X
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪
১০ বৈশাখ ১৪৩১
বিশ শতকের ইতালির গল্প

একটি কচ্ছপের সঙ্গে কথোপকথন।। ইটালো ক্যালভিনো

অনুবাদ : সুমাইয়া উর্মি
০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৫:৪৯আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০৬

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বা ফেরার পথে মি. পলমার প্রায়শই একটি কচ্ছপের মুখোমুখি হয়। কচ্ছপটিকে বাগান অতিক্রম করতে দেখে মি. পলমার যে কিনা সবসময় তার নিজস্ব যুক্তির প্রতি আস্থাশীল সেও ক্ষণকালের জন্য তার চিন্তার ধারাকে থামিয়ে দেন। নির্দিষ্ট কোনো যুক্তি হয়তো তাতে যোগ করেন বা সেগুলোকে আরও স্পষ্ট করেন বা কোনো ক্ষেত্রে তার ভাবনাগুলোকে প্রশ্ন করেন ও সেগুলো কতটা সঠিক তা ভাবেন। তবে কচ্ছপটি সম্পর্কে মি. পলমার যা ভাবেন : ‘প্রাণীটি নিজের কাজ করে এবং অন্য কোনোকিছু নিয়ে মাথা ঘামায় না’ তা নিয়ে কচ্ছপটি কখনো কোনো আপত্তি প্রকাশ করেনি। কিন্তু বাগান পার হওয়ার সময় কচ্ছপটির ক্লান্তিকর ছোট ছোট থাবা ফেলে হাঁটে, যা তার খোলসকে বড় কোনো রণতরির দাঁড়ের মতো সামনের দিকে ঠেলে দেয়, কেবলমাত্র এই বলে যে : ‘আমি একটি কচ্ছপ’ অথবা বরং ‘এখানে একটি আমি আছি যে একটা কচ্ছপ’ অথবা আরও ভালো করে বললে, ‘আমার একটা আমি আছে সেও একটা কচ্ছপ’ এবং আরও গুছিয়ে বললে, ‘জগতের কোনোকিছুই সর্বজনীন নয়, যদি না এটা তোমার তথা মানুষ এবং আমার তথা কচ্ছপের জন্য সমানভাবে যুক্তিযুক্ত না হয়।’ এর ফলে যতবারই তাদের দেখা হয় কচ্ছপটি তার অবিচল পদক্ষেপে মি. পলমারের মনে প্রবেশ করে। মি. পলমার তার আগের ভাবনাগুলো নিয়ে চিন্তা করছিল কিন্তু এখন সেগুলোতে একটি কচ্ছপও রয়েছে যে তার ভাবনাগুলোকে এখন ভাগ করে নিচ্ছে। এবং এভাবেই আগের ভাবনাগুলো ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। এর থেকে বাঁচতে তার প্রথম পদক্ষেপ হলো আত্মরক্ষণশীল অর্থাৎ নিজের যুক্তির প্রতি যুক্তি দেওয়া। সে ঘোষণা করল : ‘আমি তো কখনো সর্বজনীন ভাবনার কথা বলিনি। আমি যা ভাবি তা ভাবনার মতো বিষয় বলেই ভাবি কারণ এটা সম্পর্কে আমি ভাবছি। ব্যস।’ কিন্তু সেই কচ্ছপটি¾অর্থাৎ মি. পলমারের মনের কচ্ছপটি উত্তর দেয় : বিষয়টি তুমি যেমন বলছ তা নয়। তুমি তোমার ভাবনার যুক্তিগুলোর সাথে সাধারণত একমত হও এই কারণে নয় যে তুমি এটা চাও কিন্তু এরকমভাবে ভাবলে তোমার ভাবনাগুলো নির্দিষ্ট একটি ছকে পড়ে তাই। মি. পলমার বলেন : ‘তুমি এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছ না কেন যে আমি যেকোনো কিছুকে একটি থেকে আরেকটি আলাদা করতে শিখেছি, বৈশিষ্ট্য দিতে শিখতে। এমনকি সত্যের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে পার্থক্য করতেও শিখেছি। এমনকি আমি কোনো নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বা পূর্বনির্ধারিত কোনো ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি কি না তাও বিবেচনা করতে শিখেছি। যেমন সমাজের উঁচু শ্রেণির সদস্য হিসেবে আমি যা ভাবতে পারি, আমার থেকে কম সুবিধাপ্রাপ্ত কেউ বা অন্য কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল, ঐতিহ্য বা অপর কোনো সংস্কৃতির কেউ হয়তো তা পারে না। অথবা একজন পুরুষ হিসেবে আমি যেভাবে চিন্তা করি, একজন নারী সেভাবে চিন্তা করতে পারে না।’ ‘এটা করার মাধ্যমে...’, কচ্ছপটি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘তুমি মূলত পক্ষপাতদুষ্ট এবং আংশিক সত্যের মধ্যে থেকে নিজেকে বিশুদ্ধ দেখানোর চেষ্টা করো। এদিকে আমি নিজের খণ্ডিত অংশকে না দেখিয়ে আমার সম্ভাব্য সকল কিছুর মধ্যদিয়ে নিজস্ব আমিত্বকেই উপস্থাপন করি।’ ‘হুম, তুমি ঠিক বলছ। আমি আসলে এমনটাই বলতে চেয়েছিলাম। তাহলে তোমার আপত্তিটা কোথায় কচ্ছপ?’ ‘আমি বলতে চাইছি যে তুমি যদি কখনো মানবজাতির সমগ্রতাকে অনুভব করেও উঠতে পারো তাও তুমি এ বিশালত্বের মধ্যে ক্ষুদ্র বা আংশিক কোনো দৃষ্টিভঙ্গিরই বাহক হবে। যাকে আমরা বলতে পারি অস্তিত্বের বিশালত্বের মধ্যকার পণ্ডিত দৃষ্টিকোণ।’ ‘তুমি কি বলতে চাইছ যে শুধুমাত্র সমগ্র মানবজাতি, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ শুধু নয় বরং সমস্ত প্রজাতির স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ এবং মাছের জন্যও সম্ভাব্য সকল সত্যের দায়িত্ব আমার নেওয়া উচিত? ক্রাস্টেসিয়ান, মোলাস্কা, আরাকনিডস, পোকামাকড়, ইচিনোডার্ম, অ্যানিলিডস এমনকি প্রোটোজোয়াদেরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত?’ ‘হ্যাঁ, কারণ মানুষের যুক্তিমতেই পৃথিবীর কাছে আমার অর্থাৎ কচ্ছপের যুক্তির থেকে তোমার যুক্তিকে আলাদাভাবে দেখার কিছু নেই।’ ‘একটি কারণ হতে পারে, যেটা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই, তা হলো ভাষার দক্ষতা। মানুষের ভাবনাগুলো আসলে ভাষার কাঠামোর ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়। এর সাথে তোমার শব্দহীন ভাবনার কোনো তুলনা চলে না কচ্ছপ।’ ‘স্বীকার করো তুমি ভাবো যে আমি ভাবতেই পারি না।’ ‘এটা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই আবার অস্বীকারও করতে পারব না। কিন্তু আমরা যদি এটা প্রমাণ করতে পারি যে তোমার সংকোচনশীল মাথার ভেতর চিন্তাভাবনা কাজ করে, তাহলে আমি অবশ্যই নিজ গরজে এটিকে শব্দে অনূদিত করব যাতে তুমি ছাড়াও বাকি সবাই এটা বুঝতে পারে। ঠিক এই মুহূর্তে আমি যেমন তোমাকে একটি ভাষা ধার দিয়েছি যাতে তুমি তোমার ভাবনাগুলোকে ঠিকঠাক চিনতে পারো।’ ‘আমি এটা নিয়েছি যাতে তোমাকে অনায়াসে পরিচালনা করতে পারি। তুমি এটা কেন দিয়েছে, এর কারণ কি তুমি অনেক মহৎ নাকি তুমি মেনেই নিয়েছ যে একটি কচ্ছপের চিন্তা করার দক্ষতা তোমার নিজের থেকে অবশ্যই কম হবে?’ ‘বিষয়টি মূলত তা নয়। ভাষাকে সত্যিই বাহবা জানাতে হয়। ভাষার মাধ্যমে মানুষ এমন জিনিসকে কল্পনা করতে পারে যা বাস্তবে উপস্থিত নেই, যা সে কখনো দেখেনি এবং কখনো দেখবে না অর্থাৎ বিমূর্ত সব ভাবনাকেও ভাষার মাধ্যমে ধরা যায়। অপরদিকে প্রাণীরা তাদের তাৎক্ষণিক অনুভূতির জগতের দিগন্তেই আবদ্ধ রয়ে গেছে।’ ‘এর চেয়ে সত্য আর কিছু হতে পারে না। মানসিক ক্রিয়াকলাপের অন্যতম মৌলিক ভাবনা হলো খাদ্যের সন্ধান, যা শুরু হয় কোনোকিছুর অনুপস্থিতির অনুভবের মধ্যদিয়ে। এমনকি প্রতিটি চিন্তাও শুরু হয় এখান থেকে। এখানে যা নেই অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত বা ভীতিকর কোনোকিছুর মানসিক ভাবনার সাথে বাস্তবের কোনো দেখা বা শোনার তুলনার মাধ্যমে। তুমি কি মনে করো তোমার এবং আমার মধ্যে মূলত কি পার্থক্য রয়েছে?’ ‘তোমার এবং আমার গুণগত এবং শারীরবৃত্তীয় তুলনায় গেলে এটা বেশ খারাপ হবে কিন্তু কিছু করার নেই, আমাকে এখন বলতেই হবে। মানুষ হলো পৃথিবীর বুকে জীবিত সবচেয়ে অর্থপূর্ণ মস্তিষ্কের প্রাণী যারা আবর্তনের দিক থেকে অসংখ্যা, কোটি কোটি নিউরন, তাদের মধ্যকার সংযোগ, স্নায়ুসমূহ এবং তাদের পরিসমাপ্তি সত্যিই অসাধারণ এক ঘটনা। এসবের ফলে মানুষ তার মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা করতে পারে। পৃথিবীর বুকে এ এক অতুলনীয় বিষয়। আমি দুঃখিত, কিন্তু এসব বাস্তব সত্য তোমাকে মানতেই হবে।’ এর উত্তরে কচ্ছপ বলল : ‘আলোচনা যদি দম্ভ করার হয় তাহলে আমি আমার দীর্ঘায়ুর বিষয়টি আনতেই পারি। দীর্ঘ এ আয়ুষ্কাল আমাকে সময়কে যেভাবে বোধ করতে শিখিয়েছে তা তুমি কল্পনাও করতে পারো না। এমনকি আমার খোলসও এমন এক পণ্য যা দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিখুঁত নকশার দরুন মানুষের শিল্প ও শৈল্পিক চর্চাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু অপরদিকে এই হলো মানুষ যারা বিশেষ একটি মস্তিষ্ক বহন করে এবং ভাষার একমাত্র ব্যবহারকারী। তারপরও তারা বৃহৎ কোনো সামগ্রিকতার অংশ হিসেবে থাকে, একে অন্যের ওপর সর্বদা পরস্পর নির্ভরশীল। যেন কোনো বৃহৎ একটি একক জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো। এই সামগ্রিকতার মধ্যে মানুষের মানবিক কার্যক্রম প্রাকৃতিকভাবেই সমস্ত প্রজাতির জন্য শুভ বলে মনে হয় যেখানে অন্যান্য সকল প্রজাতির পুঞ্জিভূত সব ভাবনাকে প্রকাশ করা হয়, যুক্তি দিয়ে অনুবাদ করা হয়। ঠিক যেমন এই প্রাচীন মানব এবং শতবর্ষী সুরেলা কচ্ছপের কথোপকথন।’ মি. পলমার : ‘এসবে বেশ গর্ববোধ করছি কিন্তু আমি আরও এগিয়ে যেতে চাই। শুধুমাত্র প্রাণীদের সাম্রাজ্যেই আলোচনা থেমে যাবে কেন? আমিত্ব বা নিজ সত্তার এ আলোচনায় উদ্ভিদের সাম্রাজ্যকেও কেন যুক্ত করবে না? মানুষকে কি ধরেই নেওয়া হয়েছে যে তারা শুধু সেকুইয়াস, হাজার বছরের পুরনো ক্রিপ্টোমেরিয়া, লাইকেন, ছত্রাক, তাপ উৎপাদী গুল্ম যার মধ্যে তুমি আমার যুক্তি দ্বারা কুপোকাত হয়ে লুকাতে যাও শুধুমাত্র সেসব নিয়েই ভাববে এবং কথা বলবে? এখন লুকানোর জন্য ছুটে যাচ্ছ কেন?’ ‘শুধুমাত্র আপত্তিই নয়, আমিও আরও একধাপ এগিয়ে যাব। মানব-প্রাণী-উদ্ভিদ জগতের ধারাবাহিকতার বাইরেও সর্বজনীন বলে কোনো আলোচনাকে ধরে নিতে গেলে তাতে অবশ্যই ধাতু, লবণ, পাথর, পান্না বা বিশেষ মণি মুক্তা, অ্যালুমেনিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, বিরল গ্যাস এবং জগতের সমগ্রতার ধারক সকল নির্জীব পর্দাথের অন্তর্ভুক্তি থাকতে হবে।’ ‘ঠিক এখানেই আমি তোমাকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলাম কচ্ছপ। তোমার এই ছোট্ট নাকওয়ালা মুখটিকে খোলসের ভেতরে এবং বাহিরে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখে আমি সবসময় ভেবেছি তুমি হয়তো বুঝে উঠতে পারো না যে কোথায় তোমার নিজ সত্তার শেষ এবং বাইরের দুনিয়া শুরু। হয় তোমার একটি নিজস্ব সত্তা আছে যা খোলসটির ভেতরে থাকে অথবা খোলসটিই তোমার সত্তা যা বাইরের দুনিয়ার সাথে সংযোগ তৈরি করে এবং তখন জড় পদার্থও তোমার অংশ হয়ে ওঠে। এখন, আমি যখন তোমার ভাবনাগুলো ভাবছি তখন বুঝতে পারছি আমাদের আদৌতেই কোনো সমস্যা নেই৷ তোমার জন্য তোমার খোলস বা সত্তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ এ বিশ্বজগৎ এবং নিজসত্তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ ‘এই একই কথা তোমার জন্যও প্রযোজ্য মি. পলমার। বিদায়।’


ইটালো ক্যালভিনো (১৯২৩-৮৫)

ক্যালভিনোর মতো একজন লেখকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সত্যিই বিশেষ চ্যালেঞ্জের যেখানে তাঁর কাজই অন্যান্য অসংখ্য লেখকের কাজের সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যম। অনেক বছর ধরে Einaudi (ইতালীয় সাহিত্য পত্রিকা)-তে কাজ করার সুবাদে সাহিত্য সমালোচনার যে ক্যাপসুলগুলো সে লিখেছিল পরবর্তীকালে সেগুলোই সম্পাদকীয় প্রচারণাকে একটি শিল্পে পরিণত করে। উম্বার্তো ইকোর পাশাপাশি বিংশ শতকের ইংরেজিতে সর্বাধিক পঠিত ইতালীয় লেখক তিনি যাঁর রচনা ফোকলোর, নব্য-বাস্তববাদ ও উত্তর-আধুনিক সাহিত্যকে একত্রিত করে। তাঁর প্রায় সমস্ত লেখাই ভীষণভাবে পরীক্ষামূলক এবং যুগান্তকারী এক সৃষ্টি। তাঁর কাজগুলো পরবর্তীকালে প্রয়াত মহান অনুবাদক উইলিয়াম ওয়েবার অনুবাদ করেছেন। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত পলমার (ইংরেজিতে যা মি. পলমার) উপন্যাস থেকে একটি ব্যতিক্রমী অংশ বাদ দেওয়া হয়। এ গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম ও ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়োগোর একটি বিখ্যাত জ্যোতিষবিদ্যীয় মানমন্দিরের নাম একই, সেখানে একজন দার্শনিকের উদাসীনতা এবং একজন শ্রেণিবিন্যাসবিদের নির্ভুলতার নিরিখে বিশ্বকে বর্ণনা করা হয়েছে। উপন্যাসের একটি অন্যতম অধ্যায় ‘মি. পলমার ইন দ্য গার্ডেন’-এ কচ্ছপটির যৌনক্রিয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ খসড়া বর্ণনাতে কচ্ছপটি নিজের পক্ষ হয়ে কথা বলে জ্ঞানী হওয়ার ভান ধরে। এই টেক্সটটি ক্যালভিনোর দ্বৈত বৈশিষ্ট্যের (যেমন :  বিদ্রুপাত্মক ও নিয়মতান্ত্রিক, ফেনোমেনোলজিক্যাল ও প্লেফুল, বিমূর্ত ও বাস্তব) মধ্যকার অন্যতম একটি টেক্সট। এটি প্লেটো ও লিওপার্ডের আনুষ্ঠানিক সংলাপের মতো কাঠামোবদ্ধ। যেখানে ভাষা, উপলব্ধি এবং দৃষ্টিভঙ্গি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই খণ্ডে এটিই একমাত্র গল্প যা অনুবাদ সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করেছে। ক্যালভিনোর জন্ম কিউবায়, বেড়ে ওঠা সান রিমোতে এবং তেরো বছর বসবাস করেছেন ফ্রান্সে। এর ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গা বা ভাষার প্রতি তাঁর বিশেষ কোনো টান তৈরি হয়ে ওঠেনি। বৈজ্ঞানিক শব্দকোষে আসক্ত হয়ে তিনি বরাবরই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প হিসেবে পশুপাখির ভাষার প্রতি টান অনুভব করেছেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম প্রধান একজন সাহিত্যিক। ১৯৮৪ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নর্টন লেকচার প্রদানের জন্য তিনি আমন্ত্রিত হন, পরবর্তীকালে যা মরণোত্তর লেজিওনি আমেরিকান (Lezioni americane) (ইংরেজিতে যা সিক্স মিমোস ফর দ্য নেক্সট মিলেনিয়াম বা পরবর্তী মিলেনিয়ামের জন্য ছয় স্মারকলিপি) নামে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা যান।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সৈকতে জনসমুদ্র!
চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল
জঞ্জালের নগরে প্রাণ ভরানো সবুজের খোঁজে...
সর্বশেষ খবর
রাজধানীর শ্যামবাজার ঘাটে লঞ্চে আগুন
রাজধানীর শ্যামবাজার ঘাটে লঞ্চে আগুন
বিএসএফের ছোড়া ৩০টি ছররা গুলি লাগলো বাংলাদেশি যুবকের শরীরে
বিএসএফের ছোড়া ৩০টি ছররা গুলি লাগলো বাংলাদেশি যুবকের শরীরে
ভুল হলে রিয়াল-বার্সার ম্যাচটি পুনরায় মাঠে গড়ানো উচিত: লাপোর্তা
ভুল হলে রিয়াল-বার্সার ম্যাচটি পুনরায় মাঠে গড়ানো উচিত: লাপোর্তা
ভারতের মণিপুরে হয়রানির শিকার হয়েছে সাংবাদিক-সংখ্যালঘুরা: যুক্তরাষ্ট্র
ভারতের মণিপুরে হয়রানির শিকার হয়েছে সাংবাদিক-সংখ্যালঘুরা: যুক্তরাষ্ট্র
সর্বাধিক পঠিত
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস
মাতারবাড়ি ঘিরে নতুন স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ
মাতারবাড়ি ঘিরে নতুন স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদকের কমিটি
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদকের কমিটি