৮৪ দিন বন্ধের পর সশরীরে ক্লাসে ফিরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পরে ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তারা। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু হয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ও ঈদুল আজহার ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি শেষে দুদিন ক্লাস চলার পর ‘প্রত্যয়’ স্কিম বাতিলের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়। তারা সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। এরই মাঝে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পৃথক আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও বন্ধ হয়ে যায় সব একাডেমিক কার্যক্রম। ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীরা হলে ফিরলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের পদত্যাগের ফলে সশরীরে ক্লাস চালু করা সম্ভব হয়নি। সবশেষে ৮৪ দিন পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ ও আন্দোলন সংগ্রামের কারণে তাদের পড়াশোনায় ঘাটতি হয়েছে। তারা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে গেছেন। তবু অনেকদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে আনন্দিত তারা। এ ছাড়া অনেকদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা ও আড্ডায় অংশগ্রহণ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
অর্পিতা গোস্বামী প্রমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাড়িতে থেকে থেকে একঘেয়েমি ভাব চলে আসছিল। কতদিন বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারিনি। বহু প্রতিপক্ষার পর ক্লাসে এসে অন্যরকম আনন্দ লাগছে। সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় ভালো লাগছে। আমি আর যেন কোনও সমস্যা তৈরি না হয়।’
আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনেকদিন পর ক্যাম্পাস খোলায় নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি বলে মনে হচ্ছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। পুরোনো সবকিছু নতুন মনে হচ্ছে। সবার পদচারণায় মুখরিত হওয়ায় ক্যাম্পাস আবারও চিরচেনা রূপে ফিরেছে।’









