X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৮ বৈশাখ ১৪৩১
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৩

বিপন্ন সময়ের অভিঘাত

হেমায়েত উল্লাহ ইমন
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৩আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:২৮

‘বিজনপুরের রেশমিচুড়ি’ নামটায় অদ্ভুতরকম একটা সুর আছে। 'এনে দে এনে দে রেশমিচুড়ি' টাইপ একটা রোমান্টিক সুর- কিন্তু গল্পে যা কখনও সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সুর বা বলতে পারি আশির দশকের বিপন্ন সময়ের অভিঘাতের সুর।

কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হকের গল্প-ভাবনা বেশ বিমোহিত করে আমাকে। বিশ্বসাহিত্যের রস চিনে তিনি গল্পগুলোর রসদ তৈরি করেন। তিনি বেশ সচেতন তাঁর চরিত্রগুলোর অন্তর্গত ও বহির্গত জীবনে।

এ সচেতনতা থেকে তিনি গল্পের চরিত্রগুলোর নাম দেন- গল্পের নামগুলোও ভিন্নভাবে নির্মাণ করতে দেখি। গল্পগুলোর সময় আশির দশকের মাঝামাঝি। এরশাদের পতন, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ তরুণদের বিদেশগামীতা এবং সবগল্পেই কোথায় একটা যেন 'নারী' চরিত্র প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। বাম-রাজনীতিতে জড়িত চরিত্রগুলোর দেশ-ভাবনা, সাহিত্য-ভাবনা প্রবল। তারা হতাশ হয়, ভেঙে যায়- শেষমেশ গন্তব্য খোঁজে পায় আমেরিকা কিংবা জার্মানির কোনো স্কলারশিপে।

'এরশাদের পতনের পর সবাই ভেবেছিলো নতুনভাবে সবকিছু সুন্দর করে গড়ে উঠবে- প্রবল আশা ছিলো জনমনে কিন্তু শেষপর্যন্ত দেখা গেলো আশানুরূপ কিছু হয়নি'- এরকমই বলছিলেন লেখক। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের প্রেম-মোহের আড়ালে সবখানে যে একটা বিচ্ছিন্নতা ছিলো, জীবনযাপন ছিলো উদ্দেশ্যহীন এসবই গল্পগুলোতে দেখা দেয়। লেখক এসবের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। লেখকের তরুণ বয়সী চোখ বাস্তবতার যত স্তরে বিচরণ সম্ভব ঠিক ততটাই গভীরে গিয়ে এ সময়ে এসেও পাঠকদের ইঙ্গিত দিয়েছেন তৎকালীন ও সমকালীন বাস্তবতার।

চরিত্রগুলো কেউ কবি হতে চেয়েছিলো, কেউ সমকালীন অরাজকতা বিরুদ্ধে কথা বলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, আবার কেউ বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছে- এতসব অসঙ্গতি নিয়ে একটা চলচ্চিত্র বানাবে বলে কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণের সংকট তখনকার মতো এখনও যে আছে তা জানান দিতে লেখক ভোলেন না। লেখক দুই ভিন্ন সময়ের অভিন্ন সংকটগুলো নিয়ে গল্প বলেন। বাম রাজনীতি ছেড়ে সাংবাদিকতা করা, তারপর শহর ছেড়ে গ্রামে, সেখানেও 'অবস্থান বিন্দু' ঠিক করতে না পেরে আবার শহুরে জীবনে ফিরে সংগ্রাম করা- এসব সব গল্পেরই স্বভাব। সবাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে দেশে-বিদেশে। সময়টা যেন পালাতে বাধ্য করছে।

গল্পগুলো আমাদের মৌলিক কিছু প্রশ্ন করে- কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাসের লাইন থেকে রেফারেন্স টেনে। মনোজগতের পরিবর্তনগুলো বুঝতে দিতে চান না লেখক- প্রেক্ষাপট ধরে আমাদের বুঝে নিতে বলেন। তিনি সমাধানের রাস্তা দেখাতে চান পাঠকদের, কখনো তাঁর সামাজিক মূল্যবোধ থেকে আবার কখনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে। গল্পে প্রতিনিয়ত যে সংকট আমরা দেখতে পাই তা আসলে আশির দশকের বাস্তবতা, ব্যক্তির সাথে সমাজ-রাষ্ট্র-অর্থনীতির সম্পর্ক। গল্পে নিম্নবর্গের মানুষের টানাপোড়েন বদলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির টানাপোড়েন দেখতে পাওয়া যায় বেশি। চরিত্রগুলো রাজনৈতিক, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। ঢাকার শিল্পসাহিত্যে যে সংকট তৈরি হয়- গুলিস্তানের সিনেমা হলের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে সিনেমা হল গুলোও যে ধ্বংস হয়ছে সবকিছুই গল্পে ওঠে আসে।

ইতিহাস পড়ে আমরা ইতিহাসকে যতটুকু বুঝতে পারব, তারচেয়ে এরকম বাস্তবতার রুপকধর্মী গল্পগুলো ইতিহাস, সময় ও সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করবে। সময়ের প্রকৃত প্রকাশ হবে অথবা বিজনপুরের রেশমিচুড়ি ভেঙে যাবে অদৃশ্য কোনো ক্ষমতায়- যেমন যাচ্ছে সাম্প্রতিক হাওয়ায়।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শ্রমবাজার ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বসতে চায় বাংলাদেশ
শ্রমবাজার ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বসতে চায় বাংলাদেশ
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ৩ নেতা
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ৩ নেতা
ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্পী উৎসব
ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্পী উৎসব
এই গরমে কেমন পোশাকে স্বস্তি মিলবে
এই গরমে কেমন পোশাকে স্বস্তি মিলবে
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?