X
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪
৩০ আষাঢ় ১৪৩১
ঈদসংখ্যা

ডুবহীন, এ ভরা বাদর ।। মারুফা মিতা

মারুফা মিতা
১২ জুন ২০২৪, ১৭:০৫আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ১৭:০৫

ডুবহীন, এ ভরা বাদর

এমনতর বরষায় মেঘ জমছে না।
শুধু জুবুথুবু।
কোথাও ডুব নেই।

দিনের মাঝামাঝি সময়ে ঘুম ভেঙে গেলে—
কোনো কোনো দিন দোয়ারি যেতে চাই, যেদিকে
ফিউনারেলের পোশাক পরে বাকি দুজন চলে গেছে।

মটরশুঁটির দিন ফুরোলে দিনের ভেতর আরো হলুদরঙ বেড়ে যায়। যে কথা আমি তোমাকে বলতে চাই, সেই কথাটি বলতেও চাইনা। এই বলা এবং না বলার ভেতর আমি বুঝি ফুসফুসে কিছু ফুঁ থিতিয়ে ওঠে, কিছু হাওয়া ফুঁপিয়ে উঠে।

তুমি ঘুমোলে যেমন করে দুপুরমণি ফুল ফোটে৷ অথচ তুমি না জাগলে মনে হয়— সাঁতরালো না কিছু, বইয়ের পাতা থেকে প্লাটিপাস বের হল না আর। কেউ ডুব দিল না।

যে কথা আমি তোমাকে বলতে চাই, সেই কথাটি বলতেও চাইনা, বরং—
মেঘ জমলে, ভেজো।
বৃষ্টি এলে, ভেজো।
বর্ষাতি বের করোনা এবার।


বসন্ত বহিলো

পৃথিবীর সমস্ত নদীর পাড় মফস্বলি আচরণ নিয়ে দুপুরে গড়াচ্ছে
শরীরে ইচ্ছে ইচ্ছে রোদ ও ছায়ার সুষম বণ্টন,
ঝিমাচ্ছে কেউ অতিদূর গৌড়ভূমে।
দুপুরের আরেক নাম বিরান, এমন ধারণা
আলগা হলে পেসিমেস্টিক হাওয়া জন্ম নেয়
(যা একটা ঘরকে এলোপাতাড়ি করে দেয়),
অপর পৃষ্ঠায় যেখানে দুধ-চায়ে আদা, তল্লাটে হরিলুট
আর কিছু উসকানি বাতাস বয় জলাঙ্গী হয়ে ঈশ্বরদী।

খুব কাছাকাছি কেউ হেঁটে যায়
পিছনে ঘনিষ্ট আকাশ।
তোমার সাইকেলে ডানা, কেউ বলেনি।
তুমি উড়ুক্কু, কেউ বলেনি।

কোকিল ডাকিলো না, তবু
বসন্ত বহিলো।

হরতকী গুল্ম ভেবে আমাকে ভাসালে,
তখনো ছোঁয়াচে কিছু ডালিমফুল কমলা রঙে খানখান৷
হোমিওপ্যাথির শিশি থেকে সাবুদানা গড়াচ্ছে, ধীরে।
দুপুরে পুড়ছি, ধীরে।
দূর থেকে কলকাটি নাড়ছো, ধীরে।


অধঃ

দরগাপাড়া মোড় পেরিয়ে যাওয়ার আগে র‍্যান্ডম বৃষ্টি নামে আমরা টের পাই অনেক পাতা ভিজে যাচ্ছে। আর একটু দমকা বাতাসের আগেই আর একটু ভিজে যাওয়ার আগেই আমাদের কেউ কেউ দেখে ফেলি শাহ্ মখদুম মাজার আন্তরিক হয়ে উঠছে, তখনো লাল গিলাফ রং ছড়ায়নি। ফোর্থ অব সেপ্টেম্বর ‘তিমির ভরি ভরি ঘোর যামিনী থির বিজুরি পাতিয়া’ এক্সাক্ট এমন বৃষ্টির দিনে সন্ধ্যা বরাবর পায়ের পাতায় বাড়ির ঠিকানা উঠে আসবে। নবডাঙ্গা ঘাটের পানিতে সুষুম্না বৃদ্ধি পাবে। তোমার কথা ভাবা হবেনা আর; এমনতর উপসনায় আগেও ছিলে না এখানে তবু এক অজুদে আঠারো মোকাম, যেন— সজল ছায়াঘন শারীরিক তুমি!


জলবিষুব

বৃষ্টি এলে এক সনাতন পথ খুলে যায়, মনে হয়— বাওছিটা পানিতে রঞ্জাবতীর এইমাত্র ধ্যান ভাঙলো। কেউ একজন ভেজা নদীতে পাথর ছুড়ে দিলো। সাত লাফ দিলেই পাথরটি ওপাড়ে গিয়েই ব্যাঙ হবে। এমন আধিভৌতিক কথা আমাদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলো না আর... এর ডালপালা বেড়ে গিয়ে আউলিয়া কেরামের থলে থেকে বেরিয়ে ব্যাঙটি একদিন মানুষ হবে, সাংসারিক হবে। ঠিক ঠিক সন্ধ্যায় ঘাঘট পাড় থেকে তুমি উঠে আসো, কপাট খুলো । আমি জানতাম, তোমালোক আকৌ আহিবা। তোমার হাতে রেশম গুটির বৈয়াম। আমি শান্ত শুয়ে থাকি। আমার জ্বরের ঘোর, ঘোরতর স্টেশনে অপেক্ষা যেনবা। মাথার ভিতর বর্ষা পাড়ার কাতারিনা মারান্ডি আনসান বকছে। তখনো বৃষ্টি থামেনি আলোকময় কেডিসি রোড পেরুলেই— হলুদ রঙের লোনলি সেডে আটকে থাকবে আউসি রাত। তুমি চলে যাওয়ার আগে পোশাক পাল্টাও, ভাবি—জলবিষুবের দিন ফিরে এলে খুব দ্রুতই মানুষটি ব্যাঙ হবে।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
প্রিয় দশ
ইসমাইল কাদারে ও তার কবিতা
প্রিয় দশ
সর্বশেষ খবর
কে এই ৪০০ কোটি টাকার পিয়ন?
কে এই ৪০০ কোটি টাকার পিয়ন?
ট্রাম্পের ওপর হামলা: এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে
ট্রাম্পের ওপর হামলা: এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে স্প্রিং-২০২৪ শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে স্প্রিং-২০২৪ শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করা ঠিক নয়: জিএম কাদের
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করা ঠিক নয়: জিএম কাদের
সর্বাধিক পঠিত
‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?’
কোটা আন্দোলনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?’
আমার বাসায় কাজ করেছে, এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক: প্রধানমন্ত্রী
আমার বাসায় কাজ করেছে, এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম কোটা আন্দোলনকারীদের
বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম কোটা আন্দোলনকারীদের
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ফল প্রকাশ
‘অন্যের সন্তানকে নিজের দেখিয়ে’ কোটায় চাকরি, মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা
‘অন্যের সন্তানকে নিজের দেখিয়ে’ কোটায় চাকরি, মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা