ঈদসংখ্যা

ডুবহীন, এ ভরা বাদর ।। মারুফা মিতা

মারুফা মিতা
১২ জুন ২০২৪, ১৭:০৫আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ১৭:০৫

ডুবহীন, এ ভরা বাদর

এমনতর বরষায় মেঘ জমছে না।
শুধু জুবুথুবু।
কোথাও ডুব নেই।

দিনের মাঝামাঝি সময়ে ঘুম ভেঙে গেলে—
কোনো কোনো দিন দোয়ারি যেতে চাই, যেদিকে
ফিউনারেলের পোশাক পরে বাকি দুজন চলে গেছে।

মটরশুঁটির দিন ফুরোলে দিনের ভেতর আরো হলুদরঙ বেড়ে যায়। যে কথা আমি তোমাকে বলতে চাই, সেই কথাটি বলতেও চাইনা। এই বলা এবং না বলার ভেতর আমি বুঝি ফুসফুসে কিছু ফুঁ থিতিয়ে ওঠে, কিছু হাওয়া ফুঁপিয়ে উঠে।

তুমি ঘুমোলে যেমন করে দুপুরমণি ফুল ফোটে৷ অথচ তুমি না জাগলে মনে হয়— সাঁতরালো না কিছু, বইয়ের পাতা থেকে প্লাটিপাস বের হল না আর। কেউ ডুব দিল না।

যে কথা আমি তোমাকে বলতে চাই, সেই কথাটি বলতেও চাইনা, বরং—
মেঘ জমলে, ভেজো।
বৃষ্টি এলে, ভেজো।
বর্ষাতি বের করোনা এবার।


বসন্ত বহিলো

পৃথিবীর সমস্ত নদীর পাড় মফস্বলি আচরণ নিয়ে দুপুরে গড়াচ্ছে
শরীরে ইচ্ছে ইচ্ছে রোদ ও ছায়ার সুষম বণ্টন,
ঝিমাচ্ছে কেউ অতিদূর গৌড়ভূমে।
দুপুরের আরেক নাম বিরান, এমন ধারণা
আলগা হলে পেসিমেস্টিক হাওয়া জন্ম নেয়
(যা একটা ঘরকে এলোপাতাড়ি করে দেয়),
অপর পৃষ্ঠায় যেখানে দুধ-চায়ে আদা, তল্লাটে হরিলুট
আর কিছু উসকানি বাতাস বয় জলাঙ্গী হয়ে ঈশ্বরদী।

খুব কাছাকাছি কেউ হেঁটে যায়
পিছনে ঘনিষ্ট আকাশ।
তোমার সাইকেলে ডানা, কেউ বলেনি।
তুমি উড়ুক্কু, কেউ বলেনি।

কোকিল ডাকিলো না, তবু
বসন্ত বহিলো।

হরতকী গুল্ম ভেবে আমাকে ভাসালে,
তখনো ছোঁয়াচে কিছু ডালিমফুল কমলা রঙে খানখান৷
হোমিওপ্যাথির শিশি থেকে সাবুদানা গড়াচ্ছে, ধীরে।
দুপুরে পুড়ছি, ধীরে।
দূর থেকে কলকাটি নাড়ছো, ধীরে।


অধঃ

দরগাপাড়া মোড় পেরিয়ে যাওয়ার আগে র‍্যান্ডম বৃষ্টি নামে আমরা টের পাই অনেক পাতা ভিজে যাচ্ছে। আর একটু দমকা বাতাসের আগেই আর একটু ভিজে যাওয়ার আগেই আমাদের কেউ কেউ দেখে ফেলি শাহ্ মখদুম মাজার আন্তরিক হয়ে উঠছে, তখনো লাল গিলাফ রং ছড়ায়নি। ফোর্থ অব সেপ্টেম্বর ‘তিমির ভরি ভরি ঘোর যামিনী থির বিজুরি পাতিয়া’ এক্সাক্ট এমন বৃষ্টির দিনে সন্ধ্যা বরাবর পায়ের পাতায় বাড়ির ঠিকানা উঠে আসবে। নবডাঙ্গা ঘাটের পানিতে সুষুম্না বৃদ্ধি পাবে। তোমার কথা ভাবা হবেনা আর; এমনতর উপসনায় আগেও ছিলে না এখানে তবু এক অজুদে আঠারো মোকাম, যেন— সজল ছায়াঘন শারীরিক তুমি!


জলবিষুব

বৃষ্টি এলে এক সনাতন পথ খুলে যায়, মনে হয়— বাওছিটা পানিতে রঞ্জাবতীর এইমাত্র ধ্যান ভাঙলো। কেউ একজন ভেজা নদীতে পাথর ছুড়ে দিলো। সাত লাফ দিলেই পাথরটি ওপাড়ে গিয়েই ব্যাঙ হবে। এমন আধিভৌতিক কথা আমাদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলো না আর... এর ডালপালা বেড়ে গিয়ে আউলিয়া কেরামের থলে থেকে বেরিয়ে ব্যাঙটি একদিন মানুষ হবে, সাংসারিক হবে। ঠিক ঠিক সন্ধ্যায় ঘাঘট পাড় থেকে তুমি উঠে আসো, কপাট খুলো । আমি জানতাম, তোমালোক আকৌ আহিবা। তোমার হাতে রেশম গুটির বৈয়াম। আমি শান্ত শুয়ে থাকি। আমার জ্বরের ঘোর, ঘোরতর স্টেশনে অপেক্ষা যেনবা। মাথার ভিতর বর্ষা পাড়ার কাতারিনা মারান্ডি আনসান বকছে। তখনো বৃষ্টি থামেনি আলোকময় কেডিসি রোড পেরুলেই— হলুদ রঙের লোনলি সেডে আটকে থাকবে আউসি রাত। তুমি চলে যাওয়ার আগে পোশাক পাল্টাও, ভাবি—জলবিষুবের দিন ফিরে এলে খুব দ্রুতই মানুষটি ব্যাঙ হবে।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
ক‌বি শামীম রেজা‌র ক‌বিতা নি‌য়ে পিএইচ‌ডি করলেন ভারতীয় গবেষক
এই বেঁচে থাকা কিংবা মরে যাওয়া
চেনা দুই পুরুষ
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম