৃষ্ঠা ভরে উঠেছে মহামারির ভয়াল চিত্রে, ‘কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, হাসপাতালের নেই কোনো খালি বেড, আমরা কোনো ডাক্তার বা নার্সও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যে কোনো পরিস্থিতির চেয়ে এটা খারাপ, বন্ধ হয়ে গেছে সব থিয়েটার, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট, সড়কে শুধু শবযাত্রা।’ এ যেন এক পাণ্ডুর অশ্বের পিঠে চড়ে অনিশ্চিত পথে অন্তহীন যাত্রা, মৃত্যুপুরী থেকে জীবনের দিকে।

করোনা মহামারি আমাদের সচল জীবনে ঢুকে পড়ে প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় অনিশ্চয়তাই জীবন। কোভিড-১৯ ভাইরাসের গল্পের চূড়ান্ত পর্ব দেখার অপেক্ষায় আছি, কী ঘটতে যাচ্ছে তা অনিশ্চিত আর আমরা জানি না, গল্পের কোথায় রয়েছি। বর্ণনার অনিশ্চয়তা আমাদের অনেককে ফিকশনের দিকে অথবা নিশ্চিত পরিণতির চলচ্চিত্রের দিকে নিয়ে যায়, তা আমাদেরকে বসিয়ে দেয় সেইসব গল্পের সামনে যার পরিণতি আমরা জানি। কিন্তু আধুনিক সাহিত্য, এইসব টিপিকাল গল্পের বিপরীতে পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেয়, পোস্ট-পেনডেমিক অথবা যুদ্ধোত্তর সাহিত্য হচ্ছে প্লটলেস, পৃথিবীর টুকরো টুকরো অংশ, খণ্ডচিত্র। টি. এস. এলিয়ট এবং তার স্ত্রী স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হন ১৯১৮ সালের ডিসেম্বরে, তিনি যার নাম দেন ‘ডোমেস্টিক ইনফ্লুয়েঞ্জা’ আর খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাদের স্বাস্থ্য ও গার্হস্থ্য জীবন নিয়ে, তার উদ্বিগ্নতা ছিল তার মনোজগৎ নিয়েও যেন তা এই অসুস্থতা দ্বারা আক্রান্ত না হয়। বিশ্ব স্তব্ধ করে দেয়া এই মহামারি আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরই রচিত হয় পেনডেমিক পোয়েট্রির মাস্টার পিস ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’, প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে—কত বহু বিষয় ধারণ করেছে এ কবিতা, তার একটি হচ্ছে তার সেই মড়ক-মুহূর্তগুলোর বিস্ময়কর চিহ্ন, অন্তঃসলিলা রূপে সূক্ষ্ম সরুপথে প্রবাহিত হয়েছে কবিতায়—যা বাঁক নিয়েছে জলবায়ুর অনিশ্চয়তায়, এর কুয়াশায়, এর শবতাড়িত অভ্যন্তরীণ ল্যান্ডস্কেপে, এর মৃত্যুবত বেঁচে থাকার ব্যাপ্তিশীল সংবেদনে, ভাষার প্রলাপময়তায়।

আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসের একটি বিখ্যাত কবিতা ‘দ্য সেকেন্ড কামিং’, যেটি তিনি লিখেন তার গর্ভবতী স্ত্রীর মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুদশায় উপনীত হওয়ার পরের সপ্তাহে। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখার পর লেখা এই কবিতায় ধরা আছে সেই ভীতি, মানুষ সভ্যতার নামে দূষিত করে তুলেছে পৃথিবী, মানুষ হারিয়েছে তার নিয়ন্ত্রণ, সভ্যতা একটা ইলুইয় ইল্যুশন, বিজ্ঞান এখনো পরাজিত, স্ফিংসের স্ফিংসের রূপ ধরে ধেয়ে আসছে অমঙ্গল পৃথিবীর দিকে। ১৯১৮ সালে মানুষ প্রতিনিয়ত মরে পড়ে থাকত তাদের বিছানায়, ভাইরাসের সংক্রমণের পর তাদের ফুসফুস ভরে যেত পানি ও তরলে, আর তাদের ডুবিয়ে মারত বিছানাতেই। মুখ, নাক ও কান দিয়েও রক্তক্ষরণ হত। কবিতায় বিশৃঙ্খলা আর আতঙ্কের যে প্রকাশ তা এসেছে অবশ্যই বিবিধ কারণে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ, বিদ্রোহ এবং আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক সহিংসতা সেই সঙ্গে কবিতাটি এজেন্ট ছাড়া, লুকায়িত গুপ্ত হুমকির কথাও বলে যা নির্দোষ মানুষকে রক্তাচ্ছন্ন ঢেউয়ের মধ্যে ডুবিয়ে মারে।  

উইলিয়াম ম্যাক্সওয়েলের শোকপূর্ণ উপন্যাস ‘দে কেম লাইক সোয়ালজ’ মনে করিয়ে দেয় তার গর্ভবতী মায়ের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে মৃত্যুর বিষয়টিকে, বইয়ের চরিত্রগুলোকে তাড়া করে ফেরে অসংখ্য ‘কী হতো যদি’ বা হোয়াট ইফ—কী হত যদি আরেকটু আগে তারা তাদের সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে পারতেন? কী হত যদি তারা প্রথম ট্রেন না ধরে পরেরটি ধরতেন? কী হত যদি ওই কক্ষে তারা সেদিন না ঢুকতেন? এইরকম অপরাধবোধ অমীমাংসিতভাবে মানুষের মনে অনেকদিন থেকে যায়। এই অপরাধবোধ আগাম মনে আসতে পারে কখনো, কী হবে যদি আমি স্পর্শ করা, কারো সঙ্গে দেখা করা, হাত ধোয়া ভুলে গিয়ে আমার প্রিয়জনের ক্ষতি করি? পোর্টারের ‘পেইল হর্স, পেইল রাইডারের’ কেন্দ্রীয় চরিত্র স্বপ্ন দেখে অদৃশ্য দুঃস্বপ্নময় তীরের যা বিদ্ধ করেছে তার প্রিয়জনকে, যে বারবার মরে যায় তার সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও।

প্রতিদিন আমরা দেখছি, অনিশ্চয়তা আর ভয় ঘনিয়ে উঠছে। চাইনিজ ভাইরাস নামের এই জেনোফবিয়া অথবা স্প্যানিশ ফ্লুর উৎসস্থল হিসেবে আঙুল তোলা হয় বিশেষ একটা জাতির দিকে। মহামারি হয়ে ওঠে বিষাক্ত ও বৈষম্যপূর্ণ পৃথিবীর নৈতিক স্খলনের মেটাফোর। বিশ শতকের প্রথম দিকে হরর রাইটার এইচ পি এল লাভক্রাফট পোস্টওয়ার অ্যান্ড পোস্ট-পেনডেমিক সাহিত্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমকাম ভীতির বিশ্বাস, যা হচ্ছে অভিবাসীরা দূষিত করছে বিশুদ্ধ আর্য  রক্ত। ইনফ্লুয়েঞ্জা পেনডেমিকে লেখকের জন্মভূমির ওপর আঘাত হানার পর তার গল্প ভরে উঠল প্রোটো জম্বিতে যারা জেগে ওঠে মৃতের শরীর থেকে, মহামারি বা যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে, আর পুনরায় শুরু করে ধ্বংসযজ্ঞ। লেখক পূতিগন্ধময় রোগাক্রান্ত পরিবেশ এবং এর গভীরে প্রোথিত সংস্কারকে রূপান্তরিত করেছিলেন এক দৈত্যে, যা ভয়কে আরও ভয়াবহ রূপদান করেছিল সমাজের বৈষম্যমূলক চেহারা ঢেকে দিতে।

