চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন তারা। তার নাম মাহবুবুর রহমান। তিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।
একই ঘটনায় মারধরের শিকার হয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’–এর চবির সহ-সমন্বয়ক তালাত মাহমুদ রাফি। তাকে প্রক্টরের অফিসে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে শিক্ষার্থীরা শহরে যেতে গেলে শাটল ট্রেন বন্ধ করে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা কোটা আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক তালাত মাহমুদ রাফিকে আটকে রেখে জেরা করেন। একপর্যায়ে চড়-থাপ্পড় দিয়ে মিছিল সহকারে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। রাফিকে প্রক্টর অফিসে ছাত্রলীগ নিয়ে গেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসের দিকে গেলে শহীদ মিনারের সামনে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাফিকে ছেড়ে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে শিক্ষার্থীরা যে যার হলে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আহত মাহবুবুর রহমানকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
বিকালে প্রক্টর অফিসে রাফির বিরুদ্ধে কোটা আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আনেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা রাফির মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি বাতিলের দাবি জানান। রাফিকে ‘শিবির’ বলে অবহিত করে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর, তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি, রাজাকার, রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
প্রক্টর অফিসে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘কোটা আন্দোলন আমরাও সমর্থন করেছিলাম। আমরা যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা কালকে নিজেদের রাজাকার দাবি করে স্লোগান দিয়েছে। আমরা এই ক্যাম্পাসে কোনও রাজাকারকে বরদাশত করবো না।’
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ প্রতিম বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা হামলা সমর্থন করি না। কেউ যদি অতি উৎসাহী হয়ে হামলা করে এবং প্রমাণ পাই তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাফিকে উদ্ধার করতে আসা এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক আন্দোলন করতে এসেছি। কিন্তু আমাদের ভাইকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। আমাদের কয়েকজনকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রক্টর-উপাচার্য আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
মারধরের শিকর তালাত মাহমুদ রাফি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশের একজন নাগরিককে কেউ জোর করে তুলে আনতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে প্রক্টর অধ্যাপক ড. অহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের ইউজিসি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীরা আদালতের রায় মেনে যেন ক্লাসে ফিরে যায়। তোমরা যৌক্তিক দাবিতে আদালতে আইনি লড়াই করবে। কিন্তু ভোগান্তি সৃষ্টি করে কোনও আন্দোলন করলে হবে না। যদি তোমরা আদালতের রায় মেনে নাও তাহলে আমরা তোমাদের পাশে আছি। অন্যথায় আমরা তোমাদের পাশে নেই।’