টি. এস. এলিয়ট সম্পাদিত ব্রিটিশ সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘দ্যা ক্রাইটেরিয়ন’-এ ১৯২৬ সালে ছাপা হয় ভার্জিনিয়া উলফের রচনা ‘অন বিয়িং ইল’। ১৯১৮ সালে ভার্জিনিয়া উলফ অসুস্থ হয়ে শয্যাবন্দি হন, তখন তার বয়স ৪২, অনুভব করেন অসুস্থতা, শরীরের বৈকল্য ও স্পন্দন অনুভব করেন একইসঙ্গে আর ভাবেন কেন যুদ্ধ ও প্রেমের পাশাপাশি সাহিত্যের প্রকরণ ও অনুষঙ্গ হিসেবে, কেন্দ্রীয় থিম হিসেবে শরীরের অসুস্থতার বিষয়টিও প্রাধান্য পায় না? মহামারি ও যুদ্ধোত্তর একটা পৃথিবীর যে হৃদস্পন্দন, তা মূলত ‘শরীর নিজেই’ বা শরীরেরই স্পন্দন। তার হার্ট নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে, এ ছাড়া তার ছিল স্নায়ু বৈকল্য বা নার্ভাস ব্রেকডাউনও, যার প্রতিফলন তার এই রচনা ‘অন বিয়িং ইল’-এ পরিলক্ষিত হয়েছিল। এই বইতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে আমাদের অসুস্থতা এবং শরীর শিল্পসচেতন অভিজ্ঞতার বাইরে থেকে যায়। তীব্র অসুস্থতার মাঝামাঝি, পৃথিবী সরু ও প্রসারিত হয়ে যেন দেহের দুর্ভোগের মধ্যে ঢুকে পড়ে। দেহযন্ত্রণার বিপুল অংশ চোখের আড়ালেই থেকে যায় কারণ মহামারির সময় অসুস্থ মানুষকে আইসোলেশনে থাকতে হয়। যেমনটা বলেছেন উলফ, ‘এ হচ্ছে সেই মহাযুদ্ধ যেখানে আমাদের শরীর নিজেই এই যুদ্ধের দাম চুকিয়ে দেয়...একটা নিঃসঙ্গ বিছানায়, জ্বরলাঞ্ছিত হয়ে।’ ১৯১৮ সালের পরে পোস্ট-পেনডেমিক সাহিত্যে দেহাভ্যন্তরের এই যুদ্ধ বর্ণিত হয়েছে, কখনো সরাসরি আর কখনো টুকরো টুকরো চিত্র হয়ে, সেইসব মহামারিকালের প্রতিধ্বনি হয়ে। তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে একটা ক্ষুদ্র ভাইরাস দেহের অভ্যন্তরীণ উপলব্ধিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে, কীভাবে জ্বর, ব্যথা এবং মৃত্যুভয় জাগতিক বাস্তবতাকে রূপান্তরিত করে প্রবল প্রলাপে, বিকারগ্রস্ততায়। পোর্টার আক্রান্ত হওয়ার এই অবস্থাকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয়, তার গদ্যভাষাই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, ভাইরাসের বিশৃঙ্খল প্রপাত যেন ঠিকরে পড়ছে ভেঙে পড়া প্রতিটি বাক্যের গঠনে, সিনট্যাক্সে, দখল করে নেয়া স্বপ্নের ভূমিতে এই ভাঙন প্রতিধ্বনিত হয়, পোর্টারের ভাষায় ‘এই অপ্রতিরোধ্য ভয়ানক ব্যথা ভারী আগুনের স্রোতের মতো তার ধমনীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।’ শরীরের অভ্যন্তরের ডেলিরিয়ামের ল্যান্স দিয়ে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ এবং ‘দ্য সেকেন্ড কামিং’ পাঠ করলে দেখা যায় তাতে বিধৃত হয়েছে, হ্যালুসিনেটরি বাস্তবতা, টুকরো টুকরো উপলব্ধি, জ্বর আর দেহের তীব্র ব্যথার জ্বলন্ত অনুভূতি।

মহামারির ফলে একটা বিপুল জাতিগোষ্ঠীর জনজীবনে, অসুখের সঙ্গে নিরন্তর লড়ে যাওয়া শরীর ও সংস্কৃতিতে, শিল্প-সাহিত্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসে। মহামারি চলে যাওয়ার পরেও। মহামারির অভিজ্ঞতার ছায়া, আর সে সময়ের প্রতিটি দৃশ্যপট বিরাজ করে জীবন্ত লাশের মতো আমাদের বেঁচে থাকার বোধে, আমাদের কোষে, স্মৃতিতে এমনকি সড়কগুলোতে, সর্বোপরি আমাদের মনে। যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে লেখা ভার্জিনিয়া উলফের ‘মিসেস ডালোওয়ে’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের শারীরিক ও মানসিক অবসাদগ্রস্ততা প্রলম্বিত হয়েছিল অসুখের পরেও। উলফের মতোই ক্লারিসা ডালোওয়ের হার্টও মহামারি ইনফ্লুয়েঞ্জায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং তিনি যখন লন্ডনের রাস্তা ধরে হাঁটেন এমনকি যখন বাড়িতে পায়চারি করেন তখনো তিনি পৃথিবীকে অনুভব করতে থাকেন তার বিপর্যস্ত, অসহায় শরীরের প্রতি বিন্দু দিয়ে, তিনি সুস্থ হন কিন্তু তার শরীর তখনো রয়ে যায় ডেটল গন্ধে, আর বেঁচে থাকেন অসুস্থতার স্মৃতির মধ্যে। সিকরুমের দৃশ্য এবং শব্দ এবং গন্ধ ভেসে ভেসে ফিরে আসে তার চৈতন্যে, তার বর্তমান অনুভূতিতে, যখন তিনি সুস্থ, যখন তিনি হাঁটছেন লন্ডন ডে’তে। আমাদের নিজস্ব শরীরও এখন খুব ব্যস্ত, হতে পারে তা অসুখের সঙ্গে লড়তে থাকায়  অথবা চারপাশ পর্যবেক্ষণে। এ মুহূর্তে আমাদের শরীর, শরীর দিয়েই রেকর্ড করে রাখছে এই মহামারি, তার অনুরণন জায়গা মতো সেট হচ্ছে, যা আমাদের ভবিষ্যতে প্রতিধ্বনিত হবে।   

সূত্র : হাউ পেনডেমিক সিপস ইনটু লিটারেচার, এলিজাবেথ আউটা, দ্য প্যারিস রিভিউ, এপ্রিল ৮, ২০২০

//জেডএস//

লাইভ

টপ